E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

প্রথম শুনানিতেই মামলা খারিজ

নিউইয়র্কে প্রবাসী শাহনাওয়াজের ভুয়া মামলায় যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্ত নির্দোষ

২০২২ জানুয়ারি ১৪ ১৭:১৮:৩০
নিউইয়র্কে প্রবাসী শাহনাওয়াজের ভুয়া মামলায় যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্ত নির্দোষ

প্রবাস ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে যন্ত্রশিল্পী কর্তৃক জীবন নাশের হুমকি সংক্রান্ত ভুয়া মামলা খারিজ করেছেন নিউ ইয়র্কের একটি ফৌজদারি আদালত। প্রবাসী ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্তকে ঘায়েল করতে তার ফেসবুকের ছবিতে ফটোশপের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র বসিয়ে পুলিশের কাছে জীবন নাশের মিথ্যা অভিযোগ করেন ব্যবসার অংশীদার শাহনাওয়াজ। স্থানীয় সময় বুধবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ভার্চুয়ালি প্রথম শুনানিতেই নিউ ইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি ফৌজদারি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মেরি এল বেজারানো মামলাটি খারিজ করে দেন। বাংলা প্রেস ।

জানা যায়, গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ২৯ মিনিটে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জ্যাকসন হাইটসের নর্দার্ন ব্লুভার্ড-১১৫ এলাকার পুলিশের কাছে গিয়ে শাহনাওয়াজ (ওরফে শাহ মোহাম্মদ নেওয়াজ, ওরফে শাহ এম নেওয়াজ, ওরফে মোহাম্মদ এস নেওয়াজ) অভিযোগ করেন যে, তার ব্যবসার সাবেক অংশীদার পার্থ গুপ্ত তাকে জীবন নাশের (হত্যা) হুমকি দিয়ে তার ফোনে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন। এর দুই মাস আগে ২৯ আগষ্ট জ্যাকসন হাইটসের ৭৬-৩৭ স্ট্রিটের ওপর বাংলাদেশিদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি পথমেলায় তার গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের সাবেক অংশীদার ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্তসহ কয়েকজন মিলে সন্ধ্যা ৬টা/সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মারধর করেন। এ সময় তার জীবন নাশের উদ্দেশ্যে তারা বিপজ্জনক যন্ত্র (পিস্তল, রিভলভার, রাইফেল, শর্টগান কিংবা মেশিনগান) প্রদর্শন করেন (মামলার ডকেট নম্বর-'সিআর-০২০৫৬০-২১ কিউএন')। তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য তিনি পুলিশের সাহায্য চান। তার অভিযোগের সূত্র ধরে গত বছর ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নর্দার্ন ব্লুভার্ড-১১৫ এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা টেলর স্কালা পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ষ্টেশনে যাবার জন্য আহবান জানান। ফোন পেয়ে পার্থ গুপ্ত স্বেচ্ছায় পুলিশ ষ্টেশনে গেলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত পর্যন্ত নর্দার্ন ব্লুভার্ড-১১৫ পুলিশ ষ্টেশনে তাকে আটক রাখেন।

পরদিন ৫ অক্টোবর পার্থ গুপ্তকে নিকটস্থ ফৌজদারি আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ বিচারক পার্থ গুপ্তের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী শাহনেওয়াজ কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখারও নির্দেশ দেন আদালত।

নিউ ইয়র্কের হোম কেয়ার ও ইন্সুরেন্স ব্যবসায়ী শাহনাওয়াজ তার দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় নিউ ইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি ফৌজদারি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মেরি এল বেজারানো সাজানো ও পরিকল্পিত উক্ত মামলাটি (সিআর-০২০৫৬০-২১ কিউএন) খারিজ করেন। একই সাথে ব্যবসায়ী ও যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্তকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেন আদালত।

