E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক আর নেই

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৮:০৯:৫৬
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতাসীন থাকার পর ২০১১ সালে আরব বসন্তে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক মারা গেছেন। ৯১ বছর বয়সী এই স্বৈরশাসক মঙ্গলবার মারা যান বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে অসুস্থ হোসনি মুবারকের অস্ত্রপচার সম্পন্ন হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। মঙ্গলবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে তার ছেলে আলা জানিয়েছিলেন, হোসনি মুবারক কায়রোর সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় দেশটিতে স্বৈরশাসনবিরোধী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন হোসনি মুবারক। ১৯৮১ সালে দেশটির চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন তিনি।

আরব বসন্তের সময় কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। সেই সময় আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেঁকে বসা স্বৈরতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল তিউনিশিয়ায় শুরু হওয়া আরব বসন্ত।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভের ১৮ দিনের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন হোসনি মোবারক। আরব বসন্তের সময় তার নির্দেশে ২৩৯ বিক্ষোভকারীকে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা গুলি চালিয়ে হত্যা করেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। ফলে ২০১২ সালে দেশটির নিম্ন-আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে দু'বার উচ্চ আদালতে আপিল করেন হোসনি মোবারক। এছাড়া সরকারি তহবিল তসরুফের অভিযোগেও তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন তিনি। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান হোসনি মোবারক।

১৯২৮ সালে মিসরের নীল নদ ঘেঁষা প্রত্যন্ত এক গ্রামে জন্ম হোসনি মোবারকের। দুর্নীতি, পুলিশি নিষ্ঠুরতা ও রাজ্রনৈতিক নিপীড়নে জর্জরিত তার শাসনামলে মিসরের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়ে। ১৯৪৯ সালে দেশটির বিমানবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। পাইলট হিসেবে ওই বছরই পদোন্নতি পাওয়া হোসনি মুবারক ১৯৭২ সালে দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান হন।

ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধের সময় সিনাই উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়ার পর দেশটিতে জাতীয় বীর হিসেবে আবির্ভূত হন মিসরের এই প্রেসিডেন্ট। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার শক্ত অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শান্তিচুক্তি মেনে চলতে বাধ্য হয় ইসরায়েল।

মিসরের সাবেক এই স্বৈরশাসকের পরিবারে দুই ছেলে জামাল, আলা এবং স্ত্রী সুজানে রেখে গেছেন।

(ওএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

৩০ মার্চ ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test