E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

একাত্তরের দুঃসহ দিন

২০২২ ডিসেম্বর ০৪ ১৫:৫৮:০৫
একাত্তরের দুঃসহ দিন

দেবেশ চন্দ্র সান্যাল


১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১২ নভেম্বর’৭০ পূর্ব পাকিস্তানের উপকুল এলাকায় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি ঘূর্নিঝড় জলোশ^াস  হয়েছিল। যে কারনে উপদ্রুত এলাকার এম.এন. এ পদের নির্বাচন হয়ে ছিল ১৭ জানুয়ারী’৭১। তখন পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদ ছিল ৩১৩ আসনের। সাধারণ পরিষদ এর সদস্যদেরকে বলা হতো এম.এন.এ (Member of National Assembly)। এই সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬২ টির মধ্যে ১৬০ টিতে নির্বাচিত হলো। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ৭ টি মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিল। এই ৭টি আসনও আওয়ামী লীগ পেলো। আওয়ামী লীগ মোট ১৬৯ পদের অধিকারী হয়ে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরস্কুশ সংখ্যা গড়িষ্ঠতা লাভ করলো। পশ্চিম পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্রোর দল পিপলস পার্টি পশ্চিশ পাকিস্তানের ৮৮ এবং অন্যান্যরা সবাই মিলে পেয়ে ছিল ৫৬টি আসন। এই সাধারণ নির্বাচন টি ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম দেশব্যাপী গণ ভোটের নির্বাচন। 

১৭ ডিসেম্বর’৭০ অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রাদেশিক পরিষদের গন ভোট। প্রাদেশিক পরিষদ ছিল ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ৩১০ আসনের। আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল ১০ টি সংরক্ষিত আসন সহ ২৯৮ টিতে। এই সাধারণ নির্বাচনের মূলত দুইটি পক্ষ ছিল। একটি আওয়ামী লীগ ও অন্য পক্ষ মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বায়ত্ত শাসন, সমতা ভিত্তিক শাসন তন্ত্র ও দ্বিজাতি- তত্ত্বের অবসানের অঙ্গিকার করে ভোট চাইলেন। সম মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে বাস করতে পারবো বিবেচনায় পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ এর প্রতিক নৌকা মার্কায় ভোট দিল। বাঙালিদের বিজয় তথ আওয়ামী লীগের বিজয়ে পাকিস্তানি শাসক সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। পাকিস্তানের তদানীন্তন সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান, পাকিস্তান পিপলস পাটির জুলফিকর আলী ভুটো ও অন্যান্যরা ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। কাল ক্ষেপন করে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৩ ফেব্রুয়ারী’ ৭১ ঘোষনা দিলেন ৩ মার্চ’৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হবে। কিন্তু ১ মার্চ’৭১ প্রেসিডেন্ট আহুত অধিবেশন অনিদিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলেন। অধিবেশন স্থাগিতের ঘোষনা শুনে সারা র্পূব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ “জয় বাংলা” বলে রাস্তায় নেমে পড়লেন। বীর বাঙালি অস্ত্রধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। শ্লোগানে সারাদেশ প্রকম্পিত করে তুললেন। বাঙালিদের স্বায়ত্ত শাসনের দাবী যেন স্বাধীনতার দাবীতে রুপ নিতে থাকল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায়, ৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিলেন।

১ মার্চ থেকেই অসহযোগ আন্দোলন ও ৩ মার্চ জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের ঘোষনা দিলেন। ৭ মার্চ’৭১ লক্ষাধিক মানুষ জন সভায় ১৯ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে বললেন... “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...। “জয় বাংলা”। জাতিকে আগামী দিনের কর্মপন্থা নিধারণ করে দিলেন। বললেন,“ প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো, শক্রর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে...। আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি। তোমরা বন্ধ করে দেবে। ৯ মার্চ ইয়াহিয়া খান “পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ চাইনা, মাটি চাই” পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লে. জেনারেল টিক্কা খান কে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক নিয়োগ করে পাঠালেন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আর্মি ও মিলেশিয়া আনার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে কাল ক্ষেপন করতে থাকলেন। ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া ও ২১ মার্চ দলের কয়েক জন নেতৃস্থানীয় লোকদের নিয়ে ভুট্টো এলেন। আলোচনার নামে কাল ক্ষেপন করতে থাকলেন। আলোচনা যে ফল প্রসু হবে না এটা জাতির পিতার বুদ্ধিমত্তার কাছে পূবেই ধরা পড়েছিল। কিন্তু সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষনা করলে- জাতির পিতাকে “বিছিন্নতাবাদী, হিসেবে বিশ্বে প্রচার করে পাকিস্তান ভাঙ্গার অভিযোগে বিচার করবে বুঝে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষনা করেন নাই। তিনি বুঝতে পেরে ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিরা আঘাত হানবে।

