E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

‘অামি বইয়ের কাছে ঋণী’

২০১৮ মে ১৩ ১৯:৪৫:১৯
‘অামি বইয়ের কাছে ঋণী’

সাহিত্যের ছোট কাগজ ম এর সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। যার ধ্যান-জ্ঞান -প্রেম বই। বই বই এবং বই। লেখালেখি যার মজ্জাগত। এমন শান্তিপ্রিয় বিদ্যাপিপাসু মানুষ ও লেখক এর লেখা চিরঞ্জীব হয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের মাঝে। এই শুভ কামনায় আলাপচারিতা...

● মৌসুমী রহমান : পড়ন্ত বিকেল। পাখিদের নীড়ে ফেরার তাড়া। তাড়া সূর্যদেবের, চাঁদদেবীর পাড়ায় যাবার। কী ভাবছেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : অালাপনের জন্য এমন একটা সময় বেছে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। সুন্দর; দিন শেষে ডানায় ক্লান্তি নামে, মন ছোটে ছোট্ট বাসার দিকে--শরীর এলিয়ে দিতে হবে, আহারে কচি কচি বাচ্চা দুটো না--জানি কেমন করছে, দুপুরের পর থেকে পেটে দানাপানি পড়েনি! মাসুম বিল্লাহও পাখি, ইদানিং খেয়াঘাটে বসে থাকে, কুসুম রঙা র্সূযকে ডুবতে দেখে, পাখিদের নীড়ে ফেরা দেখে...! বসে বসে সে অপেক্ষা করে একজনের জন্য। তারপর 'শে' আসে শ্রান্ত-পায়ে, তারপর দুজন সন্ধ্যার রং সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফেরে...

● মৌসুমী রহমান : ভালে-মন্দ যা-ই ঘটুক। সত্যরে লও সহজে। আপনি কী বলবেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : জীবনের অমোঘ নিয়তি কেউ পাল্টাতে পারে না, বিশেষ করে প্রকৃতির ওপর কারোর হাত নেই। কারণ, প্রকৃতিই সত্য, সত্যই প্রকৃতি। প্রকৃতির খেলা প্রথমেই আমি হাসিমুখে মেনে নিতে শিখেছি। এছাড়াও লালনের কথাটা প্রতিদিন মনে মনে বলি--সত্য বল সু পথে চল ওরে আমার মন...।

● মৌসুমী রহমান : বুকের বাঁ পাশে হাত রাখুন। চোখ বন্ধ করুন। কয়েক সেকেন্ড সময় নিন। ফুসফুস ভরে শ্বাস নিন। এবার দ্বিধা ঝেড়ে বলে ফেলুন--কাকে ফিল করছেন? কী ফিল করছেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : টিক টিক টিক...বেঁচে আছি! আহ্ অথচ একদিন সব থেমে যাবে! সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।

● মৌসুমী রহমান : সবাই এই প্রশ্ন করে সাধারণত প্রথমে। আমি সে পথে যেতে চাইনি। এবার বলুন--কেমন আছেন? ও হ্যাঁ, শুধু বলার জন্যই এক শব্দে দায় সারবেন না। যদিও জানি দায়সারার লোক আপনি নন। কয়েক লাইনে সবিশেষ বলবেন।
●● মাসুম বিল্লাহ : আমি তো খারাপ থাকার লোক না। কার সাধ্য আমাকে খারাপ রাখে! আমাকে যারা চেনে, জানে তারা এ প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারলে ভালো হত। আমি ভালো আছি। ভালো থাকা আমার স্বভাবে। কিন্তু ভাই, পরিবেশ, সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র আমাকে ত্যক্ত করে! নানান প্রশ্ন করে। তাদের টেনশন দেখে আমার চিন্তা হয়। ইচ্ছে হয়, তাদের মাথা টিপে দিয়ে আসি। অারাম হোক। আপনার মনে আছে হয়ত, মাসুম বিল্লাহ হুট করে লিখে ফেলেছিল--‘আমার যা আছে অন্যদের তা নেই, অন্যদের যা আছে তা আমার দরকার নেই। এটাই আমার সুখে থাকার গল্প।’

● মৌসুমী রহমান : দিন-রাত। কোনটা বেশি ভালো লাগে? বিশেষ করে কোন সময়? কেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : সময়ভেদে ভালোলাগা-মন্দলাগা ছিল। স্কুলবেলায় রাত এলে রাগ হত, ভাবতাম, কখন সকাল হবে। এখন দিন-রাত সমান লাগে। বয়সের ব্যাপার-স্যাপার এবং কাজের পরিধির ব্যাপার তো।
● মৌসুমী রহমান : সরল মানুষ সয় বেশি। রাগে কম। রাগলে ভীষণ! আপনার বেলায়?
●● মাসুম বিল্লাহ : আমার রাগ বেশি। বয়সের কারণে কমেছে এখন। বাইরে রাগি না। ঘর ও ঘরের মানুষদের ওপরই যত চোটপাট। হা হা হা।

● মৌসুমী রহমান : কেউ ভাবনায় গোছানো। কেউ কথায়। কেউ লেখায়। আপনি লেখায় গোছানো জানি। কোনটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? কীসে অগোছালো?
●● মাসুম বিল্লাহ : গোছানো স্বভাব। কথাও গুছিয়ে বলতে পারি বলে মনে হয়। এবং দ্রুতই কথা বলি। আমার গোছানো স্বভাব দিয়ে আমি ধন-সম্পদ বা বাহিক্য কিছু পারিনি। তবে যখন যা করেছি তা গোছানোই ছিল। সে ছাপ আমি রাখতে পেরেছি।

● মৌসুমী রহমান : ছেলেবেলার স্মৃতি শেয়ার করুন। যা আপনাকে বিশেষ করে নস্টালজিক করে।
●● মাসুম বিল্লাহ : গল্প তো অনেক। ফসল, ফসলের মাঠ, আমাদের নদী-খাল-বিলের মাছ, নানাবাড়িতে কাটানো ছেলেবেলা এখনো আমি হাতড়ে বেড়াই। নানির কোলে শুয়ে গল্পশোনার দিনগুলোতে ফিরতে চাই। সেসময়ের ইলিশ মাছ খুঁজি। সে স্বাদ খুঁজি। ঘ্রাণ খুঁজি। পাই না।

