E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

শিক্ষকদের হামলায় রক্তাক্ত অধ্যক্ষ

২০১৪ মার্চ ১২ ২০:০৮:৩৮
শিক্ষকদের হামলায় রক্তাক্ত অধ্যক্ষ

লালমনিরহাট: আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমের ওপর হামলা চালিয়েছে ক্ষুব্ধ কয়েকজন শিক্ষক।

 

বুধবার দুপুরে কলেজ চলাকালিন অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ হামলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

 

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ পদ নিয়ে শিক্ষকদের দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে দুপুরে মহিষখোচা উচ্চ বিদালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমের ওপর হামলা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, প্রভাষক আতাউর রহমান, সহকারী শিক্ষক ছমির উদ্দিনসহ সাতজন অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ঘটনার সময় শিক্ষকরা আলমারীর চাবি চাইলে অধ্যক্ষ অসম্মতি জানালে তারা চড়াও হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে অধ্যক্ষের ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে যায় এবং গলায় প্রচণ্ড আঘাত পান। তারা অধ্যক্ষকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের ৬ নং কেবিনে ভর্তি করান।

প্রভাষক বীনাপানি রায় জানান, কলেজের একটি গ্রুপ অধ্যক্ষ হতে না পেরে বর্তমান অধ্যক্ষকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে।

উপস্থিত শিক্ষক কর্মচারীরা জানান, সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুর রহমান অবসর নেয়ার পর সেই পদে নিয়োগ নিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। পরবর্তিতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন সহকারী অধ্যাপক শরওয়ার আলমকে। এরপর থেকে শিক্ষক কর্মচারীরা দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

রবিউল গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের কমিটির ওপর হাইকোর্টে মামলা করে কমিটির কার্যক্রম স্থবির করে দেন। ফলে ভেঙে পড়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। এ সুযোগে প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুর রহমান কলেজের হিসাব বুঝিয়া না দিয়ে রবিউল গ্রুপে নেতৃত্ব দেন।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম ইকবাল জানান, খবর পেয়ে আমরা অধ্যক্ষকে উদ্ধার করেছি। মামলা দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রেজাউল আলম সরকার জানান, অধ্যক্ষের মোবাইল ম্যাসেজে কলেজে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অধ্যক্ষের চিকিৎসা চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আহত অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম জানান, ওই শিক্ষকরা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ঘায়েল করতে ব্যর্থ হয়ে অস্ত্রের নগ্ন হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাঠকের মতামত:

২১ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test