মামলা খারিজের পর পার্থ গুপ্তের আইনজীবি ক্যারি লন্ডন মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস'কে জানান, পার্থ গুপ্ত সম্পূর্ণ নির্দোষ। কারণ তিনি মঞ্চে শিল্পীদের সাথে যন্ত্রসঙ্গীত বাজানোর সময় কারও দিকে বন্দুক তাক করতে পারেন না। এমনকি গত বছর ২৯ আগষ্ট জ্যাকসন হাইটসের ৭৬-৩৭ স্ট্রিটে বাংলাদেশিদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথমেলায় এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়াও ব্যবসায়ী ও যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্তকে ঘায়েল করতে তার ফেসবুকের ছবিতে ফটোশপের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র বসিয়ে পুলিশের কাছে জীবন নাশের হুমকির ভুয়া অভিযোগ করেন ব্যবসার অংশীদার ব্যবসায়ী শাহনাওয়াজ। তিনি বলেন, পুলিশের কাছে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অভিযোগ অনেকেই দায়ের করেন, কিন্তু আদালতে গিয়ে বাদী তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

এ মামলা নিয়ে পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্নের জাবাবে আইনজীবি ক্যারি লন্ডন মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস'কে জানান, এ মামলা নিয়ে আমরা মিথ্যাবাদী শাহনাওয়াজকে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছি। তা নাহলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সমাজে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এ জন্য একটি মানহানির মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আদালতে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমানিত হবার পর পার্থ গুপ্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস'কে জানান, আমার মত আর কোন প্রবাসী বাংলাদেশি যেন এমন ধরণের বাজে মানুষের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের তিনি সজাগ থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সমাজে এমন ধরনের মিষ্টিভাষী, মুখোশধারী অনেক 'কালপ্রিট' আছেন। তাদের ভেতরের খবর না জেনে শুধু মিষ্টি কথায় কারো সাথে বন্ধুত্ব না করারও আহবান জানান পার্থ। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে তাকে যারা সাহায্য ও পরামর্শ দিয়েছেন সকলকে তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের হোম কেয়ার ব্যবসায়ী শাহনাওয়াজের দু'টি হোম কেয়ার ব্যবসায় প্রাপ্ত পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণের (মওকুফযোগ্য) তথ্য ব্যবসায়ী অংশীদার পার্থ গুপ্তের কাছে গোপন রেখে প্রতারণার আশ্রয় নেন। ঋণের সঠিক পরিমাণ ও হিসাব চাওয়ায় তিনি উক্ত অংশীদারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তার ফেসবুকের ছবিতে ফটোশপের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র বসিয়ে পুলিশের কাছে জীবন নাশের হুমকির অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী শাহনাওয়াজ।

শাহনাওয়াজ ও পার্থ গুপ্তের হোম কেয়ার ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের প্রকৃত ঘটনা: গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি ভয়াবহ আকার ধারন করায় কেন্দ্রিয় (ফেডারেল) সরকার কর্তৃক ক্ষুদ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণ প্রদানের ঘোষনা দেন। তিনি তার দু'টি হোম কেয়ার (বেঙ্গল হোম কেয়ার ইঙ্ক ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার) ব্যবসায় ১৪০ জন কর্মাচারি দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রিয় সরকারের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৭২৯ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ ১ হাজার ৯৬৫ টাকা) পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণ গ্রহণ করেন।

২০১৭ সালের শেষের দিকে বেঙ্গল হোম কেয়ার ইঙ্ক-এর পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। পরিচালনা পরিষদে পার্থ গুপ্তকে ডাইরেক্টর নির্বাচন করা হয়। এ সময় লভ্যাংশ নীতি নির্ধারনের মাধ্যমে শাহনাওয়াজ ও অন্য আরেকজন অংশীদার এইচ এম জামিল প্র্যতেকে শতকরা ৪৫ শতাংশ এবং পার্থ গুপ্তকে শতকরা ১০ শতাংশ লভ্যাংশ বন্টনের কথা উল্লেখ করা হয়। পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠনের পর এ প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৮০ শতাংশ রোগী সংগ্রহ করেন পার্থ গুপ্ত। তার মেধা ও দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটিকে অগ্রগামী ও জনপ্রিয় করে তোলেন, কিন্তু কাজের তুলনায় তার লভ্যাংশের পরিমাণ খুবই কম। পার্থ বুঝতে পারেন তিনি যে পরিমাণ পরিশ্রম করছেন সে তুলনায় তার অর্থ অর্জন হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছিলেন পার্থ। এমন সময় শাহনাওয়াজের প্রতারণার ফাঁদে পড়েন পার্থ। ২০২০ সালের মার্চে মার্কিন ব্যবসায়ী ম্যারিয়েন হার্নেনের কাছ থেকে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার যৌথভাবে কেনার জন্য প্রথম কিস্তিতে পার্থের কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরো ৫১ হাজার ডলার নেন শাহনাওয়াজ। মৌখিক চুক্তি মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ব্যাংক একাউন্টসহ অন্য কোন দাপ্তরিক কাজে পার্থের নাম সংযুক্ত করার কথা থাকলেও তা করেননি শাহনাওয়াজ।

