E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রাজপথে নামতে না পেরে ধিক্কার রিজভীর

২০১৮ আগস্ট ১২ ১৭:৫৮:৪৬
রাজপথে নামতে না পেরে ধিক্কার রিজভীর

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নামতে না পারায় নিজেকেই ধিক্কার দিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে রিজভী অনেকটাই আক্ষেপের সুরে একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা দল এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই নিষ্ঠুরতার মধ্যে আমরা এখনও বাস করছি। আমরা এখনও কেন ঘর থেকে বের হতে পারি না? কেন আমরা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের ইট,কাঠ ও কংক্রিটের ধুলা উড়িয়ে দাঁড়াতে পারি না? সেটা ভাবলে নিজের কাছে নিজেকেই ধিক্কার লাগে।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে জাতি অবরুদ্ধ। কোমলমতি বাচ্চাদের যেভাবে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাদের রক্তমাখা জুতা ও শার্ট দেখলে কার না হৃদয় ভেঙে যায়। অথচ এই ঘটনাও ঘটিয়েছে এই সরকার।’

শিক্ষার্থীদের ওপরে যারা আক্রমণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখতে যান কিন্তু যারা আক্রান্ত হয়েছে সেই স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের দেখতে যান না বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

‘হাসিনার রক্তচক্ষুর কাছে মাথানত করেননি খালেদা’

ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের কথা স্মরণ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘তখন খালেদা জিয়া গুলশানের অফিসে অবরুদ্ধ। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু সংবাদ শুনতে হয়েছে তাকে। তখন তিনি শেখ হাসিনার রক্তচক্ষুর কাছে মাথানত করেননি। ভয়কে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া তখন নির্ভীক ছিলেন। এটাই হল খালেদা জিয়ার বৈশিষ্ট্য।’

‘এভাবেই তিনি (খালেদা) দশকের পর দশক জাতীয়তাবাদের পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা উড়িয়েছেন। আজ খালেদা জিয়া কারাগারে, তাকে মুক্ত করতেই হবে। কারণ তার মুক্তির মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তির মুক্তি হবে না, বরং মুক্তি হবে দেশ ও জনগণের।’

রিজভী বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো নিরবে নিভৃতে চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। কোনও কথা বললে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলতেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অত্যন্ত মিতভাষী ও ক্রিড়ামোদী ছিলেন। এই ছেলেটিকে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা নয়। তার মায়ের ওপর জুলুম দেখে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেছেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভানেত্রী পিয়ারা মোস্তফা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভানেত্রী রাজিয়া আলিম, সাবেক এমপি রওশনারা ফরিদ প্রমুখ।

পরে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

(ওএস/এসপি/আগস্ট ১২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৯ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test