E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

রিজভী দেশকে ভিক্ষুকের দেশ প্রমান করতে চায় কেন?

২০২৪ এপ্রিল ০৩ ১৬:৩৭:৩৭
রিজভী দেশকে ভিক্ষুকের দেশ প্রমান করতে চায় কেন?

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাস্তায় এতো ভিক্ষুক আমরা কখনো দেখিনি। দেশে দুর্ভিক্ষের শুধু পদধ্বনি নয়, দুর্ভিক্ষ বিরাজমান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘চারদিকে ভিক্ষার আওয়াজ, ভাত চাওয়ার আওয়াজ, চাল চাওয়ার আওয়াজ শোনা যায়।  

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবার নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী সরকারগুলো স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে নানান ধরনের রিলিফ, খয়রাতি সাহায্য, বৈদেশিক অনুদান এবং স্বল্প সুদের ঋণ (তথাকথিত সফট লোন) পাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের এই অবমাননাকর পরিচয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেনি। একই কারণে ১৯৯১ সালের পরও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু সরকারের কাছে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণকে হয়তো আর তেমন আকর্ষণীয় বিষয় মনে হয়নি!

সত্তর ও আশির দশকের ওই দুর্দশা ও বিশ্বভিক্ষুকের দীনহীন অবস্থা থেকে গত সাড়ে তিন দশকে বাংলাদেশের যে চমকপ্রদ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, তাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে কৃষি খাত, রপ্তানি খাত, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, ক্ষুদ্রঋণ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত। সেটা বিরোধীদলের চোখে না পড়ার সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

রমজান মাসে রাজধানীতে ভিক্ষুক বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এদেরকে বলা হয় মৌসুমি ভিক্ষুক। শুধু এক মাসের জন্যই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা ঢাকায় আসেন কিছুটা অতিরিক্ত আয়ের জন্য। বিএনপি নেতা তা দেখে মন্তব্য করেছেন, তাই ধারনা করা হচ্ছে -রমজান মাসে তিনি প্রথম বেরিয়েছেন রাজধানীতে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়ে যায় মৌসুমি ভিক্ষুকের সংখ্যা। এবারও ঢাকার বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক ভিক্ষুক রাজধানীতে এসেছে। ঈদকে সামনে রেখে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য নগরীতে আসা ভিক্ষুকের সংখ্যা অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি থাকে।

ঢাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করেন এমন কয়েকজন ভিক্ষুক জানান, রমজান এলেই রাজধানীতে থাকা বিভিন্ন স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের আত্মীয়দের নিয়ে আসেন খণ্ডকালীন ভিক্ষাবৃত্তির জন্য। অনেকে রমজানের একমাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে বা আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে এসে রাজধানীতে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে দেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ ভিক্ষুকের লক্ষ্য থাকে অভিজাত এলাকা এবং এর আশপাশের ট্রাফিক সিগন্যালে ভিক্ষা করা। এছাড়া স্থানীয় ছোট বড় মার্কেট ও মসজিদের সামনেও তারা নিয়মিত ভিড় করেন।

নিয়মিত ভিক্ষা করা রেহানা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিক্ষা করতে বহু লোক ঢাকা আসে ঈদের আগে। বরিশাল, ভোলা, ময়মনসিংহ এসব এলাকা থেকে বেশি আসে। হয়তো কারো স্বামী ঢাকায় রিকশা চালায় , গ্রাম থেকে রমজানের সময় স্ত্রীকে নিয়ে আসে ভিক্ষা করাতে। এদের ব্যবসাই এটা। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বাসায় থাকে তারা। আবার ভিক্ষা করতে একসাথে আসা কয়েকজন মিলেও ঘর ভাড়া নেয় এক মাসের জন্য।

ভিক্ষুকদের মতে, রমজান মাসে তাদের ভিক্ষা করে আয় দৈনিক অন্তত ২ হাজার টাকা, অর্থাৎ এই এক মাসে ৬০ হাজার টাকার মতো আয় করে নিয়ে যান তারা। কাওরানবাজার এলাকার ভিক্ষুক হাসেমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার মতো অনেকেই আসেন সিজন বুঝে। হাসেম ঢাকায় এসেছেন শবে বরাতের রাতে এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহ ফিরে যাবেন ঈদের পরদিন। শবে বরাতের রাতে হাসেম বসেছিলেন আজিমপুর কবরস্থানের সামনে। সেখানে একইদিনে কয়েকশ’ ভিক্ষুক সেখানে বসেছিলেন বলে জানান তিনি। এদের শতকরা ৯০ ভাগই তার মতো শবে বরাত ও ঈদ উপলক্ষে এসেছেন বলে জানান হাসেম।

ভিক্ষুক পুনর্বাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ৬ লাখের মতো ভিক্ষুক রয়েছে। ভিক্ষুক যারা আছে তাদের বেশিরভাগই পেশাদার এবং এদের ব্যাপারে কিছু করা যায় না। তাদেরকে কোনোমতেই এই পেশার বাইরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা তাদের জন্য যতই করি তারা আবারও ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যায়।

সমাজসেবা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে যারা প্রফেশনাল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা কোনও বৈধ পন্থা নয়। আমরা আপাতত সংখ্যাটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আর মৌসুমী ভিক্ষুক যারা তাদেরকে আটকানোর জন্য জেলা পর্যায়ে ডিসিদেরকে দায়িত্ব দেওয়া আছে।

দুর্ভিক্ষ নিয়ে রিজভীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খোঁজ নেওয়া হয় , আসলেই কি দেশে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে? দুর্ভিক্ষের সংজ্ঞা থেকে জানা যায়, যখন খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় তখন সেই পরিস্থিতিকে দুর্ভিক্ষ বলে। দেশে বর্তমানে কোন প্রকার খাদ্য ঘাটতি নেই। বরং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর তাতে জনমনে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে বিএনপি 'দুর্ভিক্ষ' বলে প্রচার করছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেন, 'তারা (বিএনপি) দুর্ভিক্ষ বলে প্রচার করছে। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই, বিএনপি যতই অপপ্রচার করুক, শেখ হাসিনা বলেছেন যে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে মঙ্গা-খরা ও দুর্যোগে না খেতে পেয়ে মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হতো, অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করতে হতো। আর সেখানে বাংলাদেশ আজ সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধিতে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ০৩, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১২ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test