E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

ভারতের পশ্চাতমুখী যাত্রা

২০১৯ ডিসেম্বর ১৮ ১৮:১২:২১
ভারতের পশ্চাতমুখী যাত্রা

রণেশ মৈত্র


সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ তার বিশাল গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে নিশ্চিতই পশ্চাৎ মুখী যাত্রা শুরু করেছে। বিরোধী দল সমূহের তীব্র বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বি.জে.পি নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক বিল পাস করে ভারতের নাগরিকত্ব আইনটি অনুমোদন করায় সমগ্র বিশ্ব আজ হতভম্ব-ভারতের কোটি কোটি সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মানুষ বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদ মুখর। 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ এতটাই সরকারের জারী করা ১৪৪ ধারা, সান্ধ্য আইন, সেনা টহল প্রভৃতিকে অমান্য করে আসামের গুয়াহাটি নগরীতে মিছিলে মিছিলে রাজপথ প্রকম্পিত করে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অকাতরে প্রাণ দিচ্ছে। এই নিবন্ধ লেখার সময় পর্য্যন্ত (১৩ ডিসেম্বরের দুপুর) পাঁচজন নিহত হয়েছেন-আরও অনেক প্রতিবাদকারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবুও আন্দোলন থেমে থাকে নি। সেখানকার মানুষ দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত নিবর্তনমূলক পদক্ষেপগুলিকে থোড়াই পরোয়া করছেন।

পশ্চিম বাংলা সহ ভারতের সকল অঞ্চলের জন নন্দিত বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, কবি, শিল্পী, রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্ত গুণীজনের অবিলম্বে এন.আর.সি. নামক ঘৃণিত সাম্প্রদায়িক আইনকে অবিলম্বে বাতিল বা প্রত্যাহারে করে নিয়ে ভারতের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে, অমলিন রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই যুক্ত বিভৃতির প্রভাব সমগ্র ভারতের মানুষকে বিষাক্ত ঐ আইনটির বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে।

এখানে স্মর্তব্য যে ভারতের সংবিধানে যে তিনটি মৌলিক নীতিকে বিগত শতকের মাঝামাঝিতে বিপুল ভোটাধিক্যে গৃহীত অনুমোদিত হয়েছিল সেগুলি হলো গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। বি.জে.পি এই দশকের শুরুতে গণতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্রমান্বয়ে ভারতীয় সংবিধানের তিনটি মৌলিক স্তম্ভকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে লোকসভায় বিপুল সংখ্যাধিক্যের জোরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে পারলেই নৈতিক ও আদর্শিকভাবে ভারতের সকল ঐতিহ্য ও গৌরবকেই ম্লান করে দিতে বসেছে।

ভারতের উগ্র দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স (এনডিএ) প্রথম দফায় ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই ভারত জুড়ে সাম্প্রদায়িক কার্য্যকলাপ শুরু করেছিল। ভুলে যাওয়া অসম্ভব যে তখন তারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভারতের নাগরিক মুসলমান, খৃষ্টানসহ নানা অ-হিন্দু ধর্মীয় নাগরিককে স্ব স্ব ধর্ম বাধ্যতামূলকভাবে পরিত্যাগ করিয়ে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করতে শুরু করেছিল।

এর দ্বারা তারা ভারতের সংবিধানে স্পষ্টাক্ষরে লিখিত দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ বিশাল অনুযায়ী ধর্ম পালনের বা না পালনের যে মৌলিক অধিকারে স্বীকৃতির উল্লেখ আছে তার লংঘন করতে শুরু করেছিল অত্যন্ত নগ্নভাবে। ভারত জুড়ে এর প্রতিবাদ ও উঠেছিল প্রতিবাদ ধ্বন্তি হয়েছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও। শেষ পর্য্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বাপধীন জোটকে ঐ কর্মসমূচী বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।