● মৌসুমী রহমান : ‘সুবাইতার আম্মু’ আমাদের কাছে পরিচিতজন, আপনজন। কবে কখন তার প্রেমে পড়েছিলেন? আপনার জীবনে তার অবদান সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন!
●● মাসুম বিল্লাহ : আমার একথা ভাবতে ভালো লাগে যে, সুবাইতার আম্মুকে আপনারা ভালোবাসেন।... প্রেমে পড়ার গল্প তো একটু লম্বাই। যে গল্প আমি সবসময় বলতে চাই, বেশ আয়েশ ও আগ্রহ নিয়েই বলতে চাই। কিন্তু বলার মতো, শোনার মতো মানুষ পাই না। হয়ত অনেকে বলবে, সব কথা এত ঘটা করে বলতে হবে কেন? আমি অবশ্য এসব নিয়ে মোটেও ভাবি না। অল্প করে বলি, সুবাইতার আম্মুর একটা ছবি দেখেই মন বলে ওঠে, এ মেয়েটি আলাদা। সুন্দর। এ মেয়েটি যদি আমাকে বিয়ে করত! কিন্তু ওর পরিচয়, ঠিকানা কিছু জানি না তখন। হতাশ লাগল। কিছুদিন পর, কাকতালীয়ভাবে ফোনে একটা মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। পাত্তা দেয় না। শেষে পাত্তা দেয়। পরে একদিন জানলাম, এই সেই মেয়ে, যার ছবি দেখে আমার ভালো লেগেছিল। জীবন বড় অদ্ভুত! আমি ভাগ্যবান, পরীর মতো মেয়েটা এখন আমার সঙ্গে আষ্ঠেপিষ্ঠে জড়িয়ে থাকে। ‘প্রেম অথবা ঘুমের গল্প’ বইয়ের উৎসর্গ পাতায় লিখেছিলাম--তুমি ভালো না বাসলে, ছায়াসঙ্গী না হলে--আমাকে হয়ত চিরকাল একাই থাকতে হতো। ভাগ্যিস তা হয়নি।

● মৌসুমী রহমান : ‘একজন মাসুম বিল্লাহ’ হয়ে ওঠার গল্প বলুন--
●● মাসুম বিল্লাহ : আমি সবসময় একটা কথা বলি--‘মাসুম বিল্লাহ’ কোটি কোটি। সুন্দর একটা নাম। সুন্দর অর্থ। আর এ মানুষগুলো খারাপ না। সেকারণেই হয়ত নামটার এত কদর। এটুকুতেই আমি সার্থক, খুশি। আমার কখনো কিছু হতে ইচ্ছে করেনি। আমার কখনো কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ঠিক সেকারণেই আমি আর দশটা মানুষের মতো কোনো হতে পারেনি। ভেঙে বললে বলতে হয়, আমি কোনো পদে আধিষ্ঠ নই। আবার আলাদা করে কিছু হতে পারিনি। এই যে, কিছু পারি না, হইনি, জানেন এত আমার কিন্তু কোনো ভাবনা নেই। আনন্দ নিয়ে, আপনখুশিতে বেঁচে আছি, এই আমার তৃপ্তি। আমি জানি, এখন আপনি বলবেন, এই যে, আমি টুকটাক লিখেন দেখি ফেসবুকে, পত্রিকার পাতায়, বইও বের করেছেন! বললে কি বিশ্বাস করবেন, এটা আমার কাছে কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি, এখনো না। যদি মনে হতো, তাহলে আমার কথায়, আচরণে তা প্রকাশ পেত। আর যদি পেত তাহলে হয়ত সত্যিই আলাদা করে মাসুম বিল্লাহ হয়ে উঠতাম। হয়ে উঠিনি বলেই মনে হয়।

● মৌসুমী রহমান : ধরা হয়, আপনার সৃষ্ট উপন্যাস ‘অবুঝ সেফটিপিন’ এর অর্কের মতই মাসুম বিল্লাহর চরিত্রবিচিত্র, স্বচ্ছ, সরলপনা, খেয়ালি, সুদূর কল্পনাবিলাসী! শোনা যাক আপনি কী বলেন নিজের সম্পর্কে...
●● মাসুম বিল্লাহ : আমি তো আমার প্রথম উপন্যাস (শিশুতোষ) ‘ভূতু’র মতোও। ভূতুর মতো চলোন-বলোন, চিন্তা-চেতনা। হ্যাঁ অর্কের মতো বই নিয়ে ভাবি, মনে হয়, সুংসং নগরের কোল ঘেঁষে ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে জীবন কাটিয়ে দিতে পারলে আমি আরো সুখি হতে পারতাম। উঁচু অট্টালিকায় শুয়ে চাঁদ দেখার স্বপ্ন কখনো দেখিনি। ও আমার স্বভাবে নেই। এই প্রসঙ্গে সুবাইতার আম্মুর একটা কথা কোট করতে পারি : "দুনিয়ার এই একজন মানুষ যার টাকার প্রতি কোনো লোভ নেই। যে টাকা চায় না। কেন চায় না!" কথাটা ও প্রায়শ বলে--রাগে, ক্ষোভে। তবে আমি জানি, সে আমার এ অক্ষমতাকেও ভালোবাসে। গান শুনতে শুনতে একসময় আমি দিন পার করেছি, বয়স ও সময়ের কারণে এখন ওরকম করি না। বই পড়তে পড়তে রাত হতো, এখন হয় না। এক কথায় বলি--আমার মতো স্বভাব আমি আর কারোর মধ্যে পুরোপুরি দেখিনি। সেকারণে যেমন ভালো লাগে, তেমনি খারাপও লাগে মাঝেমাঝে, ইশ্ অন্যদের মতো একটু হলে পারতাম। কিন্তু ওসব যে আমার স্বভাবে নেই। কেন নেই? এ প্রশ্নটা আমারও।

