E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

পর্ব-২

বাংলাদেশের বাম আন্দোলন

২০২২ জানুয়ারি ২৪ ১৫:১৮:৩২
বাংলাদেশের বাম আন্দোলন

ডানপন্থী ঝোঁকে রাজনীতি

রণেশ মৈত্র


১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে পাশ্চাত্যের অনুসারী পররাষ্ট্রনীতি (যা মুসলিম লীগ সরকার প্রণয়ন করে কার্য্যকর করছিল) গ্রহণ করায় এবং পাকিস্তানের গঠনতন্ত্রের বিন্দুমাত্র সংশোধনী ছাড়াই “পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসন ৯৮ ভাগ অর্জিত হয়েছে” বলে ঘোষণা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের মধ্যেকার জাতীয়তাবাদী ও অংশ বামপন্থী অংশ বিক্ষুব্ধ হন। মওলানা ভাষানীর তাঁরা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। যখন কিছুতেই শহীদ সোহরাওয়াদী ঐ নীতি থেকে সরে আসতে রাজী হলেন না-তখন মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালের প্রথম দিকে কাগমারীতে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করলে সারা দেশের বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী এবং প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার আওয়ামী লীগ দলীয় সকল সদস্য, পূর্ব পাকিস্তানের আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন মন্ত্রীসভার সকল সদস্যও যোগ দেন।

কাউন্সিল অধিবেশনে পররাষ্ট্রনীতি ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন প্রশ্নে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অনুসৃত নীতি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনার পরও সোহরাওয়াদী তাঁরা অনুসৃত নীতিতে অটল থাকবেন বলে ঘোষণা দিলে বিষয়টি ভোটে দেওয়া হয়। ভোটে সোহ্রাওয়ার্দীর নীতির বিপক্ষে এবং আওয়ামী লীগের জন্মকাল থেকে অনুসৃত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী পররাষ।ট্রনীতি এভং পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের দাবীর অনুকূলে ব্যাপক ভোট পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোহ্রাওয়াদী তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে ঢাকা চলে যান এবং ঢাকাতে একটি পাল্টা কাউন্সিল অধিবেশন ডাকেন। এই অধিবেশনে দলের প্রকৃত কাউন্সিলারদের অল্প সংখ্যক যোগ দেন এবং সেখঅনে সোহরাওয়াদী অনুসৃত নীতিসমূহ অনুমোদিত হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই ঢাকায় ঐ কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল। ফলে মওলানা ভাসানী তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পর পরই সারা দেশ থেকে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীও পদত্যাগ করেন।

নতুন পরিস্থিতিতে বাম আন্দোলন অত:পর ১৯৫৭ সালের জুলাই এর শেষ দিকে মওলানা ভাসানী ডেকে বসলেন “নিখিল পাকিস্তান গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে। আওয়ামী লীগের ও বাইরের বাম পন্থীরা ব্যাপক সংখ্যায় সমগ্র পূর্ব বাংলা থেকে ঐ দুদিন ব্যাপী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। কাগমারী সম্মেলনের আগমুহুর্তে গোপনে থাকা কমিউনিষ্ট পার্টি আওয়ামী লীগে কর্মরত নেতা-কর্মীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিশেষ কাউন্সিলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী পররাষ্ট নীতি ও পূর্ব বাংলায় পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের অনুকূলে দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ যেন ভেঙ্গে না যায়। পার্টির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবানুগ নিখিল পাকিস্তান গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন সফল করে তুলতে আত্মনিয়োগ করেন।

