E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

এখনই মুছে ফেলা হোক ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম

২০১৬ ডিসেম্বর ১৭ ১২:১৩:২৮
এখনই মুছে ফেলা হোক ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম

প্রবীর সিকদার


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সকল স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আদালত ৬০ দিনের মধ্যে দেশের সকল স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

হাইকোর্টের ওই আদেশ যুগান্তকারী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে হাইকোর্টের এই আদেশ বিশাল ভূমিকা রাখবে। যুগান্তকারী এই আদেশের জন্য মহামান্য হাইকোর্টকে স্যালুট জানিয়ে বলতে চাই, ফরিদপুর সদরে একাত্তরের শান্তি কমিটির সদস্য তথা স্বাধীনতা বিরোধী তথা পাকিস্তানী দালালদের নামে অন্তত ১২টি সড়ক ও স্থাপনা রয়েছে। যেসব স্বাধীনতা বিরোধীর নামে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে তারা হলেন আলাউদ্দিন খান, খোন্দকার নুরুল হোসেন, এডভোকেট এ আর বাকাউল, আব্দুর রাজ্জাক মিয়া, রকিব উদ্দিন আহমেদ, মাওলানা আব্দুল আলী, মহিউদ্দিন আহমেদ ও আ. ওহাব মিয়া । এদের মধ্যে খোন্দকার নুরুল হোসেনের নামেই রয়েছে তিনটি সড়কের নাম এবং রকিব উদ্দিন আহমেদের নামে সড়ক ছাড়াও রয়েছে একটি পৌর মার্কেটের নাম। স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের এই সব সড়ক ও স্থাপনা রয়েছে ফরিদপুর শহর এলাকাতেই।

ফরিদপুর শহরের বাইরে কিন্তু ফরিদপুর সদর এলাকার কানাইপুরের ভাটিকানাইপুরে রয়েছে ফরিদপুরের আরেক স্বাধীনতা বিরোধী ও একাত্তরের কানাইপুর গণহত্যার নায়ক ফজলুল হক ওরফে ফজলু মুন্সীর নামে একটি স্কুল। ওই স্কুলটির নাম পীর ফজলুল হক আইডিয়াল স্কুল। ওই স্কুলটির নামকরণ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করবার পরও সেটি বহাল রয়েছে।

হাইকোর্টের সুস্পষ্ট রায় কিংবা নির্দেশনার পরও কি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুছে ফেলার উদ্যোগ নেবেন না? নাকি এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদেরকে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? আশার কথা, নাটোর জেলা প্রশাসন ৬০ দিন অপেক্ষা করেননি, তারা হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে সেই জেলার বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম ইতোমধ্যেই মুছে ফেলতে শুরু করেছেন। আমি এ জন্য নাটোর জেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করছি, ফরিদপুর প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আর কালবিলম্ব না করে জেলার বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুছে ফেলবেন এবং গণমানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে নেবেন।

(পিএস/এএস/ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

১৭ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test