● মৌসুমী রহমান : আপনি মুভি দেখতে বেশ পছন্দ করেন। আপনার দেখা এখন পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ মুভির নাম?
●● মাসুম বিল্লাহ : খুব খুব পছন্দ করি। না-বোঝার বয়সে মায়ের কোলে বসে সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছি। তারপর বুঝ হওয়ার পরে মাকেই বলতাম, চলেন সিনেমা দেখতে যাই। আম্মা আর আমি অনেক সিনেমা দেখেছি। পরে এ দেখায় ছেদ পড়ে। সিনেমা দেখার সে পরিবেশ বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেল। হারিয়ে গেল আমাদের মধ্যবিত্ত দর্শক। সে দায় আমরা কোনোদিনও শোধ করতে পারব না। এখন আর সিনেমা হলে তেমন যাই না। কিন্তু যেতে মন চায়। আগের মতো। তবে আমার প্রিয় নায়কও এখন আর নায়ক নন। এখন পেনড্রাইভে করে সিনেমা আনি। তারপর টিভির পিছনে দিয়ে দেখি। দেশ-বিদেশের নানার ভাষার, নানার টাইপের সিনেমা। সিনেমার ভাষা নিয়ে আমার সমস্যা হয় না। মালায়লালাম, দক্ষিণ কোরিয়ার মুভিগুলো দেখার সময়ও আমার সমস্যা হয় না। অনেকে বলে, কি বলে, বোঝেন? আমি বলি, খুব বুঝি। মানুষের মুখের ভাষা আলাদা হলেও আচরণ, আবেগ, ভাব, হাসি, কান্না, ভালোবাসা, বিরহ, বেদনার ভাষা সবার এক। কাজ বা অবসর কোনােটাই আমার সিনেমা দেখা, নাটক দেখা, বইপড়া, সংসার আমার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শত ব্যস্ত থাকলেও ঠিকই সময় বের করে ফেলি। এ প্রসঙ্গে একটা কথা না-বলে পারছি না, আমরা বড্ড অজুহাত দেই। যারা দেয় তারা ফাঁকিবাজ। দুই একটা প্রিয় সিনেমার নাম বলা মুশকিল। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সফল সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ও আমার প্রিয় সিনেমা। যদি তাই না হবে, তাহলে কোটি কোটি মানুষ এ সিনেমা দিনের পর দিন এভাবে দেখতে না। কলকাতার ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ সিনেমাটাও আমার খুব প্রিয়। আরো অনেক অনেক সিনেমা আছে। যার কিছু প্রকাশ বা চিহ্ন আমি আমার ফেসবুকের টাইমলাইনে রেখে দিয়েছি।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন! সেটা আমরা জানি। তার অভিনীত প্রিয় ছবি? কেন প্রিয়?
●● মাসুম বিল্লাহ : প্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে আমার লম্বা গল্প। সবটুকু এখানে বলে শেষ করতে পারব না। আগেই বলেছি আম্মার সঙ্গে সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছি, তখন প্রায় ডজন খানেক নায়ক-নায়িকা ছিলেন, যারা সবাই জনপ্রিয়। সবার সিনেমাই দেখতাম। তবে মজার ব্যাপার হলো, কিছুদিন পর আমি আম্মাকে বলেছিলাম, আম্মা, ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমা ছাড়া দেখব না। ওইটুকুন ছেলে আমি, অত কী বুঝি! হ্যাঁ, আমি বুঝেছিলাম, বেশ বুঝেছিলাম, কাঞ্চনের প্রেমে মজে ছিলাম। ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলাদেশের সেরা নায়ক, এক নম্বর নায়ক, একমাত্র সুপারস্টার। এটা শুধু আমার কথা নয়, সবার কথা ছিল। কাঞ্চনের কিছু সিনেমা বাদে সব সিনেমাই সুপার হিট। তবে আমার কাছে তার পর্দা উপস্থিতি কখনো খারাপ লাগেনি। তার অভিনয় আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি। প্রিয় ছবির তালিকা অনেক। কয়েকটির কথা বলতে পারি : বসুন্ধারা, ডুমুরের ফুল, শেষ উত্তর, অভিযান, আঁখিমিলন, পরিণীতা, নসীব, ভেজা চোখ, সহযাত্রী, অচেনা, বেদের মেয়ে জোছনা, বেনাম বাদশা, মাটির কসম, সিপাহী'সহ আরো অনেক সিনেমা আছে...। তবে কাঞ্চনের সঙ্গে আমার যে সখ্যতা গড়ে উঠবে কখনো কল্পনাও করিনি। কিন্তু হয়েছে। আমি খুব খুশি।

● মৌসুমী রহমান : আসিফ আকবর। আপনার ভীষণ ভীষণ ভীষণ পছন্দের কণ্ঠশিল্পী। তার সঙ্গে আপনার কখনো বাস্তবে দেখা হয়েছে? তার সঙ্গে বিশেষ স্মৃতি বলুন।
●● মাসুম বিল্লাহ : একটু পেছন থেকে বলি, আমি ছোটবেলা থেকে রেডিও শুনি। শুনি মানে সারাদিন শুনি। গানই শুনতাম। আমার দাদি বিরক্ত। নামাজ পড়ায় গোল বাঁধত। একদিন দাদি রেডিও ভেঙে ফেললেন। যাইহোক, গান শোনার অভ্যাসটা কখনো যাইনি। বরং বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সব শিল্পীকে আমি চিনি। তাদের গান আমার শোনা। কিছু সংগ্রহেও আছে। কমবেশি সবার গানই পছন্দ। শেষমেশ ২০০১ সালে আসিফ এসে অন্যদের পেছনে ফেলে দিল। আমিও বাকিদের কম সময় দিতে শুরু করি। পুরোটা সময় আসিফ নিয়ে নিল। আসিফময় হয়ে উঠল আমার সময়। অনেক অনেক গল্প আছে। আসলে আমার এসব ভালোবাসায় কোনো ফাঁক কখনো রাখিনি। একবার খুলনার বঙ্গবন্ধু কলেজে আসিফ এসেছিল গান গাইতে। গিয়েছিলাম। কি দাপুটে কণ্ঠ। উপভোগ ককরেছিলাম খুব। এরকম মঞ্চ মাতাতে আমি আর কোনো শিল্পীকে দেখিনি। এরপর ঢাকায় আরটিভির একটা অনুষ্ঠানে এক মিনিটের জন্য দেখা। ছবি তোলা। ব্যস। এই। তবে আসিফের সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। বিষয়টা ঠিক লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। আসিফ আমাকে তার অফিসে দাওয়া দিয়েছেন। যেতে ভয় লাগে। তবে ইচ্ছে করেও আগে থেকে কাছে যেতে চাইনি। প্রথম থেকে তার মোবাইল নম্বর আমার কাছে ছিল, আছে, কিন্তু কখনো বিরক্ত করার ইচ্ছে হয়নি। নতুন নম্বর নিয়েছে মাঝে, তারপর সে নিজে আমাকে সে নম্বর দিয়েছে। ভাগ্যবান মনে হয় নিজেকে। আমি খুশি। একবার সে তার এক ভক্তের পোস্টে মন্তব্য করেছিল আমাকে ও আমার লেখা নিয়ে। যা আমার কাছে পরম পাওয়া। হয়ত বিষয়টি অনেকে অন্যচোখে দেখলে বা কিছু ভাবলে আমার যায়-আসে না।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় ফুল নয়, জানতে চাই, কোন ফুলের ঘ্রাণ আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?
●● মাসুম বিল্লাহ : সব ফুলই সুন্দর। ভালো লাগে। বকুল, বেলী, গন্ধরাজের ঘ্রাণে বিমোহিত হই। তবে হাসনাহেনার ঘ্রাণে পাগল হই।

● মৌসুমী রহমান : ছোটবেলায় বড়শিতে মাছ ধরেছেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : দুপুরে ভাত খেয়ে গরম ভাত কচুপাতায় নিয়ে পুকুর পাড়ে বসতাম। বড়শিতে পুটি মাছ ধরেছি। সে দৃশ্য এখনো চোখে লেগে আছে।

