E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

গণজাগরণ মঞ্চ কোনো দলের অধীনে নয়

২০১৪ মার্চ ১২ ১৫:০১:৪২
গণজাগরণ মঞ্চ কোনো দলের অধীনে নয়

এম এ আমিন খান, অনলাইন এক্টিভিস্ট: গণজাগরণ মঞ্চ কখনোই জয় বাংলা চেতনার কোনো ব্যক্তি ও দলের প্রতিপক্ষ নয়। এটাকে যারা প্রতিপক্ষ বানাতে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করছেন তারা চরম ভুল করছেন।আপনারা যারা গণজাগরণ মঞ্চ সম্পর্কে নানা ধরণের ভুল ধারণা পোষণ করছেন এবং অনলাইন, অফলাইনে উঠে পরে লেগেছেন তারা দয়া করে একটু শাহবাগে যান, গণজাগরণ মঞ্চে যান, প্রজন্ম যোদ্ধাদের কাছে যান। গণজাগরণ মঞ্চ কোনো বাম-ডান দল, আওয়ামী লীগ নয়। গণজাগরণ মঞ্চ হলো সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, ধর্মের নামে ব্যবসা ইত্যাদি দেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অপশক্তির প্রতিপক্ষ।

চারদিকে অপপ্রচার কম হচ্ছে না। এখন জয় বাংলার মুখোশধারীদের অপপ্রচার স্বাধীনতাবিরোধীদের অপপ্রচারকে হার মানিয়েছে। আপনাদের কাছে দুহাত জোর করে একটা কথা বলতে চাই-যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদী অপশক্তি একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় দেশের উপর। তারা অনলাইন, অফলাইন সর্বক্ষেত্রে চালিয়ে যাচ্ছে শত শত অপপ্রচার। সেগুলোর কঠোর জবাব না দিয়ে, সেগুলো প্রতিহত না করে কেনো আপনারা গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে নেমেছেন? আপনারা কি ভুলে গেছেন এই গণজাগরণ মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়েই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি নিশ্চিত করতে আন্দোলন করেছিলাম।

এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের বিচারে অঙ্গিকারাবদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারকে সহযোগীতা করছে গণজাগরণ মঞ্চ। বিচারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অপশক্তিকে প্রতিহত করতে গড়ে উঠেছিল গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ একটি মঞ্চ 'গণজাগরণ মঞ্চ'।যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার করছেন তাদের মনে রাখা উচিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে আওয়ামী লীগ সরকার, আর সরকারকে একটি জায়গা থেকে সহযোগীতা করছে গণজাগরণ মঞ্চ। এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদের সুযোগ নেই।

গণজাগরণ মঞ্চকে রাজনৈতিক দল ভেবে অনেকে বিরোধীতায় নেমেছেন। না, গণজাগরণ মঞ্চ রাজনৈতিক দল নয় যে আপনাকে, আমাকে ভোটের রাজনীতিতে নামতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল দল মত ধর্ম বর্ণের মানুষের চেতনার মঞ্চ হচ্ছে 'গণজাগরণ মঞ্চ'। আর তার বাইরে কিছু যদি হয় সেটা ভবিষ্যত বলে দেবে এখনও সে সময় আসেনি, তখন না হয় বিরোধীতা করা যাবে। আগে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে সফলতার মুখ দেখার পরেই না হয় অন্য কিছু ভাবা যাবে তার আগে নয়। গণজাগরণ মঞ্চও সে ব্যপারে অবগত আছে বলে মনে হয়।

জয় বাংলার সাথে জয় বঙ্গবন্ধু কেনো বলা হয় না সেটা নিয়ে অনেকে গণজাগরণ মঞ্চের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন। শুধু জয় বাংলা বললে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা হয় না বরং বঙ্গবন্ধুর চেতনাকেই স্বীকার করা হয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু যেহেতু আওয়ামী লীগের স্লোগান তাই নির্দলীয় একটা মঞ্চ থেকে জয় বঙ্গবন্ধু না বলে শুধু জয় বাংলা বলা হয়। তাছাড়া জয় বাংলার সাথে জয় বঙ্গবন্ধু না বললেই যে মহাভারত অশুদ্ধ হয় যাবে, চেতনা ধ্বংস হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। তাই এটা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো ভুল হবে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাও, ব্রাম্মণবাড়িয়া, দিনাজপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নারকীয় হামলা চালিয়েছিল জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারেরা। সেখানে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেয়ে তাদের সান্তনা বানী শোনাতে পারেননি। এই গণজাগরণ মঞ্চই তখন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দল মত ধর্ম বর্ণ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু মা বোনেদের মনের ভীতি কিছুটা হলেও তারা শক্তিতে পরিণত করাতে পেরেছিল। আর এটা গণজাগরণ মঞ্চের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ফলেই হয়েছিল। গণজাগরণ মঞ্চের যে জনস্রোত সেখানে আপনি আমি সকলেই ছিলাম। তাহলে আজ কেনো এ বিভেদ?

আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে তারা কোনোদিনই প্রজন্মকে একসূতায় বাঁধতে পারেনি। নতুন প্রজন্ম সবসময় বিভক্ত ছিল। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চ আজ এ প্রজন্মকে এক সূতায় বেঁধেছে। গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে আজ নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ প্রজন্মের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সকল অপশক্তি ধ্বংস হয়ে যাবেই এবং আমরা নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আর এই যে ঐক্যবদ্ধ করা, এটা অনেক বাধা অতিক্রম করে গণজাগরণ মঞ্চকে করতে হয়েছে। শুরুতে গণজাগরণ মঞ্চের পিছনে লেগেছিল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তারা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। প্রজন্ম সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে দিয়েছে।

অনেকে বলেন গণজাগরণ মঞ্চ আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকারের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি এটা মানতে নারাজ। কখনোই জয় বাংলার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে কেউ কারো প্রতিপক্ষ হতে পারে না। আমরা যারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করি তাদের মনে রাখতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড থেকে গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিপক্ষ ঘোষণা দিয়ে কোনো বিবৃতি না আসছে ততক্ষন পর্যন্ত গণজাগরণ মঞ্চকে যেনো আমরা প্রতিপক্ষ না ভাবি।

এই গণজাগরণ মঞ্চ কোনো দলের অধীনে নয়, কোনো গোষ্ঠীর অধীনে নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গণমানুষের একটা আন্দোলন সংগ্রামের মঞ্চ। এখানে জয় বাংলার চেতনায় বিশ্বাসী ছোট বড় প্রতিটি দলের নেতা কর্মীদের সমর্থন রয়েছে। আবার গণজাগরণ মঞ্চও জয় বাংলার চেতনার প্রতিটি দলকে তাদের সহযোদ্ধা মনে করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের অভিন্ন চেতনার মধ্যে কোনো প্রতিপক্ষ থাকতে পারে না, থাকতে পারে না কোনো বিভেদ।

ডাঃ ইমরান এইচ সরকার, এ প্রজন্মের অহংকার। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নতুন প্রজন্মকে এক সূতায় বাঁধতে পেরেছেন। ডাঃ ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে থেমে নেই অপপ্রচার। গণজাগরণ মঞ্চের শুরুতে স্বাধীনতাবিরোধীরা নানাভাবে অপপ্রচার করেছিল। বানোয়াট নাটকও তাঁকে নিয়ে সাজিয়েছিল। সেটা আপনাদের লক্ষ্য আছে। অথচ ইমরান এইচ সরকার সম্পর্কে আপনারা সকলেই জানেন। তিনি একজন ধার্মিক, সুশিক্ষিত ও মার্জিত লোক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়াতে তাঁকে নাস্তিকও বলা হয়েছে, যেমনটি আমাদেরও শুনতে হয়। তাঁর সাথে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তাঁকে এক কথায় মূল্যায়ন করতে গেলে বলতে হবে তিনি নতুনপ্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মধ্যে কোনো অহমিকা বোধ নেই। যে-ই তাঁর কাছে যায় তাকেই তিনি কাছে টেনে নেন। যারা তাঁর উপর ভুল ধারণা পোষণ করছেন তাদের মধ্যে দুটো জিনিস আমি লক্ষ করেছি। এক হচ্ছে তাঁকে ভালোভাবে না বুঝতে পারা, দুই হচ্ছে সবকিছু জানা বোঝার পরেও ব্যক্তিগত হীনস্বার্থে তাঁর বিরুদ্ধচারণ করা। যারা তাঁকে বুঝতে পারেননি, গণজাগরণের মহত্ উদ্দেশ্য সম্পর্কে যাদের ভুল ধারণা আছে তাঁরা দয়া করে শাহবাগে চলে যান। তাঁর সাথে দেখা করে আসুন। গণজাগরণ মঞ্চের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আছেন তাঁদের কাছে প্রশ্ন করে জেনে নিন। আর যারা নিজ স্বার্থে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করছেন দের সম্পর্কে কি আর বলার আছে। ই মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের রুটা যারা করেছেন তাদের উদ্দেশ্য ম্পর্কে এবং তাঁরা কেনো গণজাগরণ মঞ্চ থা ইমরানের বিরুদ্ধে লেগেছেন বললে হয়তো অনেকে আঘাত পাবেন। আমি জয় লার পক্ষের কাউকে আঘাত করতে চাই না। দেখুন ইমরান এইচ সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চেরবিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে কখনোই সত্যকে চাপা দিতে পারবেন না। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে লাভ করতে কেউ পারেনি। তাই এসব ছাড়ুন, সকল বিভেদ ছেড়ে আসুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাতলে।

সবশেষে একটা কথা বলতে চাই - যদি আমার, শাহবাগের গণজাগরণের ও আপনার আন্দোলন সংগ্রামের মঞ্চ আলাদাও হয়ে থাকে তা স্বত্বেও একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের সকলের অভিন্ন উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে গড়ে তোলা। অভিন্ন এ চেতনার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পারলেই একদিন গড়ে তুলতে পারবো জাতির জনকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। আমাদের সকলের উদ্দেশ্য যেহেতু একই তাই আর বিভেদ নয়, আর অপপ্রচার নয়।

জয় হোক সোনার বাংলার, জয় হোক গণজাগরণ মঞ্চের, জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার। শত সংগ্রাম শেষে একদিন জয় হবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের এই সোনার বাংলাদেশের।

(এইচআর/ফেব্রুয়ারি, ০৮, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test