Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির খাঁন বাঁচতে চান

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১১ ১৫:৪২:৩৬
চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির খাঁন বাঁচতে চান

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ জাকির খাঁন প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তশালীদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে অর্থ সংকটে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করতে না পেরে এখন মৃত্যুপথযাত্রী এই পরিচালক ও প্রযোজক। ৩৪ বছরের কর্মজীবনে অর্জিত সমস্ত সঞ্চয়, ভিটে-মাটি বিক্রি করেও চিকিৎসা ব্যয় সম্পন্ন না হওয়ায় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সমাজের বিত্তশালী মানুষদের কাছে।

পারিবারিক জীবনে চার কন্যা সন্তানের এই জনক চলচ্চিত্র নির্মাণেই জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন। মনের অজান্তে, মন চুরি, রাঙামন, চার অক্ষরের ভালবাসাসহ পূর্ণাঙ্গ ১১টি চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি নির্মাণাধীন অন্যায়ের প্রতিবাদ, স্বপ্নের মধ্যে তুমি ছাড়াও যৌথ পরিচালনা-প্রযোজনায় নির্মাণ করেছেন অসংখ্য বাংলা ছায়াছবি।

সম্প্রতি শরীরে মরণঘাতি টিস্যু ক্যান্সার ধরা পড়ায় ক্রমেই নিভে যাচ্ছে তার বাঁচার আশা। চিকিৎসক জানিয়েছেন মরণঘাতি হলেও এই টিস্যু ক্যান্সার থেকে যথাসময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাঁচার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যার দৃষ্টান্ত দেশের খ্যাতনামা শিল্পী আলমগীর এবং সাবিনা ইয়াছমিন। তবে এজন্য অতি জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন, যা বাংলাদেশেই সম্ভব।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের নিজগ্রামে কথা হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম এই পরিচালক মোহাম্মদ জাকির খাঁনের সাথে।

তিনি জানান, চলচ্চিত্রের কল্যাণের জন্য কাজ করেছি দীর্ঘ ৩৪ বছর। মরণঘাতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমার জীবনের অর্জিত সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেছি। পৈত্রিক ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কোন উপায় দেখছি না। ইতোমধ্যেই দেশ এবং দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন আরো অন্তত ৬টি ইনজেকশন নিতে হবে। যার মূল্যসহকারে ব্যয় পড়বে ৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু এখন আমার কাছে নিজ প্রাণটুকু ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

তিনি বলেন, সংসার জীবনে চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হলেও বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আরো দুই কন্যা সন্তান আছে আমার। যদি সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তায় সুস্থ্য হয়ে কর্মে ফিরে যেতে পারি তবেই তাদের মুখে খাবার এবং হাসি ফুটবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে কিছু অর্থ সহায়তা পেয়েছি যা অনেক আগেই ব্যয় করেছি। তাই আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিত্তবানদের কাছ থেকে অর্থসহ সার্বিক সহায়তা প্রত্যাশা করছি।

হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান সরকার পিন্টু বলেন, মানব জীবনে বিনোদনের অন্যতম খোরাক বাংলা চলচ্চিত্র। আর আমাদের হাজীপুরের কৃতী সন্তান প্রায় ৩৪ বছর ধরে চলচ্চিত্রে সময় ব্যয় করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত তার চিকিৎসা প্রচুর ব্যয়সাপেক্ষ। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সরকারী কোন অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে তার জন্য কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে বাকী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য এককভাবে নয় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশ ও সমাজের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাই।

(এমএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test