Occasion Banner
Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

অস্ত্র উৎপাদনে রাশিয়াকে টপকে দ্বিতীয় চীন

২০২০ জানুয়ারি ২৮ ১৭:৫৫:২৫
অস্ত্র উৎপাদনে রাশিয়াকে টপকে দ্বিতীয় চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে আমরা যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখছি তার বেশিরভাগের কারিগর পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু এশিয়ার দেশ চীনও বিগত শতাব্দী থেকে অস্ত্র উৎপাদনে টেক্কা দেয়ার মতো অবস্থান তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান বলছে, রাশিয়াকে টপকে বিশ্বের মোট অস্ত্র উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার এখন চীন।

সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক সমরাস্ত্র গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) সোমবার বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানি-রফতানি নিয়ে প্রতিবেদনে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র উৎপাদন করে চীন। আর এই অবস্থানে যেতে তারা পেছনে ফেলেছে রাশিয়াকে।

সংস্থাটি তাদের ওই গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর চীনের নির্ভরশীলতা এখন আগের চেয়ে অনেক কম। দেশটির অস্ত্র বিক্রির বাজার মূল্য এখন ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে যা ছিল ৭০ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের এই বাজার এখন ২২৬ দশমিক ৬ এবং রাশিয়ার ৩৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের।

সুইডেনভিত্তিক ওই থিঙ্কট্যাঙ্ক বিশ্বের শীর্ষ ১০০ অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করেছে। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকার কারণে বিগত বছরগুলোতে সংস্থাটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে চীনা কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করতো না। কিন্ত এবারের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রথম ২০ কোম্পানির চারটিই চীনের।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনামলে চীন তাদের অস্ত্র উৎপাদন শিল্পকে ব্যাপক সম্প্রসারিত করার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বেইজিং তার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিকায়ন করতে চায়। দেশটি বলছে, এর মাধ্যমে ২০৪৯ সালের মধ্যে তাদের সামরিক বাহিনী হবে বিশ্বমানের।

এসআইপিআরআই এর দেয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চীন তার সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ২২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা বাজেট ১৫১ বিলিয়নের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবেদনে তুলে ধরা পরিসংখ্যান বলছে, চীনের চার কোম্পানি মিলে ওই বছর ৫৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে।

সেগুলো হচ্ছে বৃহত্তম বিমান নির্মাণ সংস্থা অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি), নেতৃস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যসামগ্রী তৈরির প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনলোজিস গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি), চায়না নর্থ ইন্ডাস্ট্রিস গ্রুপ করপোরেশন (নরিনকো) এবং চায়না সাউথ ইন্ডাস্ট্রিস গ্রুপ করপোরেশন (সিএসজিসি)।

এসআইপিআরআই বলছে, চীন বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ্য করে নিজের দেশে অস্ত্র উৎপাদনকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করায় দেশটির অস্ত্র উৎপাদন শিল্প এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অন্যান্য দেশের চাহিদা পূরণের জন্য দিন দিন তাদের এই শিল্পকে সম্প্রসারিত করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই দুই মেয়াদে চীনের অস্ত্র আমদানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে, এই দুই সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে দেশটি তাদের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। ঠিক একই সময়ে প্রচলিত অস্ত্র সরবরাহেও চীনের অবস্থান বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test