সম্মেলন আশাতীতভাবে সফল হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশ থেকে শত শত কমিউনিষ্ট, বামপন্থীও উদার জাতীয়তাবাদী, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে ঐ কমত্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান ন্রাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে নতুন একটি বাম প্রগতিশীল পাকিস্তান ভিত্তিক দল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গড়ে উঠলো এবং এই দল সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিপুল ভূমিকা রাখলো। দলটি অকমিউনিষ্ট কিন্তু আদৌ কমিউনিষ্ট বিরোধী নয়। দেশে কমিউনিষ্ট ক্যাডার গড়ে তুলতে, নতুন নতুন এলাকায় কমিউনিষ্ট পার্টির প্রসার ঘটাতে একত্রে আন্দোলন করতে এবং কমিউিিনষ্ট পার্টির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবী জনপ্রিয় করে তুলতে বিপুল ভূমিকা রাখে।

প্রথমবারের মত পাকিস্তানের সকল অঞ্চলের কমিউনিষ্টদের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এই সম্মেলনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে যেমন ছাত্র ইউনিয়ন, তেমনই আবার একই দশকের শেষ দিক থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্য্যন্ত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বিপুল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। কমিউনিষ্ট পার্টির আকার ১৯৪৮ এ প্রায় শুন্য অবস্থা থেকে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একাত্তর বাহাত্তরে এসে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। জনগণের মধ্যে দলটির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

বৈশিষ্ট্য

এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সমগ্র পাকিস্তান আমল জুড়ে নানা রাজনৈতিক কৌশল সময়োচিত ভাবে যেমন গ্রহণ করেছে কম-বেশী সাফল্যের সাথে তা পালনও করেছেন পার্টি কমরেডরা। বহুলাংশে সাফল্যও ঘরে তুলেছেন-আবার ক্ষেত্র বিশেষে তা সম্ভব হয়ও নি।

১৯৭২ এ এসে যে বিশাল পার্টিকে দেখা ঘেল প্রকাশ্যে কাজ করতে তার বৃহত্তর অংশই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের অভ্যন্তরে থেকে পার্টির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর পর এ দুটি সংগঠন থেকে নেতা-কর্মীদেরকে পার্টির প্রকাশ্য টিমে কাজ করতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। এ ব্যাপারে যে শব্দটির ব্যাপক প্রচলন হয়েছিল তা হলো ড়ঢ়বহ করা। এই ড়ঢ়বহ ছাত্র ইউনিয়ন উভয় সংগঠনই দুর্বল হয়ে পড়লো।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে দ্রুতই পুরানা পল্টন এলাকায় গড়ে উঠলো কমিউনিষ্ট পার্টির নিজস্ব কার্যালয় আর প্রেসক্লাবের বিপরীতে ভাড়া নেওয়া হলো নব্যাপের অফিস। উভয় অফিসই গম গম করতো প্রায় দিবারাত্র। প্রচ্ছন্নভাবে হলেও কমিউনিষ্ট পার্টি ও ন্রাপ নেতা-কর্মীদের মনে একটা ধারনার সৃষ্টি হয়েছিল যে ভিযেতনামের পরেই বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়া শুরু করবে। বিপ্লবী জননেতা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মনি সিংহও একদিন এক সমাবেশে তেমনই আশাবাদ প্রকাশ করলেন। ১৯৭৩ এর নির্বাচনে তেমন আসন না পেলেও সাকুল্য ভোট গণনায় ন্যাপ দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হলো। ঐ নির্বাচনে অত্যন্ত সীমিত আসনে কোন আসনে তাঁদের প্রার্থীও বিজয়ী হতে পারেন নি।

