E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রাণীশংকৈলে শিমুল গাছে পানকৌড়ির অভয়রাণ্য

২০২১ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:৪৫:২৪
রাণীশংকৈলে শিমুল গাছে পানকৌড়ির অভয়রাণ্য

খুরশিদ আলম শাওন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) : চারদিকে সবুজে শ্যামলে সমারোহ। মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটি বিশাল আকারের শিমুলগাছ। বিকেলের সোনাঁলি রোদে শিমুলের ডালে ডালে পানকৌড়ির পালক জ্বলজ্বল করছে।এ যেন পানকৌড়ির অভয়রাণ্যে পরিণত হয়েছে। একটি গাছে একসঙ্গে এত পানকৌড়ি দেখে শতব্যস্ততার মধ্যেও অনেক পথচারী একটু দাঁড়িয়ে চোখ জুড়িয়ে নিচ্ছেন। আর তা দেখে প্রাণ জুড়ায় ওই গাছের মালিক যাদব রায়ের।

যাদব রায়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার শান্তিপুর থেকে কাঠালডাঙ্গী যাওয়ার সড়ক ঘেঁষা কেউটান গ্রামে। যাদব রায় বলেন, ‘পাখিদের সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর এখানে পাখি আসে বলেই প্রতিদিন দূর-দূরান্ত অগণিত পাখিপ্রেমী মানুষরা শুধু পাখিই দেখতে আসে। এ দেখে ভালো লাগে। শীতের মৌসুম কমার সাথে সাথে পাখিদের উপস্থিতিও কমে যায়, এক সময় ধীরে ধীরে একে বারে শিমুল গাছ পাখি শুণ্য হয়ে পড়ে। তখন বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। আবার যখন গরম শেষে শীত মৌসুমী ফিরে তখন এই পাখিগুলোও ফিরে আসে, তখন বুকটা ভরে যায়। পাখির কারণে কিছু ক্ষতি হলেও, সব ক্ষতি আমি মেনে নিয়েছি ।’

সরেজমিনে দেখা যায়, কুলিক নদীর পাশে সব গাছ ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে আছে একটি শিমুলগাছ। শিমুলগাছের ডালে ডালে শুধু পানকৌড়ি আর পানকৌড়ি। কত যে পানকৌড়ি, তার হিসাব নেই। পানকৌড়ির কলকাকলিতে মুখর চারদিক। আর এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেছে অনেক মানুষ।

আর এই পাখিগুলোর নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে গাছটি। পাখিগুলোর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পাখিগুলো দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।

তবে স্থানীদের অভিযোগ, আগের মতো এবারে একটু কম দেখা মিলছে এই পাখিদের। কারন ইদানিং কিছু মানুষ হাতে বন্ধুক নিয়ে এসে পাখিগুলো শিকার করছেন। পাখিগুলো শিকার না করার জন্য বলা হলেও তারা কোন কথা শোনে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেই সাথে পানকৌড়ি পাখি শিকার বন্ধ করার দাবী জানান স্থানীয়রা।

কেউটান গ্রামের বাসিন্দা দুলাল বলেন, রাতে পাখিগুলো শিমুল গাছটিতেই থাকে। সকাল হলেই পাখিগুলো বেড়িয়ে পড়ে খাদ্যের খোঁজে। আবার সন্ধ্যা হলেই ফিরে আসে গাছটিতে। দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। এই পানকৌড়ি পাখিগুলো শিমুল গাছটিকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে বাস করছে। এক সময় এ গাছটিতে প্রচুর পরিমাণে পাখি ছিল। কিন্তু পাখি শিকারীদের কারণে তার সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

পাখিপ্রেমী সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, পাখিগুলোর কারণে ঐ এলাকার সৌন্দর্য ফিরে পায়। পাখি আমাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রচুর ভুমিকা রাখে। তাই পানকৌড়ি পাখিগুলোর নিরাপত্তা সহকারে পরিচর্যা করলে পাখির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। শিমুল গাছটি যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলকান জুলকার নাইন কবির বলেন, পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাখিগুলোর নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরো জোরদার করা হবে।

(কেএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৮ এপ্রিল ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test