E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মুশফিকের দেড়শ’তে লিড ২০০ পার

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৬:৪৬:৪১
মুশফিকের দেড়শ’তে লিড ২০০ পার

স্পোর্টস ডেস্ক : অবিচল মুশফিকুর রহীমকে কিছুতেই নড়াতে পারছেন না জিম্বাবুয়ের বোলাররা। উইকেটে খুঁটি গেড়ে বসেছেন বাংলাদেশি মিডল অর্ডারের এই আস্থা। সেঞ্চুরির পর পার করে ফেলেছেন দেড়শ রানের ঘরও। আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে।

২২২ রানের ম্যারাথন জুটির পর সেঞ্চুরিয়ান সঙ্গী মুমিনুল হককে হারিয়েছেন মুশফিক। তবে মনোসংযোগ তাতে সরে যায়নি। নিজের মতোই খেলে যাচ্ছেন মাথা ঠান্ডা রেখে। তার চোখ ধাঁধানো ইনিংসটাতে ভর করে বাংলাদেশের লিডও ২০০ পার হয়ে গেছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫ উইকেটে ৪৭১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দলের লিড এখন ২০৬ রানের। লিটন দাসের সঙ্গে মুশফিকের জুটিটিও পঞ্চাশ পেরিয়েছে। লিটন ২৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে আছেন, মুশফিক অপরাজিত ১৫৭ রানে।

আগের দিন জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুই ওপেনার সাইফ ও তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া বাউন্ডারি হাঁকান ডানহাতি সাইফ। পরের ওভারে তামিমের ব্যাট থেকেও আসে দুই চার। মাত্র ৩ ওভারেই ১৮ রান করে ফেলে বাংলাদেশ।

কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে হালকা বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট এগিয়ে দেয়ার ভুল করে বসেন সাইফ। ফলে তার ব্যাটের বাইরের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাভার হাতে। সমাপ্তি ঘটে সাইফের ১২ বলে ৮ রানের ইনিংসের।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে আর বিপদ ঘটতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তামিম ইকবাল। দুজন মিলে ৪ ওভার খেলে যোগ করেন ৭ রান। পরে দ্বিতীয় সেশনেও দারুণ ব্যাট করেন এ দুজন। পাল্লা দিয়েই নিজেদের রান বাড়াচ্ছিলেন শান্ত ও তামিম। মনে হচ্ছিল, দুজনই তুলে নেবেন ফিফটি।

কিন্তু দলীয় ৯৬ রানের মাথায় অফস্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম। সমাপ্তি ঘটে তার ৮৯ বলে ৪১ রানের ইনিংসের, একইসঙ্গে ভাঙে শান্তর সঙ্গে ১৫৯ বলে ৭৮ রানের জুটি।

তামিম না পারলেও বিরতির এক ওভার আগে ফিফটি তুলে নেন শান্ত। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করতে খেলেন ১০৮টি বল, হাঁকান ৬টি বাউন্ডারি। পরে বিরতির ঠিক আগের ওভারে মারেন আরও একটি বাউন্ডারি।

তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে শান্ত গড়েন ৭৬ রানের জুটি। কিন্তু ৫০তম ওভারে এসে বোকার মতো আউট হয়ে বসেন শান্ত। অভিষিক্ত তিশুমার বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৩৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে গড়া শান্তর ৭১ রানের ইনিংসটি থামে তাতেই।

তবে এরপর মুমিনুল আর মুশফিকুর রহীম দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ২১.২ ওভারের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থাকেন তারা। তৃতীয় দিনেও ব্যাট করেন প্রায় দেড় সেশন।

জিম্বাবুয়ের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল এই জুটি। মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহীমের ধৈর্যে কিছুতেই বাঁধ দিতে পারছিলেন না সফরকারি বোলাররা। ৬০.৪ ওভারে ২২২ রানের এই ম্যারাথন জুটিটি শেষতক ভাঙে মুমিনুলের আউটে।

এনলুভোকে তুলে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ হয়ে ফিরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৩৪ বল মোকাবেলায় তার ১৩২ রানের ঝকঝকে ইনিংসটি ছিল ১৪ বাউন্ডারিতে সাজানো।

বেশিদূর যেতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। ১৭ রান করে এনলুভোর দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। তবে মুশফিকের ধৈর্যে এখন পর্যন্ত চিড় ধরাতে পারেননি জিম্বাবুয়ের বোলাররা। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে লিডটা বড় করে চলেছেন।

(ওএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test