E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

নিজের দুঃখ আড়াল করে সার্কাসে আনন্দ দেয় যারা

২০১৭ ডিসেম্বর ২৮ ১৬:৫৯:৪৪
নিজের দুঃখ আড়াল করে সার্কাসে আনন্দ দেয় যারা

খুরশিদ আলম শাওন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) : শারিরীক খর্বতার কারণে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তাঁরা অদ্ভতু ও হাস্যকর। কেউ তাদের মূল্যায়ন করে না বরং উপহাস করে। কাজ চাইতে গেলে কাজও না দিয়ে মজা করে তাদের নিয়ে। এছাড়া গ্রাম গঞ্জে তাদের বনমানুষ সম্বোধন করে ডাকা হয়। কোথাও কোন থায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে কোন রকম খেয়ে বেচে থাকার চেষ্টায় তাঁরা এখন মানুষের দুঃখ ভুলিয়ে আনন্দ দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। বলছিলাম তিন ফুটের চেয়েও কম উচ্চতার ‘বামন’ মানুষদের কথা। 

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ওরস মেলার দ্য গ্রেট রওশন সার্কাসে কথা হয় এ তিন বামন মানুষের সাথে। সার্কাসের অন্যানা শিল্পীরা যখন বিভিন্ন শারিরীক কসরত দেখাচ্ছিলেন তখন এই বামন মানুষেরা তাদেরই আশেপাশে ঘুরে ঘুরে নানা অঙ্গভঙ্গি ও আনন্দ দায়ক কথা বলে দর্শকদের হাসাচ্ছিলেন।

মানুষকে আনন্দ দিলেও তাদের মনে কিন্তু নেই কোন আনন্দ। কারণ মানুষ তাদের দেখে মজা পায় কিন্তু সম্মান করে না এমনটিই বলছিলেন আবুল কাশেম। ৩৮ বছর বয়সী এই বামন মানুষটির বাড়ি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মজার অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষকে হাসাই তখন তাঁরা হাততালি দেয়। কিন্তু রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে কেউ কথাও বলে না।

আমাদের দেখে হাসাহাসি করে।’ শৈশব থেকেই সার্কাসে ‘জোকার’ হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্কাসে জোকারের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও কাজ চাইতে গেলে কেউ কাজ দেয় না। সার্কাসে জোকারের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি।’

তিনি জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর। তবে তাঁরা বামন নয়, উচ্চতায় স্বাভাবিক মানুষের মতোই। ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমার জীবনে আর কোন কষ্ট নেই। ভালোই আছি। তবে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় সার্কাসে কাজ করার জন্য।’

বাগেরহাটের রামপাল থানায় বাড়ি ৩৭ বছর বয়সী খালিদ হাসানের। তিনি জানালেন, শৈশব থেকে মাছের ঘেরে কাজ করলেও গত ৫ বছর থেকে সার্কাসের সাথে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো আল্লাহর সৃষ্টিই, তারপরেও সমাজের অনেক মানুষ আমাদের দেখে হাসাহাসি করে। তাই মানুষ হাসানোকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। তাদের হাসাতে ভালোই লাগে। এখন কষ্ট নাই।’ ২৬ বছর ধরে সার্কাসে জোকার হিসেবে কাজ করছেন আব্দুল মজিদ।

তাঁর ভাষায়, ‘খাটো মানুষ কেউ কাজে নিতে চায় না। সার্কাসে কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়েই সংসার কোনমতে চলে। তবে বর্তমান সময়ে বছরে মাত্র ৩-৪ মাস সার্কাস চলে। সার্কাস বন্ধ থাকলে আমার মতো খাটো মানুষদের খুব কষ্ট হয়। এমনিতে মানুষদের হাসিয়ে সার্কাসে ভালোই আছি। তাদেও দাবী সরকার যেন তাদের দিকে একটু সুদৃষ্টিতে দেখে।’

আসলে সমাজের সকলের এদের প্রতিএগিয়ে উচিত জানিয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন,আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই এদের সুরক্ষা দেওয়া স্বাভাবিক চলাফেরা নিশ্চিত করা সহ রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করার।

(ওএস/এসপি/ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test