E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

যে বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নীলফামারী প্রেসক্লাব নির্বাচন

২০২৪ ফেব্রুয়ারি ০৭ ২৩:৩১:৫৯
যে বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নীলফামারী প্রেসক্লাব নির্বাচন

ওয়াজেদুর রহমান কনক


আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নীলফামারীর সাংবাদিক মহল ইতিমধ্যে জেনে গেছে, আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন। ওইদিন ৪০জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রেসক্লাবের এই নির্বাচনকে সাধুবাদ জানিয়েছি। তবে, যে বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এই বাস্তবতাটুকু তুলে ধরার জন্য আগামী ১৭ তারিখ পর্যন্ত ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে মনোস্থির করেছি।

২০২১ জুন ০৪ উত্তরাধিকার ৭১ নিউজে আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়, এই একই লেখা দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকায় মুক্তচিন্তা কলামেও প্রকাশিত হয়। নীলফামারীতে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নিয়ে এক ধরণের অদ্ভূত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে । ২০০৮ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হওয়ার সুবাদে নিজের কম্যুনিটির নেতৃত্ব নিয়ে যদি কোন বক্তব্যই না থাকে, তবে সেটা বলতে হবে এক ধরণের বিচ্যুত্তি । এই বিচ্যুত্তির যাতনা থেকে মুক্তির জন্যই যে সবাই নেতৃত্ব নিয়ে তৎপর হয়-এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোন প্রয়োজন নাই ।

প্রথমত, নীলফামারীতে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নিয়ে আমার মোটেও কোন আগ্রহ নাই । নিতান্ত-ই প্রয়োজন ছাড়া প্রেসক্লাবের বারান্দায় পা রাখা-এটা সত্যিকার অর্থেই আমার স্বভাববিরুদ্ধ ! তবে, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে কারা আসছে, কারা আসতে পারে, তাদের বিষয়ে দুই একটা কথা না বললেই নয় । প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এমন কাউকে চাই না, যারা নিজের কম্যুনিটির লোকজনের অধিকার খর্ব করে ‘প্রশাসনিক ক্ষমতা’কে পুঁজি করে নিজের কম্যুনিটির লোকজনকেই ‘ক্ষমতা’ প্রদর্শন করার প্রয়াস নিতে পারে, এই ধরণের নেতৃত্ব চাই না । চাই না এই পর্যন্ত বলে থেমে থাকার লোক আমি নিশ্চয়ই নই । প্রয়োজন হলে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই তৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবো । কে আমাকে ডাকল আর কে আমাকে ডাকল না-এটা নিয়ে আমি বিন্দু মাত্র বিচলিত নই । সর্বত্র-ই তো এখন অস্বীকার করার রাজনীতি শুরু হয়েছে, এটা আর আবার নতুন এমন কি ! এখন পর্যন্ত যে কটি প্রেসক্লাব গঠিত হয়েছে এর কোনটাই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়নি, সবাই সবার নিজের পছন্দ মতো সাংবাদিক একাট্টা করে সিলেকশনের মাধ্যমে একটা কমিটি গঠন করছে ।

তবে, অবাক হয়েছি অনেকেই এই প্রক্রিয়াটিকে ‘নির্বাচন’ বলছেন । তবে, আমি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলছি, এখন পর্যন্ত যে কটি প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছে তাদের সকলকেই আমার অভিনন্দন । সংগঠন করার অধিকার, সংগঠিত হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে, এই অধিকার থেকে কেউ যেন কাউকে বঞ্চিত করতে না পারে, সমাজের সবচেয়ে অগ্রসর এই পেশার মানুষদের প্রতি এই আস্থা রাখা যেতেই পারে । আর একটা বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যে, সাংবাদিকদের এই কম্যুনিটির সংগঠনে যেন কোন ভাবেই স্বাধীনতাবিরোধীর পরিবারের লোকজন আসতে না পারে, আর যদি আসে, তাহলে কি হবে? বাঁধা আসবে যেখানে, লড়াই হবে সেখানে । বুঝলে ভাল, না বুঝলে আরও ভাল । এই ক্যাটাগরির মানুষজন যেন ভুল করেও এই ভুল না করে ! সাংবাদিকদের আন্দোলনও করতে হয় । এটা কে ভুলে গেলো আমার জানা নাই, তবে আমি জানি সাংবাদিককে আন্দোলনও করতে হয়, লড়াইও করতে হয় ।

সমাজের সবচেয়ে অগ্রসর অংশের এই পেশার মানুষদের সংগঠন কোন বিতর্কিত তৎপরতার মধ্যে দিয়ে যাক-এটা চাই না । প্রেসক্লাবকে ঐক্যবদ্ধ করার ধুঁয়া তুলে এখন পর্যন্ত যতগুলো কর্মকান্ড সম্পন্ন হয়েছে, তা কোন ভাবেই ঐক্যবদ্ধ করার নমুনা নয়-বলতে গেলে অনেকটা গায়ের জোড় খাটানোর মতো অবস্থা । অনেকটা আবার নিজের বোনের বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার মতো ঘটনা আমার যাকে খুশি দাওয়াত দেবো, যাকে খুশি দেবো না । প্রেসক্লাব তো আর বোনের বিয়ের দাওয়াত নয়, যাকে খুশি দিলাম, যাকে খুশি দিলাম না ।

সাংবাদিকের কাজই হলো তথ্য সংগ্রহ করা, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে যদি এমন কেউ আসতে চায়, যে কি না স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিবারের লোকজন; এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় যে এইসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে হচ্ছে ! প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আসতে চায় আপনার আবার ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হবে না, এমনটা না হওয়ারই কথা । আর আমি তো এটার জন্য নিবেদিতই থেকে গেলাম, কোন স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিবারের লোকজনকে প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আসতে দেওয়া হবে না ।' এটি হলো ২১ নভেম্বর ২০২১ এর আগে প্রকাশিত, এই তারিখের পরে দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখানে উল্লেখ করেছিলাম, যার শিরোনাম ছিল 'গণমাধ্যম নিয়ে জামায়াতের কোন পরিকল্পনা নাই?'। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলাম 'সম্প্রতি নীলফামারীতে প্রেসক্লাবের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নাই৷ প্রেসক্লাবের এই কমিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।'

লেখাটিতে আরও উল্লেখ করেছি, 'সমাজের সুশীলদের সমর্থন নিয়ে কিভাবে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে অভিযুক্ত আর বর্ণচোরা জামাতীদের দিয়ে প্রেসক্লাব গঠন করা হলো।'
লেখাটিতে উল্লেখ আছে, রাজনৈতিক পরিচয় যথাযথভাবে দিয়েই প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আসতে হবে। যারা কমিটিতে আছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের কি ভূমিকা ছিল-এটা লিখিত সংরক্ষণ করতে হবে। কোন ভাবে এর ব্যতয় ঘটানো যাবে না। যারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এই বর্ণচোরা জামাতীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ভার তাদেরকেই গ্রহণ করতে হবে।

২৩ জুন ২০২২ দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকায় আমার আরও একটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখাটিতে উল্লেখ করেছিলাম ' বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ যে জায়গাটিতে স্কুল কার্যক্রম চলেছে, সেই স্কুল কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে, স্কুলের বিষয়ে কোন তথ্য না দিয়ে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নীলফামারী শহরের কালিবাড়ি মোড়ে প্রেসক্লাব বানানো হচ্ছে। অথত দীর্ঘ দিন অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকা স্কুলটি পুনরায় চালুর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিতে হয়েছে 'অবৈধ দখল' এর তকমা!
(চলবে)

(ওআরকে/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test