এতে বুঝা গেল বাম সংগঠন দুটির আয়তন এবং পরিচিতি বৃদ্ধি পেলেও, জনগণের মধ্যে তাঁদেগর পরিচিতি এবং সৎ, যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি জুটলেও জনতার গভীরে তাঁরা তখনও ঠাঁই করে নিতে পারেন নি। এটি আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে একটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাই। ১৯৭৮ সালে বগুড়া জেলা ন্যাপ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য হিসেবে আমিও অংশগ্রহণ করি। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ওখানকার দু এক জন আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে শুছেচ্ছা ভাষণ দেন। কমিউনিষ্ট পার্টির বগুড়া জেলা সভাপতি মোখলেসুর রহমানও ভাষণ দেন। তিনি ক্ষেতমজুর সমিতিরও কেন্দ্রীয় নেতা এবং বগুড়াতে বাস থেকে নেমে সম্মেলন স্থলে থেকে যেতেই শুনলাম, দিন কয়েক আগে বগুড়া শহরে প্রায় ১৫,০০০ ক্ষেতমজুর লাল পতাকা হাতে মিছিল করেছেন। উৎফুল্লচিত্তে মোখলেস ভাইকে কথাটা বলতেই তিনি বললেন, এ দেশের মানুষ ৪/৫ হাজারকেই ১৫/২০,০০০ প্রচার করে। ঐ মিছিলে আসলে ৪০০০/৫০০০ ক্ষেতমজুর অংশ নিয়ে ছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম ১৯৭৩ এর নির্বাচনে তা হলে কমিউনিষ্ট পার্টির একটি প্রার্থীকেও জিতিয়ে আনতে পারলেন না কেন? তারা কি দলে দলে সপরিবারে কমিউনিষ্ট পার্টিকে ভোট দেয় নি? মোখলেস ভাই বললেন, তারা আওয়ামী লীগে এবং কেউ কেউ বিএনপিকেও ভোট দিয়েছে। কমিউনিষ্ট পার্টিকে দিয়েছে অতি অল্প সংখ্যক।

জনতার গভীরে বামপন্থীরা আমরা যে তখনও যে ঠাঁই করে নিতে পারি নি এটা তার একটা বড় প্রমাণ। এলো ১৫ আগষ্টের ভয়াবহ হত্যালীলা। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল সারা দেশে আওয়ামী লীগের মত ন্যাপ সিপিবি অফিসগুলিও প্রায় নেতা-কর্মীশূন্য। সবাই সম্ভবত: বুঝলেন সমাজতন্ত্র হনুজ দূর অস্ত। এর পর সময় গড়াতে থাকলো। নানা যুক্তিতে সম্ভাবনাময় দুটি বামপন্থী দল খণ্ড বিখন্ড হয়ে গেল। অনেকে আওয়ামী লীগে আবার কেউ কেউ বি.এন.পি.তেও চলে গেলেন এমপি-মন্ত্রীও হলেন।

সমাজতন্ত্রে নীতি আদর্শকে আঁকড়ে ধরে যে সংখ্যক নেতা -কর্মী ন্যাপ সিপিবিতে তার পরেও রয়ে গেলেন তাঁরা আজও হাল ধরে রেখেছেন, ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝছেন কিন্তু জোড়া লাগানোর কাজটি হচ্ছেই না। ফলে বামদির অস্তিত্ব, তাদের অঙ্গ বা গণ বা ফ্রন্ট সংগঠনের অস্তিত্ব এখন মাইক্রোস্কোপ দিয়েও ধরা পড়ছে না। এই দু:খজনক সত্যকে অকুণ্ঠাচিত্তে স্বীকার করে নিয়ে বাম আন্দোলনের সংকট দূরীভূত করতে অগ্রসর হতে হবে। কারণ বাম আন্দোলনের গুরুত্ব আজ অপরিসীম এবং তা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড় দলগুলির ব্যর্থতার কারণে।

সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে যা চোখে পড়ে:

এক. বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও বামপন্থী আন্দোলন মোটামুটি যৌথভাবে ১৯৪৮ থেকে পরস্পরের হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে এবং এতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়েছে। এই যৌথ আন্দোলন হাল আমলে দিনে দিনে দুর্বল হয়েছে-দুর্বল হয়েছে জাতীয়তাবাদী ও বাম উভয় শক্তিই ।

