E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

গ্রেনেড হামলার রায়ের তারিখ পরিকল্পিত নীলনকশা : রিজভী

২০১৮ সেপ্টেম্বর ২০ ১৪:৪১:৩৩
গ্রেনেড হামলার রায়ের তারিখ পরিকল্পিত নীলনকশা : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : এক যুগেরও বেশি সময় আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে পরিকল্পিত নীলনকশার অংশ বলছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর দেয়া হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশারই অংশ।’

বহুল আলোচিত এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন রিজভী।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় এই হামলার পর বিএনপি অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ আছে। হামলাকারীদের বাঁচাতে জজ মিয়া নামে নিরীহ একজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

আবার হামলার পর আলামত নষ্ট করা, বিচারিক তদন্তের নামে আজগুবি তথ্য প্রচার হয়েছিল সে সময়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধিকতর তদন্তে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনের বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আবার তদন্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয় যাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ১০ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

আওয়ামী লীগ বরাবর এই হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে থাকে।

রায় ঘোষণার তারিখ দেয়ার পর থেকেই বিএনপি দাবি করছে, তাদের দমন করতে ক্ষমতাসীনরা এই মামলাকে ব্যবহার করছে। মামলাটিতে তারেক রহমান আসামি হওয়ায় তার সাজা হয় কি না, এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা শঙ্কায় রয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘আক্রোশবশত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যায়ভাবে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। আওয়ামী সরকারের কোনো কীর্তি নেই, যা আছে সবই অপকীর্তি। এইসব অপকীর্তি ঢাকতেই আওয়ামী সরকার জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নানাভাবে চক্রান্তের প্রকাশ ঘটাচ্ছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘রায় প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা নানা ধরণের বক্তব্য দিচ্ছেন। বলছেন-এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি বিপাকে পড়বে। তার মানে সরকার জানে কি রায় হতে যাচ্ছে অথবা সরকারই ২১ আগস্ট মামলার রায় লিখে দিচ্ছে। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় রায় দিয়ে কারাবন্দি করে এক নম্বর মিশন কার্যকর করেছে। এখন দুই নম্বর মিশন কার্যকর করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১০ অক্টোবর তারিখ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশারই অংশ।’

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের রিমান্ড বাতিল করে তার মুক্তি দাবি করেন রিজভী।

(ওএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test