E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

পর্ব-৫

মুক্তিযোদ্ধার মুখে যুদ্ধ কথা

২০২২ জানুয়ারি ২৪ ১৫:৩৫:১৮
মুক্তিযোদ্ধার মুখে যুদ্ধ কথা

দেবেশ চন্দ্র সান্যাল


মুক্তিযুদ্ধ ধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে যে কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাঁর যুদ্ধ কথা লিখে পাঠালে তা এই বিভাগে প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশ করা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবেশ চন্দ্র সান্যালের যুদ্ধ কথা। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রতন কান্দি গ্রামে।

ধীতপুর যুদ্ধ

ধীতপুর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার একটি গ্রাম। এই যুদ্ধে নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি কমান্ডার (কমান্ডার হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত) বাবু রবীন্দ্র নাথ বাগ্চী। ২৩ নভেম্বর’ ৭১ আমরা শেল্টার নিলাম সৈয়দপুর গ্রামের কালা চক্রবর্ত্তীর বাড়িতে। ২৫ নভেম্বর’ ৭১ সংবাদ পেলাম পাকি হানাদারেরা কৈজুরী হয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের যুদ্ধে পাকি হানাদারেরা পরাজিত হয়ে লঞ্চে যমুনা নদী পাড় হয়ে মালিপাড়া ক্যাম্পে এসেছে। মালিপাড়া ক্যাম্প থেকে রাস্তা চিনানোর জন্য দুই জন রাজাকারকে সঙ্গে নিয়েছে। আমরা পাকি হানাদারদের আক্রমন করার জন্য ওদের পিছু নিলাম। ওরা ক্ষুদার্থ। কৈজুরী গ্রামের একজনের মুলা ক্ষেত থেকে মুলা খাওয়ার চেষ্টা করলো। ওরা হয়তো জানতো না কাচা মুলা খাওয়া যায় না। ওয়াপদা বাধ ধরে ওরা অগ্রসর হতে লাগলো। আমরাও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অস্ত্র তাক করে ওদের পিছু পিছু হাটতে থাকলাম। ওরা ক্রোধী ধীতপুর নামক স্থানে গিয়ে ওরা আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি করলো। আমরা জাম্প করে ওয়াপদা বাধের পশ্চিম দিকে পজিশন নিলাম। ওদের উপর গুলি ছুড়লাম। ওরা ওয়াপদা বাধের পূর্ব পার্শ্বে পজিশন নিল। এক ঘণ্টা ব্যাপি গুলি পাল্টা গুলি চলতে থাকলো। ঐই যুদ্ধে আমি থ্রিনট থ্রি রাইফেল চালিয়ে ছিলাম। আমার জন পাশে হেলমেট মাথায় অবস্থান নিয়ে ছিলেন আমরা মেজো দাদা সমরেন্দ্র নাথ সান্যাল। তিনি থ্রিনট থ্রি রাইফেল চালিয়েছিল। তাঁর পাশে মো: নজরুল ইসলাম, রতন কুমার দাস ও অন্যান্যরা অবস্থান নিয়ে সন্মূখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন । আমরা বাম পাশে এল,এম,জি নিয়ে যুদ্ধ করেছেন আমরা কমন্ডার রবীন্দ্র নাথ বাগচী। গুলির শব্দে শাহজাদপুর ও বেড়ার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধা দল আমাদের সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে এলো।

এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। হানাদারেরা গুলি করা বন্ধ করলো। আমরাও অন্ধকারে গুলি করা বন্ধ করলাম। সারারাত আমরা পজিশন অবস্থায় ছিলাম। রাতে ধীতপুর সার গুদাম থেকে মাঝে মাঝে ২/১ টা করে গুলি আসছিল। ওদের গুলির প্রেক্ষিতে আমরা ২/১ টা করে গুলি করছিলাম। ভোরে ফর্সা হলে আমাদের কমান্ডার বরীন্দ্রনাথ বাগ্চী ও বেড়ার কমান্ডার জনাব আমির হোসেন ক্রোলিং করে ধীতপুর সার গুদামে এগিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখতে পেলেন পাকিহানাদারেরা পালিয়ে গেছে। দুজন রাজাকার সারারাত কভারিং ফায়ার করেছে। কমান্ড করে রাজাকার দুজনকে স্যারেন্ডার করালেন। রাজাকার দুজনের নাম ছিল লতিফ ও কালাম। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে নেওয়া হলো। তাদের কাছ থেকে জানা গেল রাত ১১ টার দিকে হানাদারেরা ক্রোলিং করে নিরাপদ দুরত্বে এসে হেঁটে বেড়া নদী পার হয়ে ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে পালিয়েছে। পরে জানা গেল। পাকি হানাদারেরা বেড়া ঘাটে গিয়ে ভেড়াকোলা গ্রামের হলদারের নৌকায় নদী পাড় হয়ে নগরবাড়ি ঘাট হয়ে ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ধীতপুরের যুদ্ধে বেড়ার আমির হোসেনের গ্রুপের মোঃ আব্দুল খালেক শহীদ হয়েছেন। দুজন পথচারী গোলাগুলির সময়ে গুলি লেগে মারা গিয়েছেন। ধীতপুর যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে আমরা জামিরতা হাই স্কুলে ক্যাম্প করে অবস্থান নিয়েছিলাম। জাতির পিতার নির্দেশে অস্ত্র জমা দিয়ে বাড়িতে এসে লেখাপড়া শুরু করলাম।

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা।

পাঠকের মতামত:

২৯ মে ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test