E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব

২০২১ নভেম্বর ২৯ ২২:৪৭:৫২
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব

স্টাফ রিপোর্টার : লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তার এ দাবি করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনার সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এসময়ে দেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীই দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেগম জিয়া বর্তমানে যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে তিনি বা তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে বিদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে পরামর্শ নিতে পারেন। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অন্যত্র স্থানান্তর করা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির আশংকাই বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, যা ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিদানকারী চিকিৎসকরা হলেন- বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএর সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. শফিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. কাজী শহিদুল আলম, বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএমএর ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং বিএসএমএমইউ উপাচার্য ও বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২৫ অক্টোবর তার ছোট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর হয় বায়োপসি পরীক্ষা। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে তা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়।

প্রায় এক মাসের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টায় ছাড়পত্র নিয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ ফিরেন বেগম জিয়া। এর ৬ দিনের মাথায় গত ১৩ নভেম্বর রাতে তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।

গতকাল রবিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ব্রিফ করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস হয়েছে জানান তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। লিভার সিরোসিসের কারণে তার ব্লিডিং হচ্ছে উল্লেখ করে তারা দ্রুত খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেন।

তরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিশেষ প্রয়োজনে বেগম জিয়া বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে তার করোনামুক্তির খবর দেওয়া হয় ৯ মে। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর, সব মিলিয়ে তখন প্রায় পৌনে দুই মাস হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন তিনি। এর মধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকাও নেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যান। করোনা মহামারি, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় গত বছরের মার্চে তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি দেয় সরকার। এরপর কয়েক দফা এ মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ২৯, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৯ জানুয়ারি ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test