Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে যা খাবেন

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১০ ১৮:২৬:১৫
শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে যা খাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান। এর অভাবে শরীরে অনেকরকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাংসপেশী সংকুচিত হওয়া, হাড়ে ভঙ্গুরতা, খাদ্য গ্রহণে অরুচি, হার্টে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি আরও নানা রকম সমস্যা বাসা বাঁধে শরীরে। ক্যালসিয়াম শরীরে শক্তি যোগায় এবং এটি হাড় গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম না পেলে শরীর দুর্বল হয়ে হাড় ভঙ্গুরতার মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়।

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ:

* ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়। রিকেট রোগের কারণে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড়ের ক্ষতি করে।

* ক্যালসিয়ামের দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা দীর্ঘস্থায়ী ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারেন। মেয়েদের মনোপোজের (ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ।

* ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়।

* ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়।

মানবদেহে ক্যালসিয়ামের কাজ:

* ফসফরাসের সহযোগিতায় শরীরের কাঠামো, হাঁড় ও দাঁত গঠন এবং তা মজবুত করে।
* প্রতিটি জীব কোষ গঠনে এর প্রয়োজন।

* রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদান।
* হৃৎপিন্ডের সংকোচন, প্রসারণ এবং হৃৎপিন্ডে স্পন্দনে সাহায্য করে।

ক্যালসিয়ামের উৎস:

প্রাণিজ উৎস: ছোট চিংড়ি, ছোট মাছের কাঁটা, নরম হাঁড়, দুধ ও দুধজাত খাবার।

উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, ঢেঁড়স, সজনে এবং সবুজ শাক যেমন-কচু শাক, পালং শাক ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করতে খাবার এই খাবারগুলো রাখুন খাবারের তালিকায়-

মাছ : প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন জাতীয় মাছে অর্থাত্ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। বিশেষ করে একটুকরো সার্ডিন মাছে প্রায় ৫৬৯ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া, কাঁটা সমেত যে কোনও মাছেই এই মিনারেলস মিলবে।

বিনস: রাজমা, রেড বিনস সহ যেকোনো ধরণের বিন জাতীয় সবজি খান। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে।

ডুমুর: এই ফলে যেমন আয়রন থাকে প্রচুর তেমনি থাকে ক্যালসিয়াম। এক কাপ ডুমুরে প্রায় ২৪২ গ্রাম ক্যালসিয়াম মেলে। একইসঙ্গে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। পেশী মজবুত করে।

কমলা: ভিটামিন সি আর ক্যালসিয়ামের দুর্দান্ত কম্বিনেশন কমলা। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম। এতেও ভিটামিন ডি প্রচুর পাবেন।

সোয়া মিল্ক: ল্যাকটোজ যাদের সহ্য হয় না, তাদের জন্য সোয়া মিল্ক খুবই উপকারী। এমনকী গরুর দুধের থেকেও বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে এতে। এককাপ দুধে প্রায় ৬০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। আর থাকে ভিটামিন ডি। যা ক্যালসিয়ামকে শরীরের উপকারী যৌগ হিসেবে তৈরি করতে সাহায্য করে।

আমন্ড: ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এতে প্রচুর প্রোটিনও থাকে। এক কাপ আমন্ড-এ ৪৫৭ গ্রাম এই খনিজটি থাকে। দাঁত ও হাড় শক্ত করার সঙ্গে হৃদরোগ কমায়। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন এক গ্লাস করে আমন্ড দুধ তাই আপনার জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া কেউ চাইলে রোজ একমুঠো আমন্ড এমনি খেতে পারেন। এতেও উপকার পাবেন।

সবুজ শাক-সবজি: বেশিরভাগ সবুজ শাক-সবজিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এক আটি শাকে থাকে ৩৩৬ মিগ্রা খনিজ। তাই পাতে পড়ুক পালং শাক, ব্রোকলি, বাঁধাকপি, সেলারি।

ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি-এর অভাবে ক্যালসিয়াম কাজ করে না আমাদের শরীরে। তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং সূর্যালোকে বের হওয়া খুব দরকার।

(ওএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test