E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

অর্থ বিভাগের পরামর্শ ছাড়া নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ নয়

২০২০ জুলাই ২৮ ১৬:০৬:৪১
অর্থ বিভাগের পরামর্শ ছাড়া নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ নয়

স্টাফ রিপোর্টার : বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে থমকে গেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। এর থাবায় রাজস্ব আহরণেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে সরকারের। ফলে সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে নতুন কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থায়ন বা জিওবি বাবদ সংরক্ষিত ৫০০ কোটি টাকা থেকে বরাদ্দ না দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুকূলে ‘অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের জন্য থোক’ হিসেবে চলতি বাজেটে রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। দুই খাতে মোট সংরক্ষিত রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতীত চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থায়ন বা জিওবি বাবদ সংরক্ষিত ৫০০ কোটি টাকা থেকে বরাদ্দ দেয়া যাবে না। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুকূলে ‘অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের জন্য থোক’ হিসেবে সংরক্ষিত জিওবির সম্পূর্ণ অংশ হতে বরাদ্দ না দেয়ার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে জিওবি বাবদ ৫০০ কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুকূলে ‘অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের জন্য থোক’ হিসেবে জিওবির অংশে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংরক্ষিত এ টাকা বরাদ্দে নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিত করিনি। তবে এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেয়ার সময় অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেছি।’

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে থমকে গেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। এর থাবায় দেশের রাজস্ব আহরণেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিপরীতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয় বেড়েছে সরকারের। ফলে সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের রুটিন ভ্রমণ পরিহারের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অপরিহার্য ক্ষেত্রেও সব ধরনের (দেশ-বিদেশ) ভ্রমণ ব্যয় অর্ধেক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৯ জুলাই অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত পরিপত্রে বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতসমূহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শুধু জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় ভ্রমণখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে, তবে সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ অর্ধেক ব্যয় দেয়া হবে। পাশাপাশি সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।’

এছাড়া আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নতুন গাড়ি কেনায় সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নিম্ন অগ্রাধিকার বা কম গুরুত্বপূর্ণ এবং মধ্যম অগ্রাধিকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ খরচ বন্ধেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে (সংশোধিত) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল, তার চেয়ে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম আহরিত হবে বলে জানা গেছে। তাই বাধ্য হয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে সরকার।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারিতে রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট দুই লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। এ সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার ২৫১ কোটি টাকা কম।

(ওএস/এসপি/জুলাই ২৮, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

১০ আগস্ট ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test