E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

আওয়ামীলীগে প্রাণ ফিরলেই বেঁচে যাবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ

২০২০ মে ১৫ ১০:৫৮:২৯
আওয়ামীলীগে প্রাণ ফিরলেই বেঁচে যাবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ

প্রবীর সিকদার


পরম শ্রদ্ধাভাজন আপা, সালাম নিবেন। আপনি দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী; এটি আমাদের সকলের জন্য, দেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি ও নিরাপত্তা বর্ম। একাত্তরে বাবা হারানোর পর বঙ্গবন্ধু মুজিবকেই পিতা জ্ঞানে শ্রদ্ধা করেছি, আপনি বঙ্গবন্ধু মুজিব কন্যা ও স্বাধীনতার সোপান বাঙালির প্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, এটাই আমার কাছে আপনার বড় পরিচয়।

একাত্তরে পিতা নিখোঁজ হয়েছেন, লাশও পাইনি। পরিবারের প্রিয় স্বজনদের নৃশংসভাবে খুন হতে দেখেছি নিজের চোখের সামনে, পাইনি বিচার। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু খুনের পরই আমি প্রথম মৃত্যু সংবাদ পাই একাত্তরে নিখোঁজ পিতার। আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পেতে পেতে বড় হয়েছি, কখনো হাত পেতেছি হাটে বাজারেও! কিন্তু নিজের জন্য পরিবারের জন্য ভাবিনি কিছুই। নিজের এলাকায় মেয়েদের পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে উপমহাদেশে নারী শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার নামে গড়ে তুলেছি একটি উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে এখন ৭০০ ছাত্রী পড়াশোনা করে। পড়াশোনাকালে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও স্কুল গড়ার কারণে আর সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে জড়াইনি। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও, সবসময় আমার স্পষ্ট উচ্চারণ, এই বাংলাদেশটির কারণে বাবাকে বাবা ডাকতে পারিনি। সেই যন্ত্রণা ভুলতে আমার চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা, তথা বাংলাদেশ! আমার সেই ইচ্ছে পূরণ করবার সক্ষমতা রয়েছে এখন শুধুই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামীলীগের। আমি আছি আওয়ামীলীগের পাশেই!

স্কুল গড়ার পাশাপাশি আমি নিজেকে দৈনিক জনকণ্ঠে সংবাদকর্মী হিসেবে যুক্ত করি। আপনি এটা খুব ভালো করেই জানেন, একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকারদের বিরুদ্ধে দৈনিক জনকণ্ঠে আমার সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর ২০০১ সালে রাজাকারের লেলিয়ে দেওয়া দুর্বৃত্তরা খুন করতেই আমার ওপর বোমা গুলি চাপাতির নৃশংস হামলা চালায়। আপনি তখন দেবদূতের মতোই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আপনিই দেশে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে আমাকে যেন ফের জীবন দিয়েছিলেন! যদিও আমি জীবন ফিরে পেলেও আমাকে হারাতে হয়েছে পুরোপুরি একটি পা। স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছে একটি হাত। শরীরে বয়ে বেড়াই অসংখ্য বোমা গুলির ছোট ছোট টুকরো, যা আমাকে প্রতি সেকেন্ডে যন্ত্রণা দেয়। তারপরও আমি আপনার দেওয়া কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাই। যদিও আমার ওপর সংঘটিত নৃশংস ঘটনার বিচার পাইনি; যদিও আপনার নেতৃত্বের টানা ১২ বছরের আওয়ামীলীগ সরকার একবারও খোঁজ নেয়নি আমার।

আমার স্বপ্ন দেখা ও লড়াইয়ের একটিই বাতিঘর, তিনি শুধুই আপনি শেখ হাসিনা! আপনি যতদিন আছেন, ততদিন আমি স্বপ্ন দেখবো ও লড়াই করবো, করতেই থাকবো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার। তারপরও আপনাকে ঘিরে আমার আছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও হতাশা। আপনার নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত! সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই এতোটা নিষ্ঠুর হবেন না যে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ না হতেই তিনি আপনাকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নিবেন! নানামুখি হুমকি প্রকাশ পেলে আমি বেশ কয়েকবার আপনার নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরে প্রতীকী অনশনে বসেছি। আপনি যখন দৃঢ়চিত্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করেন, তখন আশাবাদী হয়ে উঠি। কিন্তু যখন নিজ দলের এমপি মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে কেনা যায়, কিন্তু শেখ হাসিনাকে নয়, তখন হতাশ হয়ে পড়ি!

আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার মূল শক্তি আওয়ামীলীগ। আপনার নেতৃত্বের সরকার টানা ১২ বছর ক্ষমতায়। অথচ দেশজুড়ে আওয়ামীলীগের তৃণমূলে হাহাকার! দলের ত্যাগী নেতা কর্মী সমর্থকেরা নেই কোথাও! এমপি মন্ত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত বিএনপির ক্যাডারেরা আওয়ামীলীগের দখল নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে সব! ওরাই এখন নব্য আওয়ামীলীগার; কেউ কেউ বলেন, ওরা আওয়ামীলীগকে গিলে খেয়ে হাইব্রিড লীগ কায়েম করেছে! দলের সাধারণ সম্পাদক অবশ্য এদেরকে 'কাউয়া' বলেন! কিন্তু আপা, আপনি খোঁজ নিয়ে জানুন, দেখবেন সাধারণ সম্পাদকের নিজের এলাকাতেই কাউয়া উৎপাত বেশি! দেশজুড়েই এক চিত্র, প্রতিবাদ করলেই আওয়ামীলীগের শাসনামলে আওয়ামীলীগেরই পরীক্ষিত নেতা কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় মামলা, ঢুকতে হয় জেলে! কারো কারো ক্ষেত্রে তো সাজানো মামলায় সাজাও হয়ে যায়, ঠিকানা হয় জেল! আপনার শাসনামলে দলের বহু নেতা কর্মী সমর্থক এলাকায় থাকতে পারেন না; কেউ কেউ তো দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া তৃণমূলে এমপি মন্ত্রীদের সাথে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা কর্মী সমর্থকদের কোনও যোগাযোগ নেই। পুরোই তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন। তারা আছেন গুঁটি কয়েক হাইব্রিড নিয়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, দলে এখন পদ পেতে টাকা লাগে, টাকা লাগে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতেও! এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনেও উপেক্ষিত থাকে তৃণমূলের অভিমত। হতাশা বঞ্চনা অবহেলা নিয়ে কিংবা এমপি মন্ত্রীদের রোষানলে পড়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা কর্মী সমর্থকদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন! না আছে তাদের আর্থিক সঙ্গতি, না আছে দলে ভূমিকা রাখার সুযোগ; ওরা এখন কী করবে আপা! আপনি ওদের বাতিঘর, একটাই আশার আলো, সেই আলো যদি মুখ ঘুরিয়ে থাকে কিংবা মেঘে ঢাকা পড়ে, ওরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় খুজবে! তৃণমূলে আওয়ামীলীগের দৈন্যদশা ও বাস্তবতা দেখলে বিশ্বাসই হয় না দেশে চলছে আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন! ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামীলীগের তৃণমূল অর্থাৎ আজ যারা অবহেলা বঞ্চনা নিপীড়নে দিশাহারা, তারা যদি আপনার সমর্থনে গর্জে না উঠতেন, তাহলে ওই সময়েই পাল্টে যেতো দৃশ্যপট, আমরা আজ আপনার নেতৃত্বের আওয়ামীলীগ সরকারের টানা ১২ বছর দেখার সুযোগ নাও পেতে পারতাম!

চারদিতে কান পাতলেই শোনা যায় ভয়ঙ্কর সব লুটপাটের গল্প, আওয়ামীলীগের এমপি মন্ত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি জামায়াতের পাণ্ডাদের সম্পদের পাহাড় গড়ার গল্প, যা আপনার কষ্টার্জিত সকল সাফল্যকে ম্লান করে দেয়! আপা, আপনি টানা ১২ বছর ক্ষমতায়, এমন অবস্থার কথা কেন আমাদের শুনতে হবে কিংবা প্রত্যক্ষ করতে হবে! আপনি তো বঙ্গবন্ধুকন্যা, আপনি নিজে তো সততার মূর্ত প্রতীক। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই তো দেশের মানুষ আপনাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে। তাদের সুতীব্র আশাবাদ, সব গোল্লায় যাক, এক শেখ হাসিনা থাকলে, লুটেরা দুর্বৃত্ত যতো শক্তিশালী হোক, সবাইকেই বিদায় নিতে হবে! কিন্তু মানুষ নানা সিদ্ধান্ত পদক্ষেপে আশাবাদী হতে না হতেই হতাশায় নুয়ে পড়ে! এখন শুধু আওয়ামীলীগের তৃণমূল নয়, দেশের মানুষের মনে দানা বেঁধেছে সংশয়, তবে কী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চারপাশের অসহযোগিতায় ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে পারছেন না! প্রধানমন্ত্রীকে অজনপ্রিয় করতে কী গভীর কোনও ষড়যন্ত্র চলছে! আমাদের কাছে তেমন উত্তর নেই! শুধু অপলক তাকিয়ে দেখি, যে লোকগুলোর যেখানে থাকার কথা নয়, তারা সেই জায়গার দখল নিয়েছে; দুর্দিনে যারা বুক পেতে আপনাকে রক্ষা করবেন, তারা পেছনের কাতারে বসে আপনার অস্বস্তি দেখছেন, পাচ্ছেন কষ্টও; কিন্তু পারছেন না কিছুই করতে!

