E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

ভারতে নির্বাচন 

২০২৪ মে ১৭ ১৬:৪৪:৪৩
ভারতে নির্বাচন 

শিতাংশু গুহ


ভারতে নির্বাচন চলছে। ভোটার মাত্র ৯৭ কোটি। নির্বাচন শুরু হয়েছে ১৯শে এপ্রিল, চলবে ১লা জুন পর্যন্ত। ফলাফল বেরুবে ৪ঠা জুন ২০২৪। নির্বাচন হচ্ছে ৫৪৩টি আসনে, ম্যাজিক নাম্বার ২৭২, যাঁরা জিতবেন, তাঁরা সরকার গঠন করবেন। ৪৪দিন ব্যাপী এ নির্বাচন, উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে, খুনাখুনি নেই, ভোট ডাকাতি নেই, ভোটে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটে। এটি ‘লোকসভার’ নির্বাচন, দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইন-পরিষদের নিন্ম কক্ষ হচ্ছে লোকসভা। 

লোকসভার নির্বাচন হলেও অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, ওড়িষ্যা ও সিকিমে একই সাথে বিধান সভার নির্বাচন হচ্ছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনটি হয়েছিলো এপ্রিল-মে ২০১৯-এ। ভোটে জিতে বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স) সরকার গঠন করে, মোদী ২য় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হ’ন। ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি ভারতে ক্ষমতাসীন আছে, ২৬শে মে ২০১৪ মোদী প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। এবার জিতলে মোদী টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের নির্বাচন এক এলাহী কারবার। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং প্রচন্ড ক্ষমতাশালী। অতীতে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত আসতে বাধ্য করেছিলেন। মোদির ভারত এখন পরাশক্তি, বিশ্বে এর স্থান ষষ্ঠ। অর্থনীতি শক্তিশালী ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভারত একই সাথে আমেরিকা ও রাশিয়ার বন্ধু। নেহেরু ও ইন্দিরার পর মোদিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী দাপটের সাথে বিশ্ব দরবারে সমাসীন। মোদী ভারতকে নুতন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মোদির ভারতে উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। মোদী ভারতকে চাঁদে নিয়ে গেছেন। প্রযুক্তিতে ভারত এখন প্রায় বিশ্বসেরা। মোদী আধুনিক ভারত গড়ছেন, অথচ তাঁর ক্ষমতার মূলশক্তি হিন্দুত্ববাদ। মোদী ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছেন। তিনি মন্দিরে পূজা দিয়ে মোদী বারাণসীতে (কাশী) মনোয়নপত্র জমা দেন, এবং বলেন, ‘আমি মা-গঙ্গার পুত্র’। যে রাজ্যে নির্বাচন সেই অনুসারে ভারতে দফায় দফায় মনোনয়ন জমা নেয়া হয়।

মোদী এবার জিতলে হয়তো ভারতে এবার ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ চালু হবে, অর্থাৎ সবার জন্যে এক আইন। বিদেশী খেদাতে এনআরসি লাগু হবার সম্ভবনা থাকবে। ভারতে নির্বাচন ব্যবস্থাটি ফেডারেল হলেও ফলাফল নির্ভর করে রাজ্যগুলোর ওপর। বিভিন্ন রাজ্যে কিছু আঞ্চলিক দল যথেষ্ট শক্তিশালী, এদের সাথে জোট বাঁধতে হয়, ক্ষমতার ভাগাভাগি করতে হয়। সর্বভারতীয় দল হিসাবে এখনো শুধুই বিজেপি ও কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরে কংগ্রেসের সাথে আছে মমতা ব্যানার্জি’র তৃণমূল কংগ্রেস এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীলাল ও তার দল ‘আম-আদমী’। টিএমসি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন, আম-আদমী দিল্লি ও পাঞ্জাবে ক্ষমতাসীন। কেজরীলাল কিছুদিন আগে দুর্নীতি’র জন্যে গ্রেফতার হয়েছিলেন, সদ্য তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মোদির জন্যে রাহুল গান্ধী যতটা না চিন্তার কারণ, এরচেয়ে ঢের বেশি বিব্রতকর হচ্ছেন মমতা ও কেজরীলাল। আম-আদমী ও তৃণমূল সর্বভারতীয় দল হয় উঠতে পারেনি।

ভারতীয় মিডিয়া, এক্সিট পোল বা সামাজিক মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী মোদী এবারকার নির্বাচনে বিরাট বিজয় পেতে যাচ্ছেন। বিজেপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেতে আগ্রহী ও আশাবাদী। সেটি হোক বা না-হোক বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্টতা পাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদ এগিয়ে নিতে মোদী রাম-মন্দির উদবোধন করেছেন। অমিত শাহ বলেছেন, ৪শ’ আসন পেলে পাকিস্তান অধিকৃত ‘আজাদ কাশ্মীর’ ভারতের সাথে যোগ দেবে। জোটনিরপেক্ষ ভারত এখন কোয়াড-র সদস্য। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একত্রে চীনকে মোকাবেলা করছে। অপরদিকে ভারত ‘ব্রিক্সের’ও সদস্য। রাশিয়া-চীন-ভারত মিলে আমেরিকার ডলারকে কোনঠাসা করতে চাচ্ছে। মোদী চীনের সাথেও সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পক্ষে কাজ করছেন, চীনের উচ্চপদস্থ নেতা তার আমলেই ভারত সফর করেছেন। ৫শ’ ও এক হাজার রুপির নোট বাতিল করে মোদী অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন। তেমনি কাশ্মীর নীতি ঐ রাজ্যকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলছে। তিন তালাক বাতিল করে মোদী মুসলিম নারীদের সম্মানের আসনে পৌঁছে দিয়েছেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও ভারতে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় থাকলে দুই দেশের লাভ। তেমন অঘটন না ঘটলে সেটিই হতে চলেছে। আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশ এগিয়ে যাক, উপমহাদেশে শান্তি বিরাজ করুক।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১৮ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test