E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

১৪ আগস্ট, ১৯৭১

কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর মাঝিগাছা অবস্থানের ওপর আক্রমণ করে

২০১৮ আগস্ট ১৩ ২৩:৫৭:১৩
কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর মাঝিগাছা অবস্থানের ওপর আক্রমণ করে

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ডেস্ক : পাকহানাদারদের একটি দল ঘোড়াশালের কাছে ঝিনারদি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি গ্রামে লুটতরাজ করতে এলে মুক্তিবাহিনীর একদল গেরিলা যোদ্ধা তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। পাকসেনারা প্রায় তিনঘন্টা যুদ্ধের পর দুটি মৃতদেহ ও কয়েকটি আহত সৈন্যকে ফেলে নরসিংদির দিকে পালিয়ে যায়।

মুক্তিবাহিনী কোম্পানীগঞ্জ থানার বসুরহাটের কাছে পাকমিলিশিয়াদের ওপর এ্যামবুশ করে। এতে একটি টয়োটা জীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়এবং ৩০ জন মিলিশিয়া হতাহত হয়। এই সংঘর্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপাই নুরুন্নবী মারাত্মকভাবে আহত হন।

মহাদেবপুর থানার হাপুনিয়া মহাসড়কে মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা একটি শক্তিশালী ডিনামাইটের বিস্ফোরণে হানাদার বাহিনীর একটি জীপ ধ্বংস হয়। এতে পাকহানাদারদের ৫ জন সৈন্য নিহত হয়।

৭নং সেক্টরের মেহেদিপুর সাব-সেক্টরে সুবেদার মেজর মজিদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদল পাকহানাদারদের কানসাট অবস্থানের ওপর মর্টার আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে কয়েকজন পাকসেনা হতাহত হয়।

ইলিয়াসের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদল মীরেরশ্বরাই হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসার পথে মিয়াজান ঘাটে পাকসেনাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে ৫ জন পাকসেনা নিহত হয় ও অনেক আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত অবস্থায় নিজ অবস্থানে চলে আসে।

কুমিল্লার মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর মাঝিগাছা অবস্থানের ওপর আক্রমণ করে। মুক্তিবাহিনীর এই সফল আক্রমণে পাকবাহিনীর ১০ জন সৈন্য নিহত হয় ও অনেক আহত হয়।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে এম ভি হরমুজ ৯,৯১০ মেট্রিক টন সমর-সম্ভার, এম বি আল আব্বাস ১০,৪১০ টন সামরিক সরঞ্জাম ও ওরিয়েন্ট বার্জ ২৭৬ টন অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদসহ যথাক্রমে ১৩,১২ ও মংলা বন্দরের জেটিতে অবস্থান করে। বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজ তিনটিতে লিমপেট মাইন লাগিয়ে নিঃশব্দে নদীর ভাটিতে ভেসে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণে জাহাজ তিনটিসহ পার্শ্ববর্তী অনেক জাহাজ বিধ্বস্ত হয় এবং পানিতে ডুবে যায়।

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির উদ্যোগে ঢাকায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রাদেশিক জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম বলেন, এবার শুধু তারাই স্বাধীনতা দিবস পালন করছে যারা পাকিস্তানকে প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ঘরে-বাইরে শত্রুর অভাব নেই। তবু একথা একশ‘ ভাগ সত্য, পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পাকিস্তানকে অখন্ড রাখার জন্য সংগ্রাম করছি। এদেশ টিকে না থাকলে আমাদের মুসলমান হিসেবে টিকে থাকা মুশকিল হবে।

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
(ওএস/এএস/আগস্ট ১৪, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test