আপা, তাহলে আপনার চারপাশে ওরা কারা, যারা প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার অপচেষ্টা করছে! ছাত্রদলের এক ক্যাডার, নাম তার মেহেদী হাসান বাবু, আগুন সন্ত্রাসের মামলার আসামী, সেও হয়ে যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা! অনায়াসে সে পৌঁছে যায় আপনার কাছে! চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বৌদ্ধ ভিক্ষু পরিচয়ের জালিয়াত রকি বড়ুয়া, যিনি দুর্ধর্ষ রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি ইস্যুতে গোপন ও গভীর ষড়যন্ত্রে জড়িত, তিনিও অবলীলায় হাজির হন আমাদের একটাই ভরসা কেন্দ্র শেখ হাসিনার উদার ছায়াতলে! সাতক্ষীরা কলারোয়ার দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সিরাজি লিটন, যিনি সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে এলাকায় ভয়ঙ্কর নাশকতা চালিয়ে জীবন ও সম্পদ কেড়ে নেওয়া হোতাদের অন্যতম; তিনিও ঢুকে পড়ার সুযোগ পান আপনার সুরক্ষিত ক্যাম্পাসে! এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য খুবই যন্ত্রণার; আপনি সুরক্ষিত না থাকলে তো আমাদের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না! আমরা বড় উৎকণ্ঠিত চিত্তে জানতে চাই, বিতর্কিত এই মানুষগুলোকে কে বা কারা আপনার সামনে হাজির হওয়ার সুযোগ করে দেয়! শুধু এই বিষয় নয়, এমনই বহু অসঙ্গতির বিষয়ে তদন্ত করে দেখা জরুরি। কেননা আমরা তথা দেশের মানুষ, যারা আপনার মধ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াই, তাদের কাছে আপনার সুরক্ষা ও নিঃশঙ্ক চিত্তে আপনার এগিয়ে চলাটাই আসল বিষয়!

ব্যাংক থেকে লোপাট হচ্ছে টাকা। স্বাস্থ্যখাত থেকে ভয়ঙ্কর লুটপাট হয়েছে মহাসাগর ডাকাতির স্টাইলে! ভয়ঙ্কর এই করোনা আতঙ্কের মধ্যেও নকল এন-৯৫ মাস্ক ঢুকে যায় সরকারি ওষুধের গুদামঘরে! কোনও তদন্ত হয় না, শাস্তি তো দূরে থাক! কিন্তু একজন চিকিৎসক যখন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রির অপ্রতুলতা কিংবা নিম্নমানের অভিযোগ করেন, তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়; হয়তো সেটা আপনি জানতেই পারেন না! একজন সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্জন, যিনি নিজেকে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়াতে সম্মতি হননি, তাকেও অবসরে যাওয়ার ১৫ দিন আগে শাস্তি ভোগ করতে হয়! আপনি কী সীমাহীন কষ্ট করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলায় জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে করোনা মোকাবেলা নিয়ে মতবিনিময় করেন! অথচ আপনি জানতেও পারেন না, আপনার এই মহৎ কর্মপরিকল্পনা নস্যাৎ করতে একটি মহল দারুণ সক্রিয়। আপনার ভিডিও কনফারেন্সের আগেই জেলায় জেলায় কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষ নির্দেশনা পৌঁছে যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী বলা যাবে, কী বলা যাবে না! কর্মকর্তাদের ঘাড়ে কয়টা মাথা যে, ওরা ওই গোপন নির্দেশনার বাইরে আপনাকে সত্যটা জানাবে! সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতির বিভ্রান্তি মানুষকে বুঝি জানিয়ে দিয়ে যায়, প্রশাসনের পরতে পরতে জামায়াত বিএনপির আণ্ডাবাচ্চারা অনুকূল সময়ের জন্য প্রতীক্ষা করছে! মানুষ যখন এমন অসঙ্গতির বিষয় জানতে পারেন, তখন তারা আপনাকে ঘিরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় লীন হয়ে যান! কী করার ক্ষমতা আছে তাদের! প্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত নেতা কর্মী সমর্থকেরা তো আপনার কাছে কোনও বার্তা প্রেরণের সুযোগই পান না; তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের তো সংযোগ সড়ক কিংবা সেতু সেই কবে থেকেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে রয়েছে; বিধ্বস্ত সড়ক-সেতু মেরামতের কোনও লক্ষণও নেই!

