Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

এডিসই ডেঙ্গু ভাইরাসের উত্তরাধিকার দেয়

২০১৯ নভেম্বর ২৭ ১৮:১৬:৩২
এডিসই ডেঙ্গু ভাইরাসের উত্তরাধিকার দেয়

নিউজ ডেস্ক : অ্যানোফিলিস বিপজ্জনক। কিউলেক্সও। তবে এডিসের মতো কেউ নয়। কারণ, অ্যানোফিলিস বা কিউলেক্স জন্মসূত্রে বাচ্চার মধ্যে ম্যালেরিয়া বা ফাইলেরিয়া ছড়াতে পারে না। একমাত্র এডিসই ডেঙ্গু ভাইরাসের উত্তরাধিকার দিয়ে যায়।

শুধু পানি নয়, শুকনো জায়গাতেও এডিসের ডিম এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। একই সঙ্গে পানি এবং ডাঙায় মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংস করতে না পারলে ডেঙ্গুর এই রমরমা চলতেই থাকবে বলে আশঙ্কা পতঙ্গবিদদের।

বিজ্ঞানীদের মতে, স্ত্রী এডিসই একমাত্র মশা যার শরীরে একবার ডেঙ্গু ভাইরাস ঢুকলে সে সারা জীবন তা বহন তো করেই, উপরন্তু পরবর্তী প্রজন্মেও সেই ভাইরাস দিয়ে যায়। সাধারণত মানুষ থেকে মশা বা মশা থেকে মানুষ— ডেঙ্গু সংক্রমণের চক্র এটিই। মানুষকে এ ক্ষেত্রে ‘রিজার্ভার’ বা আধার এবং মশাকে ‘ট্রান্সমিটার’ বা বাহক বলা হয়। কিন্তু মা মশার শরীরে যদি একবার ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে, তা হলে সেই ভাইরাস ডিম, লার্ভার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে পরিণত মশার শরীরেও ঢুকে যায়।

স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মেডিকেল এন্টোমোলজির সাবেক প্রধান হিরন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এডিস মশার আর ডেঙ্গু ভাইরাসের জন্য কোনও মানুষকে কামড়ানোর বা কোনও ‘আধার’-এর প্রয়োজন হয় না। জন্মমাত্রই সেই মশা ‘রিজার্ভার’-এ পরিণত হয়। পরবর্তী প্রজন্মে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার এই বৈশিষ্ট্যকে বলে ‘ট্রান্সওভারিয়াল ট্রান্সমিশন’। ম্যালেরিয়া ছড়ানোর ক্ষেত্রে অ্যানোফিলিস বা ফাইলেরিয়া ছড়ানোয় কিউলেক্স মশার এই ক্ষমতা নেই। তাই ডেঙ্গু এতটা বিপজ্জনক।’

ট্রপিক্যালের সাবেক কর্মকর্তা, পতঙ্গবিদ অমিয়কুমার হাটিও বলছেন, ‘মা মশার থেকে ডেঙ্গু পেলে পরবর্তী প্রজন্ম জন্মের গোড়া থেকেই ডেঙ্গু ছড়াতে সক্ষম।’

পতঙ্গবিদদের মতে, ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পরেই সংশ্লিষ্ট মশা কোনও মানুষকে কামড়ালে তার ডেঙ্গু হবে না। কারণ, ডেঙ্গু ভাইরাস মশার শরীরের সমস্ত কোষে বৃদ্ধি পেতে গড়ে ১০ দিন সময় নেয়। ১০ দিন পরে ওই ভাইরাস মশার লালাগ্রন্থিতে জমা হয়। তারপর থেকে যতবার সংশ্লিষ্ট মশা মানুষকে কামড়াবে, ততবার সে ডেঙ্গু ছড়াতে পারবে।

মশা একবার পেট ভরে রক্ত খেলে ডিম পাড়া পর্যন্ত সে আর রক্ত খায় না। রক্ত খাওয়ার তিন-চার দিন পরে সে ডিম পাড়বে। ডিম পেড়ে পেট খালি হলে আবার মশাটি রক্ত খায়। মা মশার শরীরে সেই ভাইরাস থাকলে ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ডিমে চলে যাবে।

কলকাতা পৌরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস জানান, এডিস মশা অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্সের থেকে বেশি সহনশীল ও শক্তিশালী। তাদের ডিম এক থেকে তিন বছর পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। তার কথায়, এডিস মশা একই সঙ্গে অনেকের রক্ত খায়।

(ওএস/এসপি/নভেম্বর ২৭, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test