Occasion Banner
Mobile Version

লিলিপুটদের দেড় হাজার বছরের প্রাচীন গ্রাম

২০১৮ জানুয়ারি ১২ ১৬:৩৪:০৩
লিলিপুটদের দেড় হাজার বছরের প্রাচীন গ্রাম

ফিচার ডেস্ক : জনাথন সুইফটের লেখা ‘গালিভার্স ট্রাভেল’ এর গল্পগুলোর কথা মনে আছে? এক দেশের সব মানুষেরা ছিল অনেক ছোট আকারের। গালিভারের হাতের তালুতে একসাথে তুলে নেওয়া যেত এমন কয়েক জনকে।

গালিভার্স ট্রাভেলের সেই কাহিনী রূপকথা হলেও বাস্তবেও কিন্তু এমন ক্ষুদে মানুষেরা ছিলেন। ক্ষুদে মানুষদের ছিল পুরো একটি গ্রাম। সম্প্রতি এমন খবরই জানিয়েছে বিবিসি।

ইরানের পূর্বাঞ্চলে মাখুনিক নামের এক গ্রাম আছে যেখানে প্রায় একশ বছর আগে দেখা যেত বামন বা ক্ষুদে মানবদের। আফগান সীমান্ত থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরের এ গ্রাম প্রায় দেড় হাজার বছর পুরনো। সেসময় এই গ্রামে যেসব মানুষেরা ছিলেন তাদের গড় উচ্চতা ছিল বর্তমান সময়ের মানুষদের গড় উচ্চতা থেকে অন্তত ৫০ সেন্টিমিটার কম।

২০০৫ সালে এ গ্রাম থেকে একটি মমি পাওয়া যায় যার উচ্চতা ছিল মাত্র ২৫ সেন্টিমিটার। এরপর থেকেই এ অঞ্চলে বামনদের বসবাস ছিল বলে এক রকম নিশ্চিত হয় বিশেষজ্ঞরা। শুধু মাখুনিকই না বরং আশেপাশে আরও অন্তত ১২টি গ্রামে এমন বামনরা এক সময় বাস করত বলে ধারণা করেন তারা।

অপুষ্টি এবং কৃষিকাজের জন্য এ অঞ্চল উপযুক্ত না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষদের উচ্চতা ছিল কম। শুধু মানুষই না বরং পশুদেরও এ অঞ্চলে বেড়ে ওঠা অনেক কঠিন। শালগম, বার্লি, জুজুবি নামের এক ধরনের খেজুরের মত ফল আর সামান্য কিছু শস্য ছাড়া আর কিছু চাষাবাদ করা যায় না এ অঞ্চলে। সাধারণ ধরণের কিছু সবজির খাবার দিয়েই চলতে হত মাখুনিক গ্রামের বাসিন্দাদের।

এমনকি সেসময় চা পান করাকেও হাসির চলে দেখত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। ৬১ বছর বয়সী গ্রামের বাসিন্দা আহমাদ রাহনামা বিবিসি’কে বলেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম তখন এ গ্রামের কেউ চা পান করত না। যদি কেউ করেও ফেলত তাহলে তাকে নিয়ে বাকিরা হাসাহাসি করত। আর ভাবত সে মনে হয় মাদকাসক্ত”।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মাখুনিক গ্রামে প্রথম পাকা সড়ক নির্মিত হয়। এরপরেই মূলত এ গ্রামে চাল-মাংসের মত বাইরের অঞ্চলের খাবার প্রবেশ করতে শুরু করে।

বর্তমানে মাখুনিকের ঐতিহাসিক স্থাপত্য শৈলী এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার বিষয়ে একটি জাদুঘর পরিচালনা করা আহমাদ বলেন, “যখন এ গ্রামে গাড়ি চলাচল শুরু হল, এখানকার বাসিন্দারা বাইরে গিয়ে খাবার আনা শুরু করল।

মাখুনিকের আদিম মানুষগুলোর মতই এর বাসাবাড়িও ছিল খুবই ছোট এবং কম উচ্চতার। গ্রামটির প্রায় ৭০০ বাড়ির মধ্যে ২০০টি এখন আগের আমলের বাড়ি। এসব বাড়ির ছাদগুলো মাটি থেকে গড়ে দেড় থেকে দুই মিটার উঁচু। ৭০ থেকে ৮০টি বাড়ি একে বারেই নিচু এবং তার উচ্চতা দেড় মিটারের নিচে।

তবে ঘরবাড়ির এমন নিচু হওয়া শুধুই মানুষের কম উচ্চতার কারণে নয়। বরং বাসা বাড়ি নির্মাণে মানুষের যে পরিশ্রম করতে হত তা লাঘব করতেই এ গ্রামের বাড়িগুলো ছোটখাট আকৃতির এবং কম উচ্চতার। এ অঞ্চলে গবাদি পশুও লালন পালন করা যায় না বলে বাড়ি তৈরির সরঞ্জামাদি এ গ্রামের বাসিন্দাদের নিজেদেরই বয়ে নিয়ে আসতে হত। আর তাই খুব অল্পের মধ্যেই ঘর নির্মাণ করত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

তবে এ অঞ্চলের সার্বিক অবস্থা মোটেও আর আগের মত নেই। অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষদের উচ্চতা এখন অনেক স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে গ্রামটির বেশিরভাগ বাসিন্দাই স্বাভাবিক উচ্চতার এবং শারীরিকভাবে বেশ হৃষ্টপুষ্ট।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২১ আগস্ট ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test