এ নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন পার্থ। আজ হবে কাল হবে সময় কাটান শাহনাওয়াজ। গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার ইঙ্ক চালুর আগে এ প্রতিষ্ঠানে শাহ নেওয়াজ প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং পার্থ গুপ্তকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এক মাসের মাথায় পার্থের অগোচরে শাহ নেওয়াজ অত্যন্ত সুকৌশলে তার স্ত্রী আমেনা নাওয়াজ ওরফে রানো নাওয়াজকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেন। এতে আপত্তি করেও পার্থ কোন ফল পায়নি। পার্থ গুপ্তকে ২৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেবার কথা বলেন শাহনাওয়াজ। কিন্তু সুকৌশলে স্ত্রীকে পরিচালনা পরিষদে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দিয়ে আমেনা নাওয়াজকে ২০ শতাংশ, পার্থ গুপ্তকে ২০ শতাংশ আর শাহনাওয়াজ শতকরা ৬০ শতাংশ লভ্যাংশ নেবার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই শাহনাওয়াজের প্রতারণার শিকার হন পার্থ। ব্যবসা পুরোপুরি চালু হলেও শাহনাওয়াজ কোন হিসাব-নিকেশ দিতেন না পার্থকে। এ প্রতিষ্ঠানেও পার্থ শতকরা ৮০ শতাংশ রোগী সংগ্রহ করেন এবং ৭৬ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেন।

গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারে শাহনাওয়াজ কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে পার্থের অংশীদারিত্ব অর্থের পরিমাণই বেশি এবং লভ্যাংশ কম। এসব নানা বিষয় নিয়ে উভয়ের মাঝে দ্বন্দ্ব ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন কোন কথাবার্তাও হয়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে, নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নামে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণ পেতে শুরু করেছে। খবর পেয়ে বেঙ্গল হোম কেয়ার ইঙ্ক ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার ইঙ্ক পিপিপি ঋণ পেয়েছে কিনা শাহনাওয়াজের কাছে জানতে চান পার্থ। জবাবে তিনি বলেন এখনও আবেদন করা হয় নাই। চলতি বছরের ১৯ মে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ৩১ জন কর্মচারির বিপরীতে ৮০ হাজার ৬৯০ ডলার এবং বেঙ্গল হোম কেয়ার ইঙ্কের ১০৯ জন কর্মচারি দেখিয়ে তাদের বিপরীতে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯ ডলার পিপিপি ঋণ বরাদ্দের অনুমোদন পান।

ঋণ অনুমোদনের চিঠি পাবার পর হটাৎ করেই শাহনাওয়াজ পার্থকে বলেন, অপর অংশীদার এইচ এম জামিলের সাথে ইচ্ছাকৃত ঝগড়ায় লিপ্ত হতে। তখনও পার্থ জানেন না তাদের প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদনের কথা। অন্য অংশীদারের সাথে পার্থের ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে শাহনাওয়াজ গোপনে তার সাথে যুক্তি করে বেঙ্গল হোম কেয়ারের পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণের অর্থ সিটি ব্যাংক থেকে তুলে শাহনাওয়াজ ও এইচ এম জামিল দু'জনেই ভাগ করে নেন। বেঙ্গল হোম কেয়ারের এ অর্থের লভ্যাংশ থেকে পার্থ গুপ্তকে বঞ্চিত করার জন্য শাহনাওয়াজ নতুন এ কৌশল অবলম্বন করেন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের মে মাসে বেঙ্গল হোম কেয়ারের ঋণের অর্থ তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হবার পর গত ৭ জুন বেঙ্গল হোম কেয়ার পূর্বের মালিক এইচ এম জামিলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন পার্থ ও শাহনাওয়াজ।

(বিপি/এসপি/জানুয়ারি ১৪, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৯ জানুয়ারি ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test