● মৌসুমী রহমান : আপনি বই পাগল মানুষ। আপনার সংগ্রহে প্র-চু-র বই। সেই বইগুলোর মধ্যে প্রিয় বই এবং লেখক?
●● মাসুম বিল্লাহ : হ্যাঁ। গরীবের ঘরে বইগুলো ধনী অতিথি আসার মতো। ওদের ঠিক মতো যত্নে রাখতে বা জায়গা দিতে পারছি না। প্রিয় বলেই কিনতাম। অনেক অনেক নাম। যার কিছু প্রকাশ ফেসবুকে এ বছরের মে-জুন মাসে সম্ভব পোস্ট দিয়েছিলাম।

● মৌসুমী রহমান : ২০১৭ সালে কেনা, আপনার পড়া শ্রেষ্ঠ বই কোনটি? কেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : কিনেছি কয়েকটি। পড়েছিও। তবে ‘প্রেম অথবা ঘুমের গল্প’ বইটি পড়ে আমি মোটামুটি তৃপ্তি পেয়েছি। আপনারাও পড়ে দেখতে পারেন। তখন না হয় আমার কথাটার বিচার করবেন। হা হা হা।

● মৌসুমী রহমান : ব্যক্তিজীবনে আপনি কেমন? বইয়ের মত জীবন হলে কেমন হতো? মানে পৃথিবীটা যদি স্বপ্নের দেশ হতো...
●● মাসুম বিল্লাহ : আমি এমনই। যেমন জানেন। এছাড়া যদি আলাদা কিছু থেকে থাকে তা সবারই কম-বেশি থাকে। আমার প্রকাশভঙ্গিটা সহজ-সরল। ভাবধরা বলতে কিছু নেই। খোলা বইয়ের পৃষ্ঠার মতো। সহজে পড়ে ফেলা যায়। এমন। হয়ত একারণেই বুঝে যায়--এ ছেলের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে। তবে এতে আমার বয়েই গেল। আমি অন্যকে সুযোগ দেই কিন্তু সুযোগ নিই না। হ্যাঁ, বইয়ের মতো জীবন কেউ কেউ পছন্দ করে, আমিও। বাস্তবতার বাইরে গিয়ে পথ হাঁটে। হোঁচট খায়। তবে তারা সাহস করে উল্টো পথের যাত্রী হয়। পারলে সবাই এমন চলুক তো। তবে এর হ্যাঁপাও মন্দ নয়। তা ভাই, জীবনের মানেই তো--এই ভালো, এই মন্দ। পুরোপুরি ভালো কিছু নেই। আবার পুরোপুরি মন্দও নেই। আছে আলো। আছে অন্ধকার। নইলে যে জীবন রংহীন হতো। সেটা নিশ্চয়ই ভালো হতো না।

● মৌসুমী রহমান : প্রকৃতি ভালোবাসেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : মুগ্ধতায় ডুবে রই। কিন্তু সাধ্যহীনতার দায়ে প্রকৃতির মাঝে ডুবে থাকতে পারি না। ইট-পাথরের পথে, দেয়ালে বেঁচে আছি।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় ঋতু?
●● মাসুম বিল্লাহ : সব সব। আলাদা আলাদা রূপ। আলাদা রকমের ভালোলাগা।

● মৌসুমী রহমান : ভালো বাসা নাকি ভালোবাসা কোনটা বেশি পছন্দ?
●● মাসুম বিল্লাহ : ভালোবাসা থাকলে কুঁড়ে ঘরও রাজপ্রসাদ হয়ে যায়।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় খাবার?
●● মাসুম বিল্লাহ : ঘরে রান্না করা সব খাবারই আমি তৃপ্তি ও আগ্রহ নিয়ে খাই। মানে পরিমিত খাই। ছোট মাছ, আলুভর্তা, ডাল, ডিম ভাজি, লাউয়ের খোসা ভাজি স্বর্গে পাওয়া যাবে কিনা টেনশনে আছি।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় পোশাক?
●● মাসুম বিল্লাহ : লুঙ্গি। টি-শার্ট। লুঙ্গির অবাধ যাতায়াত কেন নয়? রুল জারি করা হোক।

● মৌসুমী রহমান : বিয়ের আগের জীবন, বিয়ের পরের জীবন? কোনটা বেশি ভালো? কেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : বিয়ের আগের জীবন 'হে হে জীবন'। 'ফ্যাঁ ফ্যাঁ জীবন'। যুক্তিহীন আনন্দ। কর্মহীন আনন্দ। কিন্তু বিয়ের পরের জীবন নানা রংয়ের। ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। এই জীবনটাই উপভোগ্য। মানুষের সার্থকতা এখানেই। নইলে পৃথিবীর কবে মরে যেত। আমার তো মনে হয় আগেভাগে বিয়ে করে নিলে জীবনের অর্ধেক সময় অপচয় হয় না।

● মৌসুমী রহমান : সংসার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কী বলে?
●● মাসুম বিল্লাহ : ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা সবারই। নানান বাঁক। নানা ঝড়। অনেক অনেক ভালোবাসাবাসির ছড়াছড়ি। দিনশেষে বাড়ি ফিরে একটা সংসারে ফিরতে না-পারলে তাকে ব্যর্থ জীবন বলে। বরং জেলখানায় থাকা ভালো। সংসারে যে যত সরল সে ততো সুখী। যে যত মানবিক সে তো ভালোবাসা পায়। যে যত বিশ্বাসী সে ততো সম্মান পায়।
● মৌসুমী রহমান : প্রসঙ্গ : ধর্ম।
●● মাসুম বিল্লাহ : ধর্মের বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ, ধর্ম আমার ভেতরকার বিষয়, ধর্ম আমার ঘরের বিষয়। এখানে প্রবেশ নিষেধ।

● মৌসুমী রহমান : বর্তমান সমাজ কেমন? কেমন সমাজ হলে ভালো হতো?
●● মাসুম বিল্লাহ : পৃথিবীর শুরু থেকে পৃথিবী বদলাচ্ছে। এইটাই নিয়ম। ভালোর যেমন শেষ ছিল না। তেমনি খারাপেরও শেষ নেই।

● মৌসুমী রহমান : ধরুন, আপনাকে কেউ দেশের ভেতর যেকোনো একটা স্থান ভ্রমণের সুযোগ দিল। ফ্রি। কোন জায়গা বেছে নেবেন? আর বিদেশ হলে কোন জায়গা?
●● মাসুম বিল্লাহ : এক জীবনের আফসোস, যদি পাখিও হতাম, পুরো দেশটা ঘুরে দেখতে পারতাম। ছোট্ট একটা দেশ অথচ গৃহকোণে জনম কেটে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গা সুন্দর। ফ্রিট্রি ব্যাপার নয়, আমাদের দেশটা দেখে মরা উচিত সবার। বিদেশে আমার কখনো যেতে ইচ্ছে করেনি। প্লেনে উঠতেই তো আমার ভয়। তবে বিদেশের সুন্দর সুন্দর রাস্তাঘাট দেখতে ভালো লাগে, মানুষের নিয়ম-নীতি-শৃঙ্খলা দেখতে ভালো লাগে। আমরা কেন ওদের মতো হচ্ছি না!

