Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী

২০১৯ জুলাই ০৮ ১৭:৫৩:১২
ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার : গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে’ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে’ গঠন করেন প্রবীন আইনজীবী ড. কামাল। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতকে নিয়ে গঠিত ২০ দলীয় জোটের সমর্থন থাকা গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বাধীন এ জোটে কাদের সিদ্দিকীর যোগদান নিয়ে নির্বাচনের আগে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে কাদের সিদ্দিকী নিজে নির্বাচন না করলেও তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করেন। তবে নৌকার প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হন।

নির্বাচনের পর কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে পারেন -এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও ভোটের পর কেটে যাওয়া ছয়মাস নীরব ছিলেন। তবে সব নীরবতা ভেঙে সোমবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিলেন এ রাজনীতিবিদ।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের সব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থেকে সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করব। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষায় প্রয়োজনে সব দলের সঙ্গে কাজ করব।

তিনি বলেন, ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা, সম্প্রতি রিফাত হত্যাসহ কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি কোনো কথা বলেনি। আমরা ছোট দল হলেও এসব জাতীয় ইস্যু নিয়ে বসে থাকতে পারি না। তাই জনগণের দাবি, সমস্যা সমাধানে ও ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব এবং ঠিকানা খোঁজার কথা মাথায় থেকে ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে আমরা কাজ করতে চাই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন পৃথিবীকে অবাক করা এক প্রহসন! এর আগে বিশ্বের কেউ এমন প্রহসনের নির্বাচন দেখেনি। নির্বাচন পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ছিল দেশবাসীর ইচ্ছার প্রতিফলন।

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের সংসদের যোগ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জাতির পিঠে ছুরি মারেন। এরপর মোকাব্বির খানকে ড. কামালের রুম থেকে বের করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আবার তাকে পদ দেওয়া আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এদিকে আবার বিএনপিতে একই অবস্থা। তাদের কেউ শপথ নিল, বহিষ্কার হলো, আবার সংসদে গেল।

তিনি আরও বলেন, সংসদে যদি যেতেই হয় তবে কেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গেলেন না? আমার কাছে এসব স্পষ্ট না, আবার জাতির কাছেও এটা অস্পষ্ট। তাই অতীতে যেমন সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম, এবার সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এসপি/জুলাই ০৮, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

১৯ অক্টোবর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test