২৫ মার্চ’৭১ সন্ধ্যার দিকে টিক্কা খান কে” অপারেশন সার্চ লাইট, বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়ে ইয়াহিয়া খান বিশেষ বিমানে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান চলে গেলেন। রাত সাড়ে এগারো টায় টিক্কা খান “অপারেশণ সার্চ লাইট ” শুরু করলেন। তিনি এক যোগে পিলখানা ই.পি.আর হেড কোয়ার্টার, রাজার বাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, শিক্ষক ও কর্মচারী কোয়ার্টার সহ বিভিন্ন স্থান আক্রমন করলেন। তিনি আদেশ দিয়ে জ¦ালাও, পোড়াও, হত্যা, নির্যাতন ও নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালিদেরকে, পাখির মত গুলি করে হত্যা করলেন।ইহা ছিল ইতিহাসের জঘন্নতম মানবতা বিরোধী কার্যক্রম। পাকিস্তানি আর্মিরা বাঙালি আর্মি, ই.পি.আরদের সবাইকে নিরস্ত্র ও কিছু হত্যা করলেন। কিছু বাঙালি সৈন্য অস্ত্র সহ কিছু খালি হাতে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলেন। পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালিদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ চাপিয়ে দিল।

২৬ মার্চ’৭১ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সৈন্যদের অপারেশ সার্চ লাইট এর নিষ্ঠুরতা, আগুনের লেলিহান দেখে মর্টার ও গুলির শব্দ শুনে বাসায় উপস্থিত নেতা কর্মীদের সম্মুখে ধান মন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও তাঁর শেষ বানী প্রদান করলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা তৎকালীন ই.পি.আর এর ট্রান্স মিটারের মাধ্যমে ও মগবাজারের টেলিফোন অফিসের ওয়ারলেশের ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম এবং সারা দেশে ম্যাসেজ পাঠানো হলো। ২৭ মার্চ সকাল ৮ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। একটু সুযোগ পেয়ে ভয়াত নারী পুরুষ- জীবন বাচাঁতে অধিকাংশ ঢাকার বাইরে চলে আসেন। ২৬ মার্চ দুপুরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার বার্তা চট্রগ্রামের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম. এ হান্নান ও আরো কয়েক জন পাঠ করেন।

২৭ মার্চ’৭১ সন্ধ্যায় জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষনার বার্তা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (কালুরঘাট) থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমান পাঠ করেন। সারা দেশে ২৫ মার্চ’৭১ থেকে প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানি সৈন্যরা এদেশে তাদের সহযোগী খুঁজে বের করার কৌশল অবলম্বন করলো। টিক্কা খান তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের (নেতৃস্থানীয়দের) ডেকে আনালেন। টিক্কা খানের পক্ষে প্রতিনিধিরা বললেন- “আপনারা আমাদের সহযোগীতা করুন, দেশের সর্বত্র প্রচার করুন হিন্দুরা ইসলামের শত্রু ভারতের দালাল। তারা পাকিস্তান কে ভাঙ্গার জন্য গোল মাল বাঁধিয়েছে। প্রেসিডেন্টর সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর’৭০ এর সাধারণ নির্বাচন বাতিল করা হবে। আপনাদের কে পূর্ব পাকিস্তান পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া হবে। ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নির্বাচনের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এমন একটা সুযোগ খুঁজ ছিলেন। তারা নেতা-কমী সবাই মিলে পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে কাজ করা শুরু করলো। তারা স্থানে স্থানে স্বাধীনতা কমীদের তথ্য সংগ্রহ ও নিকটস্থ ক্যাম্পে সংবাদ দেয়া ও পাকিস্তানি আর্মিদের সহযোগীতা করার জন্য পীচ কমিটি করলো। তারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস সহ অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী করলো। তারা নেতা কমীদের মাঝে প্রচার করলো হিন্দুরা এ দেশের শত্রু, হিন্দুর মাল,গনি মতের মাল...। রাজাকার আলবদর, আলশামস সদস্যরা ও পিচ কমিটির দালালেরা পাকিস্তানি আর্মি কে পথ চিনিয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা, গনহত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, লটতরাজ, জ¦ালাও, পোড়াও, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন মানবতা বিরোধী কাজ করলো।