● মৌসুমী রহমান : সাগর, পাহাড়, অরণ্য। কোনটা আপনাকে বেশি টানে?
●● মাসুম বিল্লাহ : পাহাড় আর অরণ্য। সাগর-সমুদ্রে ভয়।

● মৌসুমী রহমান : প্রিয় পাখি?
●● মাসুম বিল্লাহ : টিয়া। আহারে আমার একটা টিয়ে পাখি ছিল। গল্পটা বলি? আমি তখন ক্লাশ ফোর। ৪টি চকচকে নতুন দুই টাকা নোটের বিনিময়ে আমাদের পাশের বাড়ির সুখীর কাছ থেকে একটা টিয়া পাখির বাচ্চা কিনে নিই। বাচ্চাটা সদ্য ডিম ফুটে বের হয়েছে। তারপর থেকে আমি বাচ্চার মা হয়ে গেলাম। আমি স্কুলে যাওয়ার সময় আম্মাকে দায়িত্ব দিয়ে যেতাম। তারপর সে পাখি বড় হতে লাগল। একদিন একটা গুঁইসাপ এসে ওকে টেনে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার সময় আম্মা ওকে রক্ষা করে। একটা পা মাঝ বরাবর ভেঙে ঝুলে গেল। আম্মা প্যারাসিটামল আর নারিেেকলের তেল নিয়ে বেঁধে দিল। জোড়া লাগল ঠিকই কিন্তু পা বাঁকা হয়ে জোড়া লাগল। আবার একদিন এক কুকুর ওকে নিয়ে যাচ্ছিল। এবারও আম্মা বাঁচায়। বাঁচলে একটা ডানা ভেঙে গেল। তবু বেঁচে রইল। পাখিটা আমাদের পরিবারের একজন হয়েই ছিল। ওর তাঁকানো, ভাব প্রকাশ সব আমরা বুঝতাম। টুকটাক কথা বলত। আমাদের সঙ্গে একই প্লেটে ভাত খেত। অনেক বছর কেটে গেল। তখন আমি কলেজে। বাড়ির সবাই আমার বড়খালার বাড়ি বেড়াতে গেছে। আমি একা বাড়ি। পাখিটাকে বাসায় রেখেই আমি কলেজে গেলাম। ফিরে এলাম দুুপুরে। কলতলায় নিয়ে ওকে গোসল করিয়ে উঠোনে রোদে রেখে দিলাম। খাঁচার বাইরে। আমি গোসল করার সময় একটা বিড়াল এসে ওকে ধরল। বিড়ালের মুখ থেকে কেড়ে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু বিড়ালের দাঁত শরীর ভেদ করে রক্ত পড়ছিল। রাতটা আমার জেগেই কাটল। পরদিন সকালে টিয়া পাখিটা মরে গেল। আমি কাঁদলাম। একা।

● মৌসুমী রহমান : রাগ হলে কী করেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : একা একা কতক্ষণ গজগজ করি। তারপর দ্রুতই সব ঠান্ডা।

● মৌসুমী রহমান : চাঁদনী রাতে কখনো আলোয় ভেসেছেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : চাঁদের আলো গায়ে মাখতে ভালো লাগে।

● মৌসুমী রহমান : সবাই সুন্দর নায়ক-নায়িকাকে বেছে নেয়। কেন অসুন্দর নয়?
●● মাসুম বিল্লাহ : কারণ প্রতিটি মানুষই সুন্দর। সে তার চোখ দিয়ে সুন্দরকেই দেখে। সেকারণে তার চোখে সুন্দর ধরা পড়ে। সুন্দরকে কাছে চায়। তবে পৃথিবীর কোনো মানুষই সঙ্গীহীন নয়। এখানেই সৃষ্টির রহস্য।

● মৌসুমী রহমান : আপনার অনেক টাকা হলে কী করবেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : এটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সে চেষ্টাও নেই। আর যদি হয় তাহলে একবারেই আমার অনেকগুলো বই বের করে ঘরে রেখে দেব। হা হা হা। আর যদি কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে তাহলে কয়েকজন কাছের মানুষের বই বের করে দিব। এরপরও যদি কিছু টাকা হাতে থাকে তাহলে সে টাকা দিয়ে পৃথিবীর সব দেশের চকলেট কিনে খাবো।

● মৌসুমী রহমান : হঠাৎ করে যদি দেশটা সেই পুরনো যুগে ফিরে যেত কেমন হতো? কাঁচা রাস্তা, গরুর গাড়ি, ইলেকট্রিসিটি নেই,েনেই টেফিফোন...
●● মাসুম বিল্লাহ : খুবই ভালো হত। মানুষ বুঝত-- জীবন কেমন! ভাব-বাহাদুরি বন্ধ হয়ে যেত।

● মৌসুমী রহমান : জ্বীনে ভয় পান? ভূতে বিশ্বাস করেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : জ্বীন-ভূতই তো চোখে দেখলাম না!

● মৌসুমী রহমান : কোন ধরণের বই পড়তে বেশি ভালো লাগে?
●● মাসুম বিল্লাহ : বই ভালো হলে ভালো। তবে গল্প-উপন্যাসেই মন পড়ে থাকে।

● মৌসুমী রহমান : হরর মুভি দেখে ভয় পান? কেমন লাগে?
●● মাসুম বিল্লাহ : দেখা হয় না। শরীর শির শির করলেও ভয় পাই না।

● মৌসুমী রহমান : ধরে নিন, আপনাকে নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হলো। নায়িকা হিসেবে কাকে সঙ্গে নেবেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : হা হা হা... বিপদে ফেললেন। কাকে রেখে কাকে বাদ দেই। শেষে কে কষ্ট পায়। হলিউডের নাটালি পোর্টম্যানকে নিচ্ছি।

● মৌসুমী রহমান : চাঁদের দেশে কখনো যেতে ইচ্ছে করে?
●● মাসুম বিল্লাহ : না। ওখানে কিচকিচে বালি। বালি আমার অসহ্য।

● মৌসুমী রহমান : এবার আসি আপনার লেখালেখি প্রসঙ্গে। মানুষ সাধারণত ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিচারক, আইজীবী, প্রফেসর ইত্যাদি বড় বড় পদঅলা কিছু একটা হতে চায়। অনেকে আবার চাষা হতে চায়। আপনি কেন লেখক হতে চাইলেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : না না আমি কখনো লেখক হতে চাইনি। ছোটবেলায় মনে মনে গোয়েন্দা হতে চাইতাম, উকিল হতে চাইতাম, আরেকটু বড় হয়ে সাংবাদিক আর শিক্ষক। কিন্তু ওই ভাবনটা একদিন কি দুই দিন মাথায় ছিল। পরে একেবারে মুছে গেছে। আবার বড় হয়েও কখনো কিছু হতে চাইনি, লেখকও হতে চাইনি। আমার সব সময়ের চেষ্টা ছিল দিন পার করে দেওয়া সাধারণ ভাবে।

