E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

রেমালের প্রভাব

যশোরে থমথমে সবজির বাজার

২০২৪ মে ২৮ ১৯:০৪:৫১
যশোরে থমথমে সবজির বাজার

স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যশোর : যশোরের সবজির বাজারে থমথমে আবস্থা বিরাজ করছে। কাঁচা মালের সরবরাহ কমার সাথে সাথে কমেছে ক্রেতা সমাগম। ঘূণিঝড় রেমালের ফলে টানা বৃষ্টিপাতে এই অঞ্চলের সবজির ক্ষেত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা মনে করছেন দুই এক দিনের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়ে যাবে। কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বৃষ্টির পানি পাওয়ার পর পরিপক্ক সবজি যখন রোদ পাবে তখন সবজির পচন ধরা শুরু করবে। অধিকাংশ ক্ষেতের সবজি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কাঁচা সবজি ক্ষেতে নষ্ট হলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে পারবে না। ফলে স্বাভাবিক ভাবে কাঁচা সবজির দাম বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) শহরের বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সবজি নানান পদের সবজি কম। সাথে সাথে ক্রেতা সমাগমও নেই। বিক্রেতারা বলছেন, গত দিন ঝড়ের পর আজ পুরোদমে বাজার চালু হয়েছে। কিন্তু মোকামে সবজি কম পাওয়াতে তারা বেশি পরিমাণে পাইকারি সবজি ক্রয় করতে পারেনি। আবার ঝড়ের প্রভাব বাড়লে কিনে রাখা কাঁচা সবজি পঁচে নষ্ট হবে। এক্ষেত্রে লাভের অংশের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ার ভয়ে কৌশলে বেশি সবজি কেনা থেকে বিরত থেকেছেন তারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু ৫৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ১শত ৬০ থেকে ২শত টাকা, পেঁয়াজ ৭০ টাকা, রসুন ২শত ৪০ টাকা, শুকনো মরিচ ৫শত টাকা, শসা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা(পিচ), মিষ্টি কুমড়ো ৩০ টাকা, কলা ৫০ টাকা, সজনে ডাঁটা ৮০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, কচুর লতি ২৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, উস্তে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা(পিচ), পেঁপে ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৯০ টাকা, ক্যাপসিকাম ২শত ৫০ থেকে ৭শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাংসের বাজার স্থির রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা, মুরগি জাত ভেদে ২শত ২০ থেকে ৩শত ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজার লাগামহীন। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। মুদি পণ্যের দাম স্থবির আবস্থায় রয়েছে।

বড় বাজারের কাঁচা মাল বিক্রেতা নাছির উদ্দীন বলেন, বৃষ্টির পর কাঁচা মাল পঁচে যাবে। যত রোদ পড়বে তত মাল নষ্ট হবে। বাজারে মাল পাওয়া যাবে কম। এখন দাম কিছুটা বেড়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও বেশি হবে।

মোহন লাল নামে অপর এক ব্যবসায়ি বলেন, বর্ষার পর হাঁটে তরি তরকারি কম উঠেছে। লোকজনও তেমন কিনা কাটা করতে আসতেছে না। দেখতিছেন না টাকার বাস্ক কুড়োয়ে নোট ভজদেছে না।

হাসিব হাসান নামে একজন ক্রেতা বলেন, বাজারে একই ধরণের তরকারি উঠছে। হঠাৎ করে কোনোটার দাম বাড়ছে আবার কোনোটার দাম কমছে। বেগুন, উস্তে, করলা, টমেটো, আলু, ডিমের দাম বেড়েছে। আবার কিছু তরকারির দাম কমেছে। সব মিলিয়ে পণ্যের দাম টানটান অবস্থার মত। প্রায় সব জিনিসের দাম কমলে দাম স্বস্তা বলা যেত। সামনের দিনে কেমন দাম বাড়বে সেটাই চিন্তার বিষয়। কাঁচা বাজার এমন একটা জিনিস এটা দাম কমের সময় তো কিনে রাখা যায় না। দাম বাড়া কমা যায় হোক বাঁচতে গেলে কম বেশি কিনে খেতে হবে।

(এসএ/এসপি/মে ২৮, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১৪ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test