E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

ফরিদপুরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, স্যালাইন সংকট 

২০২৩ নভেম্বর ২৪ ১৮:২৩:২৯
ফরিদপুরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, স্যালাইন সংকট 

দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : ফরিদপুরে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা; আক্রান্তদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। এ অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে শয্যা ও স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহতের পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধক আইভি স্যালাইন বাজারেও মিলছে না বলে জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সংকট নিরসনে চলতি মৌসুমে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাছে সাত হাজার কলেরা স্যালাইনের চাহিদা পাঠানো হলে, সেখানে মাত্র এক হাজার ২০০ স্যালাইন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি জানান, গত ১২ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছয় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা না পেয়ে অনেকেই ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে শুয়ে-বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু রোগীদের এক শয্যায় দুই থেকে তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে পঞ্চাশের অধিক ডায়রিয়া রোগী।

বৃহস্পতিবার ১০ বেডে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৫৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দার ফ্লোরে রাখা হয়েছে। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে স্যালাইন সংকট।

একদিকে বাজারে ওষুধের দোকানেও মিলছে না কলেরার স্যালাইন। যা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও নেওয়া হচ্ছে বেশি। অনেক রোগীর স্বজনরা বেশি দাম দিয়েও পাচ্ছেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত স্যালাইন।

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা গোস্বামী বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম চিকিৎসা সেবা, সেখানে সদর হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন থাকবে না, এটা হতে পারে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কর্তৃপক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে সাত হাজার কলেরা স্যালাইনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় যার বিপরীতে এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে ১২০০। সম্প্রতি ডারিয়া রোগী বেড়ে গেলে ১৬ নভেম্বর স্যালাইন চাওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তবে সংকট নিরসনে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধার করে ৫০০ স্যালাইন আনা হয়েছে।

এদিকে সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, বাজার থেকে টাকা দিয়েও স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। যদিওবা মেলে তার দাম বেশি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন শহরের শোভারামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের পরিবার। প্রথমে জলিলের স্ত্রী কলেরায় আক্রান্ত হয়। এরপর জলিলের ছেলের বউ। শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

দিনমজুর জলিল বলেন, “দুই দিন হয় তাদের ভর্তি করিয়েছি। দুই রোগীর প্রতিদিন তিনটা করে স্যালাইন প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটির বেশি দিতে পারছে না।

“নিরুপায় হয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করে বাইরে দোকান থেকে একটি স্যালাইন কিনতে সাড়ে ৩০০ টাকা গুণতে হচ্ছে। তাও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।”

তার মতো এই হাসপাতালে আসা অনেকেই স্যালাইন সংকটে ভুগছেন বলে জানান তিনি।

শয্যা ও স্যালাইন সংকটের কথা স্বীকার করে ফরিদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা গনেশ কুমার আগরওয়ালা বলেন, “এই মুহূর্তে রোগীদের সচেতনতার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ অনেক বেশি, সেই তুলনায় স্যালাইন সংকট প্রচুর।”

রোগীর চাপ যদি স্বাভাবিক না হয়; আর সময় মতো স্যালাইন না পাওয়া গেলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “স্যালাইন সংকট সাময়িক। সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর হার বেশি হওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বেশি স্যালাইন প্রস্তুত করছে।

“আমরা আমাদের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই চাহিদা অনুপাতে স্যালাইন পেয়ে যাব।”

শীত আগমনের কারণে দিনে গরম রাতে ঠাণ্ডা, তাপমাত্রার এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই ডায়রিয়ার আক্রান্তের হার বাড়ছে। শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।

(ডিসি/এসপি/নভেম্বর ২৪, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test