● মৌসুমী রহমান : লেখালেখির জগতে প্রথম কখন প্রবেশ করলেন? কীভাবে এলেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : ছোটবেলা থেকেই নানির কোলে শুয়ে গল্প শোনার অভ্যাস। বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ার, কেনার অভ্যাস। এর বাইরে কিছু নয়। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি অবধি দৈনিক পত্রিকার পাঠকের পাতায় অনেকের লেখা নিয়মিত ছাপা হতে দেখতাম। পড়তাম নিনিয়মিত। তারপর একদিন কবি খালেদ রাহীর একটা লেখা পড়ে ফোন দিলাম। কিন্তু কবি ফোনে এমন অসুস্থতার খবর দিলেন। মন খারাপ হয়ে গেল। আর কবিও পাঠক হিসেবে আমাকে গন্য করলেন। তিনি ফেনী থেকে ঢাকায় এসে ফোন দিলেন আমাকে। আমি তখন একটা অফিসে জব করি। আমার বস ছিলেন আরিফুরর রহমান খান। তিনি এক অন্য মানুষ। দুপুর বেলা বসকে বলি, এক কবি শাহবাগে এসেছেন, আমার সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে যাও। গেলাম। কবিকে দেখে আরো খারাপ লাগল। যযত্নহীন কবির পুরো বেশভূষায়। খারাপ লাগল। কবিকে আমি যত্ন করলাম যতটুুকু পেরেছি। সত্যি বলতে আমার খুব ভালো লাগছিল, কোনো কবি আমার সঙ্গে দেখা করছেন। সেদিন কবি আমাকে বললেন, মাসুম ভাই, আপনি কী লিখেন পত্রিকায়? অবাক হলাম। বললাম, না তো! সে বলল, লিখতে পারেন। আপনি পারবেন। তারপর দুটি জাতীয় দৈনিকে দুটি মুক্তগদ্য লিখে পাঠাই। দুটি ছাপা হয়। দুটিই প্রচ্ছদ রচনার জায়গায় ছাপা হয়ে যায়। আমি তো অবাক। ফল কী হয়েছিল জানেন, ওসব পাতার বাকি লেখকরা আমাকে তাদের শত্রু মনে করত। হিংসে করত। সে অনেক গল্প। এই তো!

● মৌসুমী রহমান : ‘লেখালেখি আমার হবে’ এই আত্মবিশ্বাস লেখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি জরুরি। বলা যায় ‘আত্মবিশ্বাস’ লেখার জননী। কীভাবে এর জন্ম হলো? কখন এই বিশ্বাস দৃঢ় হলো?
●● মাসুম বিল্লাহ : প্রথম লেখা দুটো ছাপা হওয়া এবং ছাপা হওয়ার ধরণ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। দ্বিধায় ভুগিনি।

● মৌসুমী রহমান : প্রথম লেখা কোনটা? পত্রিকায় প্রকাশ প্রথম লেখা কোনটা? কোন পত্রিকায়?
●● মাসুম বিল্লাহ : ‘কাছের বন্ধু দূরের বন্ধু’ এবং ‘হ্যালো বন্ধু’ বন্ধু দিবসের দুটির লেখা। প্রথম লেখা। প্রথম ছাপা হওয়া। পাঠকের পাতা 'প্রিয়জন' ও 'অবকাশ' ম্যাগাজিনে ছাপা হয়। যথাক্রমে ৩০শে জুলাই ২০০৯ এবং ২রা আগস্ট ২০০৯

● মৌসুমী রহমান : সমসাময়িক সময়ে প্রায় সব লেখক অণুগল্প লেখার পেছনে ঝুঁকছেন। অণুগল্প লেখার প্রতি এই আগ্রহ কেন? কেন নয় ছোটগল্প?
●● মাসুম বিল্লাহ : সবাই ঝুঁকছেন বলা যাবে না। নুতনরা ঝুঁকছেন। অনেকে জোর করে ঝুঁকছে বলে মনে হয় আমার। মনের কথাগুলো লিখে অণুগল্পের তকমা লাগিয়ে দিচ্ছেন। আবার অনেকে নিজের নামের শেষে গল্পকার, কথাসাহিত্যিক, অণুগল্পকার এরকম নানান বিশেষণ যোগ করতে পছন্দ করেন। 'অণুগল্প' বানানটা ঠিক করে লিখেন না। খারাপ লাগে খুব। ছোট লিখলেই অণুগল্প হয় না। ওতে গল্প থাকতে হয়। গল্প হতে হয়। আমার কথা যদি বলি, তাহলে আমার প্রথম লেখা দুটিই অণুগল্প। অণুলেখা। আমার মধ্যে একটা তাড়না কাজ করে অবচেতন মনে-- কত কম কথায়, কত দ্রুত আমি লিখে ফেলতে পারি! লেখায় বেশি কথা আমার আসে না। ‘অবুঝ সেফটিপিন’ এবং ‘ভূতু’ এর পাতা খেয়াল করলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এছাড়াও সবচে বড় উদাহরণ : ‘প্রেম অথবা ঘুমের গল্প’ বইটি। অণুগল্পই আমার কাছে ছোটগল্প। গল্পের আকার নিয়ে মাথাব্যথা নেই। কত অল্প লিখে আমি একটা সার্থক গল্প লিখতে পারি এবং পাঠক সেটাকে কতটা নিতে পারল সেটাই আসল। নীতি-নির্ধারক, সাহিত্যবোদ্ধা-সমালোচক আমার মাথায় থাকে না।

● মৌসুমী রহমান : লেখালেখির জগতে এসে আপনি কোন কোন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন? এর উত্তরণ কীভাবে সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : প্রথম থেকে লেখা লিখে কুরিয়ারে পাঠাতাম। তারপর অপেক্ষা করতাম। ঠিকই ছাপা হয়ে যেত। কাউকে ফোন দিতে হয়নি। গিয়ে দেখা করতে হয়নি। এভাবে চলল ২০১১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তারপর একদিন আমার দেশ পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদক রকিবুল হক রকি আমাকে ফোন দিয়ে চমকে দিয়েন। বললেন, আপনি নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখবেন আমার এখানে। তারপর ৫ই মে ২০১১ ‘মুহসীনের আত্মা এবং একজন নির্বোধ’ শিরোনামের এক পাতা লেখা, আর এক পাতা কার্টুন আইডিয়া ছাপা হয়ে গেল। তারপর সবগুলো পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছি ২০১২ পর্যন্ত। বিলটিলও পেয়েছি। তারপর স্বেচ্ছায় নির্বাসন পত্রিকা থেকে। এই পর্যন্ত কোনো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়নি বলে মনে হয়। কিন্তু যদি বলেন মেইন সড়কে আমার পদচারণা ছিল কিনা? না ছিল না। পত্রিকার সাহিত্য পাতায় আমার গল্প ছাপা হয়নি। কারণ, আমি নিজেই লেখা পাঠাইনি। আমি জানতাম, আমার লেখা ছাপা হবে না। কেন হবে না? তা লম্বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন। আজ থাক। এক কথায় যদি বলি, তাহলে বলব, উত্তরণ সম্ভব নয়।

