E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

চাঁদে বাগান করবে চীন

২০১৮ জানুয়ারি ১০ ১৫:২১:৩১
চাঁদে বাগান করবে চীন

বিজ্ঞান ডেস্ক : মহাকাশ গবেষণা নিয়ে চলতি বছর চীনের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা নাসা’র চাঁদ নিয়ে আগ্রহের ঘাটতি থাকলেও চীন রহস্যময় কারণে এব্যাপারে উঠেপড়ে লেগেছে। শনিবার বিজ্ঞান ভিত্তিক অনলাইন সায়েন্স এলার্ট এক প্রতিবেদনে দাবি করে, চাঁদ নিয়ে খুব শীঘ্রই নতুন অভিযান শুরু করতে চলেছে চীন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবছরই চাঁদে বিশেষ নভোযান পাঠাবে বিশ্বের অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা দেশটি। যেখানে থাকবে পৃথিবী থেকে পাঠানো নানা উদ্ভিদ এবং কীট-পতঙ্গ। চাঁদে উদ্ভিদ রোপন এবং কঠিন অবস্থায় টিকে থাকতে সক্ষম নানা কীটও সেখানে ছেড়ে দেয়া হবে।

আসছে জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে পৃথিবীর মানুষের চোখে সবচেয়ে বড় আকারে দেখা দেবে চাঁদ। ওইদিন অর্থাৎ জানুয়ারি’র ৩১ তারিখে দেখা যাবে দুর্লভ নীল চাঁদ। যাকে বিজ্ঞানীরা সুপার ব্লু মুন বলছেন। একসময় সেটি নাকি লাল বর্ণের হবে বলেও কারও কারও দাবি।

এবছর শুধু যে সুপার মুনের মতো মহাজাগতিক ঘটনারই স্বাক্ষী হবেন পৃথিবীবাসী, তা কিন্তু নয়! দুটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণও দেখার সুযোগ ঘটবে। তবে পৃথিবীর বুকে বসে চাঁদের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে সন্তুষ্ট নয় চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা পৃথিবীর উপগ্রহে বসবাসের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয় কিনা সেই স্বপ্ন দেখছেন।

চীনের বিজ্ঞানীদের মতো অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষকেরা এতটা আগ্রহী নন! তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খেয়ালের বশে হোক বা না হোক, চাঁদ নিয়ে মাথা ঘামাতে দেশটির বিজ্ঞানীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

অবশ্য দেশটির বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেস এক্স চাঁদ নিয়ে গত ক’বছর ধরেই বেশ আগ্রহী। তারা চাঁদে বেসরকারি ভাবে পর্যটক পাঠাতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীনে বিশ্বের বৃহত্তম মানমন্দির স্থাপনের পর মঙ্গলসহ বিভিন্ন গ্রহে অভিযান চালাতে আগ্রহী। তবে চাঁদের প্রতিই তাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরই নাকি চাঁদে অন্তত ৪টি অভিযান পরিচালনা করবে চীন।

চীনের সংস্কৃতিতে চাঁদকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। একমাত্র চীনেই সবচেয়ে ঘটা করে চন্দ্র বছর বা Lunar Year উৎযাপন করা হয়ে থাকে। অবশ্য বৌদ্ধ প্রধান রাষ্ট্রগুলো অর্থাৎ জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের মতো দেশেও চন্দ্র বছরের গুরুত্ব অনেক।

সেসব দেশও চন্দ্র বছরকে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে উৎযাপন করে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদের অদেখা অংশে অভিযান তো আছেই চলতি বছরের মার্চে উদ্ভিদ ও কীট-পতঙ্গসহ বিশেষ রকেট পাঠাবে চীন।

তবে চাঁদে এই অভিযান শুরু হতে মাস ছয়েক সময় লেগে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চাঁদে অবতরণসহ উদ্ভিদ রোপনের সব আয়োজন শেষ করতেই এই সময়টুকুর প্রয়োজন হবে।

অ্যালুমিনিয়ামের বাক্সের ভেতরে বিশেষ ভাবে সেসব উদ্ভিদ ও কীট রাখা হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে চাঁদে উদ্ভিদ নিয়ে যাওয়া হলেও যেখানে সেখানে তা রোপন করা হবে না। চীনের পাঠানো বিশেষ রোবটযান মাটি পরীক্ষা করে তবেই ক্রমান্বয়ে উদ্ভিদগুলো রোপন করবে।

ওই অ্যালুমিনিয়ামের বাক্সের ডিজাইনার ঝাং উয়াংঝুন দেশটির সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি’কে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, চাঁদে বিশেষ ওই বাক্সে কন্দ ও ফুল জাতীয় উদ্ভিদ নেয়া হবে। সেই সঙ্গে থাকবে অঙ্কুরোদ্গমের উপযোগী বিভিন্ন বীজ। চাঁদে বাস্তুগত পরিবেশ বা ecosystem সৃষ্টি করা যায় কিনা সেই উদ্দেশ্যেই এমন অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চাঁদ শুষ্ক বলে দীর্ঘদিন মনে করা হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। তারা জেনেছেন, চাঁদে প্রাণী থাক বা নাই থাক উপগ্রহটিতে পানি রয়েছে। ফলে সেখানে প্রাণের সঞ্চার যে ঘটানো সম্ভব এমন আশা চীনের বিজ্ঞানীরা করতেই পারেন।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১০, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

১৪ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test