E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

২০ আগস্ট, ১৯৭১

মুক্তিযোদ্ধারা আওলাকান্দী গ্রামের যমুনা নদীতে পাকমিলিটারী লঞ্চ আক্রমণ করে

২০১৮ আগস্ট ২০ ০৯:১৯:৩৩
মুক্তিযোদ্ধারা আওলাকান্দী গ্রামের যমুনা নদীতে পাকমিলিটারী লঞ্চ আক্রমণ করে

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ডেস্ক : মুক্তিবাহিনীর এ্যামবুশ দল কুমিল্লার এক মাইল উত্তরে পাক বর্বরদের একটি টহলদার প্লাটুনকে এ্যামবুশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত আক্রমণে পাকসেনারা হতচকিত হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়ন করে। এই এ্যামবুশে ১১ জন পাকসেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের একটি মেশিন গান ও কয়েকটি জি-৩ রাইফেল দখল করে।

করাচীর মাসরুর বিমান ঘাঁটির ইন্সট্রাক্টর ফ্লাইয়ার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তান বিমানবাহিনীর টি-৩৩ বিমানে করে মুজিব নগর আসার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২৯ নভেম্বর, ১৯৪২ ঢাকার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

মাসুদ হোসেন আলমগীর নবেলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল সারিয়াকান্দি থানার আওলাকান্দী গ্রামের পূর্ব পাশে যমুনা নদীতে একটি পাকমিলিটারী লঞ্চকে আক্রমণ করে। রকেট লাঞ্চারের আঘাতে লঞ্চটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় এবং সকল আরোহী নিহত হয়।

পাঁচদিন পাঁচরাত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকা পাকহানাদার মুক্ত করে। আনন্দে উদ্বেলিত জনগণ চিলমারীর রণক্ষেত্রে এসে দেখতে থাকে বাঙ্কারে বাঙ্কারে পড়ে থাকা শতাধিক হানাদার ও রাজাকারের লাশ।

মুক্তিযোদ্ধা পান্ডব চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সুনামগঞ্জে পাকবাহিনীর মুসলিমপুর অবস্থান আক্রমণ করে। এক ঘন্টারও অধিক সময় যুদ্ধের পর পাকসেনাদের চাপে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ কৌশল পরিবর্তন করে এবং জিরানপুর গ্রামে এসে অবস্থান নেয়।

মুক্তিবাহিনী খুলনায় পাকবাহিনীর শ্যামনগর অবস্থানের ওপর তিনটি কলামে যথাক্রমে ক্যাপ্টেন হুদা, লেঃ বেগ এবং নায়েব সুবেদার আবদুল গফুর ও হাবিলদার সোবাহানের নেতৃত্বে তীব্র আক্রমণ চালায়। তুমুল যুদ্ধের পর পাকসেনারা তাদের অবস্থান ত্যাগ করে এবং শ্যামনগর মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে।এ সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনী ৪ জন পাকসেনার লাশ উদ্ধার করে ও ৪ জনকে আহত অবস্থায় বন্দী করে। অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ইলিয়াসসহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকসেনারা ধরে নিয়ে যায়।

রাওয়ালপিন্ডিতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দফতর থেকে এক প্রেসনোটে বলা হয়ঃ বেআইনী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান প্রখ্যাত আইনজীবী এ.কে.ব্রোহীকে বিশেষ সামরিক আদালতে তাঁর পক্ষ সমর্থনের জন্য মনোনীত করেছেন।
প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ প্রধান গত ১১ আগস্ট বিশেষ সামরিক আদালতে প্রথম উপস্থিত হবার জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তিনজন আইনজীবীর নামের তালিকা প্রদান করেন। গত ১১ আগস্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার শুরু হয়েছে। মামলার সমস্ত শুনানি গোপন রাখা হবে।

সামরিক আইন প্রশাষক লে: জেনারেল টিক্কা খান ১৩ জন জাতীয় পরিষদ সদস্যকে সামরিক আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয় এঁরা হচ্ছেন : নূরজাহান মোর্শেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, এম. ওয়ালিউল্লাহ, কাজী জহিরুল কাইয়ুম, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, খোরশেদ আলম, নূরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ মোহাম্মদ আলী, খাজা আহমদ, নূরুল হক এবং মোহাম্মদ হানিফ।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয কমিটির এক বৈঠকের প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতীয় যুদ্ধবাজ ও তাদের চরদের যোগসাজশে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের দমন করার কাজে সরকার যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, মজলিশে শুরা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত কথিকা ‘বিশ্বজনমত’ :

.............পশ্চিম পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান খান আবদুল ওয়ালী খান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পৌঁছে সেখানকার একটি ইংরেজী পত্রিকা ‘নিউ ওয়েভ’-এর সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনীতি এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়-পাকিস্তান ছিন্নভিন্ন টুকরো টুকরো হয়ে যাবেই। পাকিস্তানের রাজনীতি এখন যেভাবে চলছে তাতে সমূলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করার আর কোন উপায় নেই।

তিনি বলেন : বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যা করছে তা প্রাগৈতিহাসিক বর্বরতাকেও হার মানায়। তবে পাকিস্তানি সৈন্যদের পক্ষে বাংলাদেশকে দখলে রাখা আদৌ সম্ভব নয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যদি মনে করে থাকে যে, চরম অত্যাচার চালিয়ে, গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখে বাংলাদেশের বীর জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারবে তাহলে তারা চরম ভুল করবে।
ওয়ালী খান বলেন, ধর্ম যে ভিন্ন সংস্কৃতির দুটি জাতির রাষ্ট্রীয় বন্ধন হতে পারে না, তা চিরকালের মতো প্রমাণিত হয়ে গেল। ধর্মকে রাষ্ট্রীয় বন্ধন বলে যারা ভাবতো এবার তাদের মোহমুক্তি চিরদিনের মতো ঘটে গেল। তিনি বলেন, আমার কাছে বাঙালীদের প্রতিরোধ আন্দোলনের গুরুত্ব এখানেই। পিন্ডির বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখ করতে গিয়ে ওয়ালী খান একটি উপমা দিয়ে বলেন, ‘দুধের কলসী ভেঙ্গে গেছে। দুধ চারিদিকে গড়িয়ে পড়ছে। আর তার চারপাশে বসে তারা কাঁদছে।’ পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন : পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ যে কেবল অন্ধকারাচ্ছন্ন তা নয়, বিপজ্জনক।

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
(ওএস/এএস/আগস্ট ২০, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test