● মৌসুমী রহমান : লেখক পরিচয়টা কতটা সম্মানের বলে আপনি মনে করেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : সম্মানের বলেই তো জানি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ উপহার দেয়। যা কেবল লেখকমাত্র জানেন। আপাতত মুগ্ধতার গল্প, ভালোবাসার গল্পের জয়গান গাইতে চাই।

● মৌসুমী রহমান : যখন কোনো থিম মাথায় আসে তখন সেটা ঝটপট লিখে ফেলেন? নাকি সময় নেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : প্রতিদিন নানান থিম মাথায় এসে ভিড় করে, কিন্তু প্রায় সবই হারিয়ে যায়। তবে দুই একটা নোট বুকে এক-দুই লাইনে লিখে রাখি। কোনোটা পূর্ণরূপ পায়, কোনোটা পায় না। এই ব্যাপারে আমার আলসেমিকে দায়ী করব। আলসেমী আমার প্রিয়। এটাতে আমি সেরা।

● মৌসুমী রহমান : আপনি কী বিষয় নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন? কোন সময়ে লিখতে ভালোবাসেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : মানুষ ও জীবনের গল্প। কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। মনমেজাজের ওপর লিখি।

● মৌসুমী রহমান : 'ছোটগল্প' নাকি 'অণুগল্প' কোনটা লেখা অধিকতর সহজ অথবা কঠিন? যেই গল্পই হোক না কেন গল্প আসলে কেমন হওয়া উচিত?
●● মাসুম বিল্লাহ : লেখালেখিই তো কঠিন। অবশ্য কেউ কেউ দু হাতে কেন, চার হাত-পায়েও লিখতে পারে। তাদের কথা আলাদা। গল্পে গল্প থাকতে হবে। গল্প হয়ে উঠতে হবে। সরল, সরল, সুপাঠ্য, বোধগম্য হতে হয়। গল্পে পাঠককে মুগ্ধতায় ভাসতে হবে। গল্প যেন পাঠকের চোখে ছবি হয়ে ভাসে, গল্পে নিজেকে খুঁজে পায়; কাল্পনিক কাহিনিও যেন পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। আমার তো অনেকের লেখা পড়ে 'মাথাব্যথা' করে।

● মৌসুমী রহমান : বইমেলা কেন্দ্রিক বই প্রকাশ।বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : বাজে সিস্টেম। আগে এটা লেখকদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এখন একজন লেখক শুরুই করে বইমেলার কথা মাথায় রেখে। অনেক বড় বড় লেখকও সারা বছর ফেসবুক মাতিয়ে জানুয়ারি মাসে লেখার কাজে হাত দেন। বইয়ের নাম ঠিক করে ঘোষণা দেন। তার ভক্তরা আবার এ উপলক্ষে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করে। কত্ত সহজ, তাই না? পাঠকরাও কম যায় না, বইমেলা ছাড়া বই কিনে না। পড়ে না। ২০১৭ সালের বই ২০১৮ সালে গিয়ে পুরনো হয়ে যায়। তারা নতুন বই চান। অভ্যাস বদলাতে হবে। তবে বইমেলার আয়োজন বাদ দিয়ে নয়।

● মৌসুমী রহমান : বই প্রকাশে তরুণ লেখকদের বিড়ম্বনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
●● মাসুম বিল্লাহ : শত শত বিড়ম্বনা। আমার প্রথম গল্পটা শেয়ার করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছি না।২০১৩ সালের বই বের করার কথা স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু কয়েকজনের আগ্রহে রাজি হয়ে যাই। প্রকাশককে লেখা রেডি করে দিলাম। সঙ্গে টাকাও। দ্বিতীয় কোনো কথা বলিনি। মেলার প্রথম সপ্তাহে গিয়ে মন খারাপ হলো। স্টলে বই রাখেনি। আমাকে দেখে রাখে। এরপর আমার চোখের সামনে অচেনা সব পাঠকরা স্টল ফুরিয়ে দিল বই কিনে। আমার খুশি আকাশ ছোঁয়। মেলা শেষে ৩০ কপি বই বেঁচে ছিল, তা জোর করে নিতে পেরেছিলাম। পরে বই বা কোনো টাকা আমি পাইনি। প্রকাশক আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমিও আর না। কারণ, তার সঙ্গে কথা বলতে আমার রুচিতে বেঁধেছিল। তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, মাসুম বিল্লাহরর লেখা তাদের ভালো লেগেছিল বলে, এতজন পাঠক বই কিনে নিয়েছিল অচেনা একজন মাসুম বিল্লাহর। আসলে তরুণদের বিড়ম্বনার গল্প এখানে বলে শেষ করতে পারব না। অন্যদিনের জন্য তোলা রইল।

● মৌসুমী রহমান : কেমন ধরণের বই বাজারে কাটতি বেশি বলে মনে করেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : মূলত উপন্যাস। জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের কাটতি বেশি। এরা বই পড়ে নয়, নাম শুনে বই কেনে। প্রচারে প্রসার।

● মৌসুমী রহমান : ছোটদের জন্য ভালো মানের বইয়ের ঘাটতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এ ব্যাপারে লেখকদের করণীয় কিছু কী নেই? তারা দায় এড়াতে পারবেন কী?
●● মাসুম বিল্লাহ : হ্যাঁ। প্রতিষ্ঠিত লেখকরা ছোটদের বই লিখতে চান না। কেন চান না? তারা তারাই ভালো বলতে পারবেন। বাংলাদেশে শিশুদের জন্য কয়েকজন মাত্র লিখছেন। তাদের সবাই যে ভালো লিখছেন তাও যেমন নয়, তেমনি তারাও চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

● মৌসুমী রহমান : লেখালেখি করতে এসে যে ক্ষোভ আপনাকে ভীষণ পীড়া দেয়, কষ্ট পান...
●● মাসুম বিল্লাহ : বিস্তারিত বলতে ইচ্ছে করছে না। একটা বলি, সিনিয়র লেখকরা মনে করেন, তারাই লেখক। তারাই ভালো লিখেন। বাকিরা তেজপাতা।

● মৌসুমী রহমান : ভালো মানুষ হওয়ার পিছনে বইয়ের ভূমিকা কতটুকু?
●● মাসুম বিল্লাহ : অনেক বড় ভূমিকা বইয়ের। আমি বইয়ের কাছে ঋণী। আমার যতটুকু ভালো তা এই বইয়ের কারণে।

