Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

কোনটি বেশি দোষের, ঘুষ নেওয়া নাকি দেওয়া?

২০১৯ মে ০৯ ২৩:৪৫:০৩
কোনটি বেশি দোষের, ঘুষ নেওয়া নাকি দেওয়া?

চৌধুরী আবদুল হান্নান


বর্তমানে ঘুষখোর ব্যক্তিকে নিন্দিত ব্যক্তি মনে করা হয় না বরং অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি যোগ্যতা আছে ভাবা হয়। আইনে আছে ঘুষ খাওয়া আর ঘুষ দেওয়া দুটিই অপরাধ। দেশে ঘুষ খাওয়ার অপরাধে বহু মানুষকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে কিন্তু কোনো ঘুষ দাতাকে আইনে সোপর্দ করা হয়েছে এমন খবর আমি শুনিনি। এক পক্ষের বিচার হতে দেখা যায়, অন্য পক্ষেরও যে অপরাধ আছে তা মনে করা হয় না।

ঘুষ দেওয়ার অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান লি জে ইয়ং কে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল দেশটির আদালত। তিনি বাড়তি সরকারি সুবিধা পাওয়ার লোভে প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন।

দেশে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ঘুষ খাওয়া খুব সহজ কাজ, যাদের মান সম্মানের ভয় নেই, আত্মমর্যাদা নেই, তাদের পক্ষে ঘুষ খাওয়া তো ডালভাত। তাছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন বলেন, ঘুষ অল্প মাত্রায় খাওয়ার কথা বা উপঢোকনকে ঘুষ বলা যায় না, তখন ঘুষ-দুর্নীতি কিছুটা হলেও বৈধতা পেয়ে যায়। ফলে ঘুষ খেতে যাদের একটু লজ্জা ছিল তাও দূর হয়ে গেছে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি একটি রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সততার সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেন, সবাইকে ঘুষ না খেতে শপথ পাঠ করান। এ সবই ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের “জিরো টোলারেন্স” অঙ্গীকার কার্যকর করার অভিপ্রায় মনে করা যায়।

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদেও কোনো সমাবেশে অর্থমন্ত্রী যদি এমন অনুরোধ করেন বা শপথ করান যে তারা আর কোথাও ঘুষ দেবেন না, তা হলে এ বিষয়ে নিশ্চিত অগ্রগতি হবে। প্রয়োজনে কাজ উদ্ধারে ক্ষমতা ব্যবহার করুক, ঘুষ নয়। তবে অনেকেই ঘুষ দিয়ে কাজ আদায় করতে বেশি পছন্দ করেন। অনেকের নৈতিক শিক্ষা বা পারিবারিক শিক্ষা মজবুত নয়, টাকা পয়সা দেখলে লোভ সামলাতে পারে না। এরা মানসিকভাবে দুর্বল, দুর্বল মানুষ দিয়ে আর যাই হোক কোনো মহৎ কাজ হয় না। সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে কিন্তু ঘুষ খাওয়া বন্ধ হয়েছে এমন কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।

ঘুষ খাওয়ার বদভ্যাসে যারা আসক্ত, শপথ করালেও তারা ধর্মের কাহিনী শুনবে না। পেশাজীবীদের বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়, তাদের সহজেই বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া যায়, আর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী সৎ হলে বা তার সদিচ্ছা থাকলে প্রতিষ্ঠানের ঘুষ বন্ধ করা কঠিন নয়। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে “শূন্য সহিষ্ণুতা”র অঙ্গীকার সফল করতে হলে ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই আইনের আওতায় আনতে হবে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার।

পাঠকের মতামত:

২৬ মে ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test