E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বিএনপি ইতিহাসের খল নায়ককে নায়ক বানিয়েছিলেন : তথ্যমন্ত্রী

২০২০ নভেম্বর ২৬ ১১:৪৫:৪০
বিএনপি ইতিহাসের খল নায়ককে নায়ক বানিয়েছিলেন : তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন এই সরকারকে টেনে নামিয়ে ফেলতে হবে। তবে, উনাদের টেনে নামানোর হুমকির মধ্যে প্রায় একযুগ ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার মাসখানেক পর থেকেই তারা আমাদের টেনে নামানোর চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। সরকারকে টেনে নামাতে গিয়েই রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেছেন বিএনপি।

তিনি বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন নানামূখি ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যখন বলেন স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির কথা, তখন হাসি পায়। যারা ইতিহাসকে বছরের পর বছর, দশকের পর দশক ধরে বিকৃতি করেছেন তাদের মুখে এসব শোভা পায়না।

আজকে যখন দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। তারা ইতিহাসের খল নায়ককে নায়ক বানিয়েছিলেন, স্কুলের দপ্তরিকে তারা হেড মাষ্টার বানানোর চেষ্ঠা করেছিলেন। এধরণের হাস্যকর বক্তব্য ক্রমাগতভাবে না দিয়ে বরং নিজেদের দলকে গুছিয়ে, নিজেদের ঘরটাকে সংগঠিত করার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি সমন্বয়ন পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি সমন্বয়ন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রিয় সদস্য সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, কেন্দ্রিয় যুগ্ন আহবায়ক এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ন আহবায়ক এডভোকেট বাসেত মজুমদার, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, এডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, রতন কুমার রায়, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, আবু মো. হাশেম প্রমূখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই সরকার কখনো পদ্মা সেতু করতে পারবেনা, তাদের বলবো, পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে আসুন। ঢাকা শহরে মেট্টোরেল ও চট্টগ্রামে কর্ণফুলি বঙ্গবন্ধু টানেল আগামী বছর চালু হবে, ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রামেও মেট্টোরেল প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সাল নয়, তার অনেক আগেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হবে। সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার মতো বদলে যাওয়ার অগ্রগতির গল্প যদি বিশ্ববাসীকে জানান দিতে হয়, শেখ হাসিনাকে একটু সময় দিতে হবে। তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বঙ্গবন্ধুর সফলতা সেখানেই যেই পাকিস্তান সংশয় প্রকাশ করতো বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ঠিকবে কিনা। সেই পাকিস্তানের মানুষ শুধু নয় তাদের প্রধানমন্ত্রীও আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে আক্ষেপ করেন। আমরা সামাজিক অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নের সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি কয়েকবছর আগে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর পাকিস্তানের ৭০ বছর, বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের আমাদের তিনভাগের এক ভাগ।

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার, পাকিস্তানের ১৮’শ ডলারের নিচে। শুধু পাকিস্তানকে নয়, সামাজিক ও মানব উন্নয়ন সুচকে আমরা ভারতে অতিক্রম করেছি অনেক আগে। এই করোনাকালে যেখানে পৃথিবীর মাত্র ২২টি দেশ পজিটিভ ইকোনোমিক জিডিপি গ্রোথ রাখতে সক্ষম হয়েছে তৎমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভারত পাকিস্তানের গণমাধ্যমে ঝড় উঠছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে। কিন্তু একটি পক্ষ প্রশংসা করতে পারেননা। বিএনপি আর তার দোসরেরা দেখেও দেখেনা, শোনেও শোনেনা, চোখ থাকিতে অন্ধ, কান থাকিতে বধির।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যখন আমরা অর্জন করি, তখন সমগ্র দেশ পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। সমস্ত ব্রীজ কালভার্ট বিধ্বস্ত করেছিল। সেই দেশকে বঙ্গবন্ধু মুজিব পূনঃগঠিত করেছিলেন। ৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
অনেকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অনেক কারণ উপস্থাপন করেন

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, পুরো ক্যানভাসটা আমাদের বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বাসন্তিকে জাল পড়িয়ে কাগজের পাতায় ছবি ছাপিয়ে নানা ধরণের অপবাদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বাসন্তিকে যারা ছবি তুলে কাগজের পাতায় ছাপিয়েছিল তারা বাসন্তিকে কাপড় কিনে দেননি। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর সেই বাসন্তিকে দেখতে গিয়ে কাপড় কিনে দিয়েছেন এবং ঘর বানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে রেকর্ড ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, তাকে হত্যা করার ৪০ বছর পর পর্যন্ত কেউ সে রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা সেই রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বহু আগেই বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গল্প শুনতো পৃথিবীর মানুষ। বঙ্গবন্ধুকে তারাই হত্যা করেছিল যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি।

(জেজে/এসপি/নভেম্বর ২৬, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

১৭ জানুয়ারি ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test