● মৌসুমী রহমান : আজকাল মানুষ তেমন বই পড়তে চায় না। দিন দিন সবাই ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। এই সব বই বিমুখ মানুষদের বইয়ের দিকে ফেরাবেন কীভাবে? আপনার পরামর্শ কী কী?
●● মাসুম বিল্লাহ : ডিজিটাল হওয়া খারাপ কিছু না। খারাপ তখনই যখন মানুষ যন্ত্র হয়ে যায়। পুরনো অভ্যাস ভুলে যায়। চাকা অাবিষ্কারর হওয়া আগে মানুষ হাঁটত। যখন চাকা এল, গলি এল, কিন্তু তাই বলে মানুষ মোটেও হাটবে না? হাঁটতে ভুলে যাবে! তেমনি প্রযুক্তি এসে বইপড়া ভুলিয়ে দেবে মানুষকে? আমি প্রযুক্তির দোষ দিই না, মানুষের দেই। কারণ, তারা বই পড়তে, ভালোবাসতে ভুলে গেছে। করণীয় বলতে, বুঝি, সবার সচেতন হওয়া। তবে তা শিকড় থেকে। পরিবার থেকে ছোটবেলা বইয়ের প্রতি বিশেষ করে সিলেবাসের বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে হবে।

● মৌসুমী রহমান : আপনার জীবনে পড়া প্রথম বই এবং শেষ বইয়ের নাম বলুন। প্রথম বই পড়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
●● মাসুম বিল্লাহ : ক্লাশ ফোরে প্রথম বই পড়ি। আমার দুই মামা গল্পের বই পড়ত। বড়মামার মাথার বালিশের নিচে খুঁজে পাই "মনের মানুষ" নামের বইটি। নিউজপ্রিন্টের বই। ওটা সেবা প্রকাশনীর রোমান্টিক সিরিজ ছিল। গল্পের কাহিনি এখন মনে নেই। একটা অংশ মনে আছে, নায়ক নায়িকাকে বাঁচাতে গুলি করছে...! বইটা আমি বড়মামার রুমের খাটের নিচে লুকিয়ে পড়েছিলাম। আরেকটা কথা, আমি দ্রুত পড়তে পারি।

● মৌসুমী রহমান : আমরা যেমন ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকের বইয়ের গল্পের বই লুকিয়ে পড়তাম। বকা খাওয়ার ভয়ে। বই পড়তে যেয়ে আপনি কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখী হয়েছেন? কীভাবে সমস্যাগুলো উতরে যেতেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : আগেই বলেছি, লুকিয়ে পড়ার কথা। এরপর মেট্রিক পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে ' প্রত্যয় অবজেক্টিভ গাইড' এর ভেতর লুকিয়ে শরৎ বাবুর "দেবদাস" উপন্যাসটা পড়েছিলাম। এখানে আরেকটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে, ও সপ্তাহে ঢাকার মিরপুরের সনি সিনেমা হলে গিয়ে কাঞ্চনের ছবি দেখেছিলাম। আব্বা সিনেমা দেখার কথা টের পেলেন। মারলেন। তবে লুকিয়ে উপন্যাস পড়াটা ধরতে পারেননি। মোটা বইয়ের ভেতর ছিল তো। তবে গল্পের বইয়ের কারণে এখনো আমাকে কথা শুনতে হয়।

● মৌসুমী রহমান : আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা কতটুকু? বিশেষ করে বইপড়ার ক্ষেত্রে। বা মা কেমন অবদান রাখতে পারেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : বুঝ হওয়ার পর থেকে শিশুরা শিক্ষককেই সামনে পায়। শিশুরা পরিবারের কথা না-শুনলেও শিক্ষকদের ফলো করে। তাই শিক্ষকরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। আর মা তো প্রধান ভূমিকা রাখেন।

● মৌসুমী রহমান : এবারের বইমেলায় আপনার বই আসছে? কয়টা? নামগুলো...

●● মাসুম বিল্লাহ : একটির বেশি বই হয় জনপ্রিয় তারকা লেখকদের, কারণ, চাহিদা থাকে। কিন্তু আমাদের মতো লিখিয়েদের একটির বই বড্ড বাড়াবাড়ি মনে হয়। জোরজবরদস্তি করে কাউকে এক কপি গছিয়ে দিতেই ঘাম ছুটে যায়, সেখানে একটি বেশি বই...! এবার আমারই স্বপ্নেরর পালে হাওয়া দিয়েছি, দুটি বই বের করার ইচ্ছা। অবশ্য এর একটা গোপন কারণ আছে, বই দুটি আমি প্রিয় দুইজন মানুষকে উৎসর্গ করেছি। বই দুটির নাম : [পিঙ্গল প্রেম], [একা এবং নিঃসঙ্গ]

● মৌসুমী রহমান : বইমেলায় বই বিক্রির অভিজ্ঞতা কিছু বলুন।
●● মাসুম বিল্লাহ : ২০১৩ সালের আগের বইমেলা নিয়ে আমার কোনো গল্প নেই। বইমেলায় যেতাম, বই কিনে বের হয়ে আসতাম। বড়জোর ৩০ মিনিটের মামলা। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে আমি সেলসম্যান হিসেবে মেলার অংশ ছিলাম। পাঠকক্রেতা আমাকে সেলসম্যান হিসেবে দেখেছে। সেলসম্যান হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা কম নয়। কারা বই কেনে, কেন কেনে, কীভাবে কেনে? কারা বই কেনে না... এরকম অারো নানান ব্যাপার-স্যাপার! এখানে মুগ্ধতার গল্পই বেশি।

● মৌসুমী রহমান : ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : না। আগ্রহ ছিল না।

● মৌসুমী রহমান : যদি আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ পেতেন কী চাইতেন?
●● মাসুম বিল্লাহ : ১৭ কোটি মানুষের প্রত্যেকের হাতে ২০০ টাকা দিয়ে দাও, যাতে সবাই মাসুম বিল্লাহর ১টি বই কিনতে পারে। হা হা হা।

● মৌসুমী রহমান : ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার ভাবনা...
●● মাসুম বিল্লাহ : কখনোই ভাবিনি। আজকের দিনটা পার করে দিতে পারলেই বাঁচি। কাল যে বেঁচে থাকব তার নিশ্চয়তা কেউ দেয় না। যা করার, দেখার, বলার, শোনার সব আজকেই। হুম।

● মৌসুমী রহমান : সব শেষে, আপনি পাঠকের উদ্দেশ্যে যা বলতে চান...
●● মাসুম বিল্লাহ : নিজে ভালো থাকুন। অন্যকে ভালো থাকতে দিন। অাপনার কারণে অন্যে যেন বিরক্ত না-হয়। তাহলেই কেউ খারাপ থাকবে না।

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test