দুই. জাতীয়তাবাদী শক্তি বলতে প্রধানত: আওয়ামী লীগকেই বুঝাতে চেয়েছি। দলটি আজও বিশাল এবং সম্ভবত: এত বিশাল আওয়ামী লীগ অতীতে কোন সময় ছিল না। তা হলে জাতীয়তাবাদী শক্তিও দুর্বল হয়েছে বলা যায় কি? অবশ্যই বলা যায়। আকারে নয়, আদর্শে, নীতিতে দুর্বল হওয়ার কথা বলছি। যে আওয়ামী লীগ বাহাত্তরের সংবিধানে চার মৌলনীতি গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ লিখেছিল আজ আর তা নেই তা করতে দলটি এখন কুষ্ঠিতও বটে। যে আওয়ামী লীগ ঐ সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানুর রহিম” লিখেছে, ধর্মাশ্রয়ী দলগুলিকে সাংবিধানিক বৈধতা দিয়েছে জিয়ার পঞ্চম সংশোধনীকে গ্রহণ করে। অনুরূপভাবে এরশাদের সংশোধনী রাষ্ট্রধর্ম বাহাত্তরের মূল সংবিধানে না থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনী মারফত তা বৈধ করে। তদুপরি নতুন গজিয়ে ওঠা হেফাজতে ইসলাম নামক উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদী সংগঠনকে তাঁদের গভীর মিত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ সম্প্রতি গ্রহণ করেছে। তাই আদর্শিক বিবেচনায় আজকের আওয়ামী লীগ মারাত্মকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তিন. বামেরা আদর্শে নিষ্ঠ হলেও ঐক্যের প্রশ্নে আন্তরিক কতটা তা প্রশ্নাতীত নয়। ফলে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানো এবং জনতার নানা অংশের মধ্যে কাজ করার শক্তি গড়ে তুলতে পারছে না।

চার. অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন নয়-সবগুলিকে প্রকৃত অর্থে গণ সংগঠনে পরিণত করা প্রয়োজন;

পাঁচ. ১৫ আগষ্টের হত্যালীলা এবং পরবর্তী বিভাজন প্রভৃতির দিকে নজর দিলে এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, মধ্যবিত্ত সুলভ দোদুল্যমান অংশই ছিল বাম দলগুলিতে যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই ৭৪ পর্য্যন্ত যে সম্ভাবনা সকলের সামনে ধরা পড়েছিল, ৭৫ এর আগষ্টের পরে তা তিরোহিত হয়েছে ভেবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়ে বিভাজন ও দলত্যাগের ঘটনা ঘটেছে আবার অপর অংশও বহুলাংশে মধ্যবিত্ত সুলভ অহংবোধ থেকে এবং দেশে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বাড় বাড়ন্ত সত্বেও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ফলে দেশের বাম শক্তিগুলির এক বড় অংশ আজ সারা দেশে হ তাশায় আক্রান্ত এবং নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছেন।

তাই সার্বিক বিবেচনায় এই প্রায় ডুবে যাওয়া তরীটিকে টেনে তুলতে প্রথমে বাম ঐক্য এবং পর পরই উদার গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের সাথে ১৯৫৭ সালের অনুরূপ না হলেও উল্লেখিত শক্তিগুলিকে সাথে নিয়ে এক মঞ্চে দাঁড়ানো, মধ্যবিত্তকে রাজনীতিতে টেনে আনা, কৃষক শ্রমিক, নারী ও বুদ্ধিজীবীদের প্রগতিমুখী গণ ও শ্রেণী সংগঠন গড়ে তুলে নতুন এক রাজনৈতিক আবহ তৈরী করে ও ঢেউ তুলে বাম আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হাত ধরাধরি করে অগ্রসর হতে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বামপন্থী শক্তিগুলিকেই এ ব্যাপারে আগ্রহী ও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে কালবিলম্ব না করে। মনে রাখা দরকার, এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের উপরই দেশের ভবিষ্যত বহুলাংশে নির্ভরশীল।

লেখক : সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ, একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক।

পাঠকের মতামত:

২৯ মে ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test