E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চালু হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার কোটা

২০২৩ জানুয়ারি ১২ ১৯:১০:২৩
ভর্তি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চালু হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার কোটা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার থেকে ভর্তির জন্য প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’ নামকরণ করা হয়েছে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোটার সঙ্গে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কোটাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে চারটি ইউনিটে ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’-এ ভর্তি পরীক্ষা হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’ এবং ‘চারুকলা ইউনিট’। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ২০ মার্চ পর্যন্ত আবেদন চলবে। ১৮ এপ্রিল থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

সভায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৬ মে, বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ মে, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ১৩ মে এবং চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অংকন) ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। সব ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হবে। চারুকলা ইউনিট ছাড়া অন্য তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন

চারুকলা ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

আবেদনের যোগ্যতা

ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসএসসি এবং ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য দুই পরীক্ষা (চতুর্থ বিষয়সহ) মিলিয়ে জিপিএ ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের জন্য ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। চারুকলা ইউনিটের জন্য ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

বিভাগ পরিবর্তনে ভর্তিচ্ছুদের করণীয়

ভর্তি পরীক্ষায় আগের মতো আলাদা ইউনিট হিসেবে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা এখন থেকে আর হবে না। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পছন্দের ইউনিটে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর তিনটি ইউনিটেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এইচএসসি মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার কেউ যদি বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে ভর্তি হতে চায়, তাকে ‘ক’ ইউনিটেই আবেদন করতে হবে। ভর্তিচ্ছুকে বাংলায় ২৫ নম্বর (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ১০), ইংরেজিতে ২৫ (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ১০), আইসিটিতে ২৫ (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ১০) এবং গণিত, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভূগোলের মধ্যে যেকোনো একটি বিষয়ের উত্তর করতে হবে। যেখানে নম্বর থাকবে ২৫ (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ১০)।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ‘গ’ ইউনিটে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের বাংলায় ২২ নম্বর থাকবে, যার মধ্যে এমসিকিউ ১২ ও লিখিত ১০, (বিদেশিদের ক্ষেত্রে অ্যাডভান্সড ইংলিশ), ইংরেজিতে ২২ নম্বর (এমসিকিউ ১২ ও লিখিত ১০), আইসিটিতে ২২ নম্বর (এমসিকিউ ১২ ও লিখিত ১০), গণিত, পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির মধ্যে যেকোনো একটি বিষয়ের উত্তর দিতে হবে, যার নম্বর থাকবে ৩৪ (এমসিকিউ ২৪ ও লিখিত ১০)।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সবার জন্য একই ধরনের প্রশ্নপত্র থাকবে। বাংলায় ৩৫ (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ২০), ইংরেজিতে ৩৫ (এমসিকিউ ১৫, লিখিত ২০) এবং ৩০ নম্বরের সাধারণ জ্ঞান। বিদেশিরা বাংলার পরিবর্তে অ্যাডভান্সড ইংলিশের উত্তর করবেন।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১২, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test