Ena Properties
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

আমায় ক্ষমা কর পিতা : ১৪

২০১৭ আগস্ট ১৪ ০০:৩১:৫৮
আমায় ক্ষমা কর পিতা : ১৪

প্রবীর সিকদার


জেল হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার হন জাতীয় চার নেতা। এদের মধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং এএইচএম কামরুজ্জামান আগে ভাগেই সরকার পরিবর্তনের অপতৎপরতার কথা জানতেন ! কিন্তু বঙ্গবন্ধু খুন হবেন সেটা হয়তো জানতেন না। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ওই দুই সহচর এতো বড় ষড়যন্ত্রের কথা জানবার পর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন তা আজও রহস্যের জালে ঘেরা। বঙ্গবন্ধু ও মোশতাক সরকারের মন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'মন্ত্রী হেনা ভাই অর্থাৎ এএইচএম কামরুজ্জামান আমাকে জানান, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে হেনা ভাইয়ের ধানমণ্ডির ৩ নম্বরের বাসায় মেজর ডালিম তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। ডালিম তাকে ডেকেছিল। কিন্তু হেনা ভাই নামেননি। হেনা বললেন, ডালিম আমার সাথে আগেও যোগাযোগ করেছিল এবং একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাই জানতাম সে কি বলতে এসেছিল। তাই দরজা খুলিনি। হেনা ভাই আমাকে বললেন, ডালিমরা তাকে জানিয়েছিল, এই রকম একটা ঘটনা ঘটবে। বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হবে তা বলেনি। বলেছিল, তাকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং হেনা ভাইয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার হবে। হেনা ভাই আমাকে বললেন, আমি তাতে তখন রাজি হইনি। তাই ১৪ আগস্ট রাতে নিচে নামিনি। ডালিম পরে গালাগালি করে চলে যায়।'

অধ্যাপক ইউসুফ আলী ওই সাক্ষাৎকারেরই এক অংশে সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে একদিনের আলাপচারিতা প্রসঙ্গে বলেছেন, 'নজরুল সাহেব বললেন, পায়ের তলায় মাটি আছে ? আমি বললাম, স্যার কার কথা বলছেন আপনি ? সৈয়দ সাহেব বললেন, কার আবার, বঙ্গবন্ধুর কথা বলছি! আমি বললাম, কেন কি হয়েছে ? তিনি বললেন, যা দেখছি এতো ভালো ভালো মনে হচ্ছে না। আমার কাছে লোক এসেছিল। আমাকে ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। কেন ? কামরুজ্জামান হেনা সাহেবও ওইদিন আমাকে বলেছিলেন, উনাকে দিয়ে চলবে না। ক্ষমতা আমাকে নিতে হবে।'

বঙ্গবন্ধু সরকারের শীর্ষ দুই কর্ণধার সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এএইচএম কামরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে খুনের আগে খুনিরা ওই দুই শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ! প্রস্তাব দিয়েছেন ক্ষমতা গ্রহণেরও ! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভয়ংকর এই তথ্য পেয়ে এরা দুই জন কি করেছিলেন ? বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিলেন ? নাকি চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন ? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর থেকে যাবে রহস্যের আড়ালেই ! জেল হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে তারা বুঝি মহান হয়েই থাকবেন! নাকি অধ্যাপক ইউসুফ আলী চরিত্র হননের নোংরা খেলায় নেমেছিলেন !

পিতা ! তোমার পাশের বিশ্বস্ত সহচরেরা কখন কোন অন্ধকারে রহস্যের জালে বন্দী হয়েছেন তা তুমি হয়তো টেরই পাওনি ! তোমার সহজাত উদারতা তোমাকে আকাশের সীমানায় উন্নীত করলেও তোমার ঘনিষ্ঠ অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ তোমার নৃশংস মৃত্যুর পথে কোনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আমিও ভেবেছি, ৫৭০ সাবান ছাড়া মুজিবের শেষ গোসল আর হয় কি করে ! কী অকৃতজ্ঞ, কী কৃতঘ্ন সন্তান আমি !

পিতা মুজিব, আমায় ক্ষমা কর তুমি, ক্ষমা কর।

পাঠকের মতামত:

২২ নভেম্বর ২০১৭

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test