পূর্ব পাকিস্তানি জন সাধারনের ওপর “অপারেশন সার্চ লাইট” এর ভয়াবহতার ভিডিও অন্যান্য দেখে ও শুনে ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর করুন দৃশ্য দেখে, ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে তদানীন্তন মানবতার নেত্রী ভারতের প্রধান মন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধি বাংলাদেশের স্বাধীনতা কামীদের সহযোগীতা করার আশ^াস দিলেন। ১০ এপ্রিল’৭১ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও অন্যান্য কাজের জন্য বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হলো। ঐতিহাসিক স্বাধীনতার সনদ তৈরী ও ঘোষনা করা হলো। ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবের পাড়ার বৈদ্য নাথ তলার আ¤্র কাননে বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহন করলো। এই স্থান টি ছিল পাক হানাদার মুক্ত বাংলাদেশের ভূখন্ড। এই স্থানের নাম করন করা হলো মুজিব নগর। মুজিব নগর বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষনা করা হলো। এই সরকার ভারতে তাদের অফিস করলেন। তাই এই সরকারে কে মুজিব নগর সরকার, অস্থায়ী ও প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সম্বোধন করা হয়। ভারত সরকার বাংলা দেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীর থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসা সহ সব ব্যবস্থা করলেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র দিলেন। সরকারের পাশা পাশি ভারতের জন সাধারণ সহ সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ভারতের বাস মালিক ও সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্যদের জন্য বাসও ট্রেনে যাতায়াত ভাড়া ফ্রি করে দিয়ে ছিলেন। বাসের কন্ডাক্টর বা ট্রেনের টিটি ভাড়া বা টিকেট চাইতে এলে “জয় বাংলা” বললেই ভাড়া বা টিকেট চাইতেন না। তাঁরা বুঝতে পারতেন আমরা বাংলাদেশের মানুষ। ভারতের মানুষ আমাদের কে “জয় বাংলার লোক হিসেবে সম্বোধন করতেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ শরনার্থীদের ভারতে আত্মীয় স্বজন ছিল। অনেক শরনার্থী শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় না নিয়ে তাঁদের ভারতীয় আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের দুঃসময় বিবেচনায় ভারতীয়রা সর্বস্তরের মানুষ কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে আশ্রয় গ্রহন কারীদের পরম আদরে রেখেছিলেন। ভারত সরকার ও জনসাধারনের কাছে বাংলাদেশের মানুষের ঋণের শেষ নাই। অধিকাংশ শরণার্থী শিবিরে কলেরা, জ্বর, খোস পাঁচড়া সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেকে শরণার্থী শিবির ছেড়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহবানে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র নিয়ে একটি গ্রুপের সদস্য হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে এসে পাকিস্তানির হানাদার সৈন্য ও তাদের এ দেশীয় রাজাকারদের বিরুদ্ধে ৩ টি হিট এন্ড রান পরিকল্পনায় ও ৪টি ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছি।

আমার মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের কারণে পাকিস্তানি দালাল ও রাজাকারদের আলটি মেটামে গন হত্যা ও অন্যান্য নির্যাতনের হাত হতে বাঁচার জন্য গোটা পরিবারকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতের আসামের মানিকার চর নামক শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল একটি জন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বাঙালি সৈনিক ই.পি. আর ও অন্যান্য সহ এ দেশের অসংখ্য ছাত্র- জনতা কৃষক শ্রমিক যোগ দিয়েছিল। ভারতে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ অথবা এ দেশের অভ্যন্তরে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ দিনের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, পেশাদার, আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ছিল। ২১ নভেম্বর’৭১ ভারতীয় মিত্র বাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনী এক যোগে কাজ করার অঙ্গিকারে যৌথ বাহিনী গঠন করা হলো। পাকিস্তানি বাহিনী ৩ ডিসেম্বর’৭১ পাকিস্তান অতর্কিত ভারতীয় বিমান ঘাটি আক্রমন করলো। ভারত সৈণ্য ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধার অপারেশন “চেঙ্গিস খাঁ” নামে যুদ্ধের সূচনা করলেন। মুক্তিযুদ্ধ আর শুধু মুক্তিযুদ্ধ থাকলো না। ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধে রুপ নিল। ৪ ডিসেম্বর’৭১ পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর প্রহশন মূলক বিচারের রায় ঘোষনা করলে। বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যু দন্ডের আদের্শ দিল।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দন্ডের আদের্শ যাতে কার্যকরী করতে না পারে সে জন্য যৌথ বাহিনী সাড়াশি আক্রমন শুরু করলেন। তাঁরা মাত্র ১৩ দিনে পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্ম সমর্পন করতে বাধ্য হলো। ১৬ ডিসেম্বর’৭১ বিকেল বেলা পাকিস্তান সাসরিক বাহিনীর পূর্ব কমান্ড ঢাকায় রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহ্রোওয়ার্দী উদ্যানে) হাজার হাজার মানুষের সামনে আত্ম সমর্পন করলো। দেশের অন্যান্য স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী কে আত্ম সমর্পন করাতে ২২ ডিসেম্বর হয়ে গেল। বিজয় দিবসের পূর্বে ১০ ডিসেম্বর হতে ১৪ ডিসেম্বর এই দেশের বিশ্বাস ঘাতকের দলের তৈরি আলবদর বাহিনী, দেশের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাাদিক শিল্পি, কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞানীকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরে নিয়ে এসে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের কে মেধা শুন্য করার। বিজয় দিবসে পর বুদ্ধিজীবীদের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁদের ক্ষত বিক্ষত মৃত দেহ রায়ের বাজার বধ্য ভূমিও অন্যান্য জায়গায় পাওয়া গিয়াছিল। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কারো কারো চোখ তোলা ছিল। বোঝা গেল বিশ্বাস ঘাতকেরা এই সোনার সন্তানদের ঠান্ডা মাথায় নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে।

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার।

পাঠকের মতামত:

২৯ জানুয়ারি ২০২৩

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test