E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

পত্রদূত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার তিন মাস স্থগিত

২০১৮ নভেম্বর ১৬ ২২:৪১:৪৯
পত্রদূত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার তিন মাস স্থগিত

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  মামলার বাদি নিহতের ভাই স.ম নাসিরউদ্দিনের দায়েরকৃত রিট পিটিশনের শুনানী শেষে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুসজামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাতে দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় দুস্কৃতিকারীদের গুলিতে নিহত হন পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য স. ম আলাউদ্দিন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই স.ম নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা খুনিদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাটা রাইফেলসহ সুলতানপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল ওহাবের ছেলে যুবলীগ কর্মী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। সে আদালতে ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত হিসেবে সাতক্ষীরার চিহ্নিত গডফাদার খলিলুল্লাহ ঝড়, তার ভাই সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহ কিসলু (বর্তমানে মৃত), তার আর এক ভাই সন্ত্রাসী মোমিন উল্লাহ মোহন, আর এক গড়ফাদার আলিপুরের আব্দুস সবুর, কামালনগরের আবুল কালাম, সুলতানপুরের এসকেন্দার মির্জা, কিসলুর ম্যানেজার আতিয়ার রহমান, প্রাণসায়রের সফিউর রহমান, নগরঘাটার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের নাম প্রকাশ করে। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ১০ মে অপরাধ ও তদন্ত শাখার (সিআইডি) সহকারি পুলিশ সুপার খন্দকার মো. ইকবাল উপরিউক্ত ব্যক্তিদের আসামি শ্রেণিভুক্ত করে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে উপরিউক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির অভিযোগ গঠনের পর ঝড়–, সবুরসহ কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্টের আবেদন করলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ডিভিশন এবং অ্যাপেলিট ডিভিশনের আদেশে দীর্ঘদিন মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে অ্যাপেলিট ডিভিশন বিষয়টির নিষ্পত্তি করে সকল আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি দ্রুত বিচারের নির্দেশ দেন।

এ পর্যায়ে মামলাটি সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে পুনরায় বিচার কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে পুনরায় উক্ত সবুর, ঝড়সহ কয়েকজন আসামি সাতক্ষীরা জেলার পরিবর্তে মামলাটি অন্য কোন জেলায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করলে বিচার কার্যক্রম আবারো স্থগিত হয়ে যায়। হাইকোর্ট ডিভিশন আসামিদের আবেদন না’মঞ্জুর করে আদেশ দিলে আসামিরা ঐ আদেশের অ্যাপেলিট ডিভিশনে যায়। সেখানে শুনানির পর আসামিদের আবেদন না’মঞ্জুর হয়। সে আদেশ নিম্ন আদালতে আসার পর মূলত ২০১২ সালে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ইতিমধ্যে মামলাটির ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আগামী রবিবার মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিআইডি’র সহকারি পুলিশ সুপার সিএ হালিমের সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করা হয়। তবে নিহতের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বেগম আদালতে যে সাক্ষী দিয়েছেন তা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি দাবি করে বাদি সাতক্ষীরার বর্তমান জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাদিকুল ইসলাম তালুকদারের কাছে ন্যয় বিচার পাবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

তবে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, আলাউদ্দিন হত্যা মামলাটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না করতে একটি মহল যোগসাজস করে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. ওসমান গণিকে গত ২৪ অক্টোবর অপসারন করায়। ২৮ অক্টোবর দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাসকে।
বাদি পক্ষে রিট পিটিশনটির শুনানী করেন অ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে আব্দুর রহমান।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস জানান, বাদিপক্ষের রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের তিন মাসের স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত আদেশটি রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

(আরকে/এসপি/নভেম্বর ১৬, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১২ ডিসেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test