আপা, আওয়ামীলীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়, আওয়ামীলীগ একটি দর্শন আদর্শ ও আবেগের নাম। তৃণমূলে আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত নেতা কর্মী সমর্থকদের চাওয়া শুধুই এক চিলতে ভালোবাসা ও মূল্যায়ন। আমি এমন বহু নজিরের কথা বলতে পারি, তারা দলের জন্য প্রাণ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না! আওয়ামীলীগের হাল চিত্রটি এমন হয়ে গেছে, দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ভয়ঙ্কর বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হন তৃণমূল! দল যখন ক্ষমতা থেকে সরে যায়, দলের এমপি মন্ত্রীদের কিচ্ছু হয় না, কিন্তু বিএনপি জামায়াতের তাণ্ডবে ভিটে মাটি ছাড়া হন তৃণমূলের বহু নেতা কর্মী সমর্থক। আপনি ছাড়া আর কেউ তাদের কথা কিংবা ব্যথা অনুভব করেন বলে তো আমার অন্তত মনে হয় না। আবার যখন দেশে জাতীয় নির্বাচন সামনে আসে, এতো নির্যাতন নিপীড়ন বঞ্চনার পরও তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির ভিটেয় থাকা মেহগনি গাছ বিক্রির টাকায় এলাকায় মিছিল করেন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখর এলাকা, উচ্চস্বরে বলেন, ভোট দিন নৌকায়। তৃণমূলের এই মানুষগুলোকে কেউ একটু সম্মান করলো না, করলো না কোনও মূল্যায়ন। অথচ ওদের চোখের সামনে এমপি মন্ত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতায় দলে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি জামায়েতের ক্যাডারেরা, যাদের হাতে এখন তৃণমূলে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব, তারা কোটি কোটি টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন, টাকা বিদেশে পাচার করে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে্ন। তৃণমূলে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ও নিবেদিত বহু ঠিকাদার দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছেন না; তারা কর্মহীন হয়ে অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত। অথচ বিএনপি জামায়াতের ক্যাডার, হালের হাইব্রিড লীগ নেতাদের ভাগ্যদেবী কী সুপ্রসন্ন!

শ্রদ্ধেয় আপা, আমি একজন নগন্য মানুষ। আওয়ামীলীগের তৃণমূলে হতাশা বঞ্চনা নিপীড়নের চিত্র আমাকে খুব যন্ত্রণা দেয়! আপনার ও আপনার নেতৃত্বের আওয়ামীলীগের উপর ভর করেই তো আমি অনিয়ম দুর্নীতি অসঙ্গতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট কথা বলি। এই স্পষ্ট কথনের পেছনে আমার ব্যক্তিগত কোনও ধান্ধাবাজি নেই। বরং এজন্য আমাকে প্রতিনিয়ত চড়া মূল্য দিতে হয়; ঢুকতে হয় জেলেও। আপনি আছেন বলেই হয়তো আমি এমন সাহস দেখাতে পারি। যে দেশটির জন্য প্রাণভরে আমি বাবাকে বাবা ডাকতে পারিনি, স্বজনদের নৃশংস খুনের ঘটনা নিজের চোখে দেখেছি, অর্ধেক শরীর নিয়ে অচল জীবন সচল রাখতে বাধ্য হচ্ছি, সেই দেশটিকে আমি চোখের সামনে লুটপাটের কারখানা হতে দিতে পারি না। আমার এই শক্তির উৎসও আপনি। এবার আপনি ঘুরে দাঁড়ান। আমি দেশের কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করতে পারি; আপনার সাথে কোন কোন এমপি মন্ত্রী থাকবেন, থাকবেন না, সেই হিসেব এখন অপ্রয়োজনীয়; আপনার সাথে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ রয়েছেন, তারা থাকবেনও। আপনি দ্রুত বঙ্গবন্ধুর প্রাণের সংগঠন আওয়ামীলীগকে বাঁচান, তাতেই বাঁচবে দেশ, দেশের মানুষ। কেননা আওয়ামীলীগে প্রাণ ফিরলেই বেঁচে যাবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। আপনি যদি এখনই দল বাঁচানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করেন, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি, আমিও আর বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখবো না; তৃণমূলের পরীক্ষিত ও নিপীড়িতদের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবো। এবার সিদ্ধান্ত নিন আপনি নিজেই।

(অ/মে ১৪, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

৩১ মে ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test