তবে তারা তাদের ঐ ঘৃণ্য কাজের সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছিল সুদূর অতীতে ভারত বর্ষের সকল নাগরিকই ছিল হিন্দুধর্মের বিশ্বাসী। কিন্তু কালক্রমে নানা দেশ থেকে এসে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অথবা সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপের মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে ধর্মান্তরিত করে মুসলমান বা খৃষ্টান বা অন্যান্য ধর্মের দীক্ষিত করেছিল। সে কারণেই তারা আসলে কেউই মুসলমান বা খৃষ্টান বা বৌদ্ধ নয়-সকলেই হিন্দু। তাই তাদের হিন্দুত্বে পুনরায় দীক্ষিত করে সকলকে মূল ধর্মে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বি.জে.পি নেতৃত্বাধীন জোট ঐ প্রকল্প থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেও পরবর্তীতে শুরু করে গো-হত্যা, গো-মাংস ভক্ষণ বিরোধী উগ্র ধর্মান্ধ কর্মসূচী। উত্তর ও মধ্য ভারতের নানা অঞ্চলে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করা হয় কিন্তু ভারতের বেলার ভাগ রাজ্যে আজও তা নিষিদ্ধ হয় নি। কিন্তু গো-মাংস ভক্ষণ কোথাও নিষিদ্ধ নয়-শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংসকে নিষিদ্ধ বিবেচনায় তা ভক্ষণে বিরত থাকেন। কিন্তু অপর ধর্মাবলম্বী যেমন মুসলমান, খৃষ্টান প্রভৃতি গোমাংস খেয়ে থাকেন। মুসলমানরা ঈদে গরু কোরবানীও দিয়ে থাকেন।

এ সকলকে উপেক্ষা করে ভারতের বি জে পি’র মাস্তানেরা গো-হত্যা, গোমাংস ভক্ষণ ও গো-মাংস সংরক্ষণ বা বহনের অজুহাত তুলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করতে, আহত করতে, আক্রমণ করতে শুরু করে। এ নিয়ে সারা ভারতে তখন মুসলিম অধিবাসীদের মনে গভীর আতংক ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক মাস চলার পর কঠোর সমালোচনার প্রেক্ষিতে বিজেপির মাস্তানেরা এই কার্য্যকলাপ থেকে বিরত হয়। এগুলি সবই হয় বিজেপি প্রথম দফায় দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে।

সম্প্রতি দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হয়ে গেল ভারতের লোকসভার। এবারেও তারা দেশব্যাপী মুসলিমদের নাগরিকত্ব হরণ (এন.আর.সি), রাম মন্দির নির্মান সহ হিন্দুদেরকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোটে নির্বাচিত হয়।

এই দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হয়ে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কাস্মীরে হঠাৎ করে প্রথম তারা দশ হাজার সৈন্য আধুনিক অস্ত্রশাস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় পাঠায় যেন তারা কাস্মীর জয় করতে বসেছে। হিমালয়ের কোলে অবহিত কাস্মীর ভুস্বাস হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাত। কাস্মীরের জনস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অসংখ্য পার্ক, বিদেশী পর্য্যটকদের জন্যে নির্মিত হোটেল রেস্তোঁরা, রাস্তাঘাট, যান বাহন, পাহাড়ী বাতাস সব মিলে কাস্মীর স্বর্সতুল্য স্থানই ছিল বটে।

তবে ১৯৪৭ সালে যখন সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দ্বিখন্ডিত করে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটলো তখন কাস্মীর সহ কয়েকটি অঞ্চল ভারত না পাকিস্তানের অংশীভূত হবে তার মীমাংসা অসম্পূর্ণ রেখে ইংরেজরা বলে যায়।

কাস্মীর বরাবরই মুসলিম প্রধান। কিন্তু সেখানকার রাজা ছিলেন হিন্দু। দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে সমগ্র ভারতে ও পাকিস্তান উগ্র সাম্প্রদায়িক আবহ রচিত হয়েছিল তার ফলে ইংরেজরা বলে যাওয়ার পরও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু থেকেই শত্রুতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা উভয় দেশের মধ্যে সময় সময় সৃষ্টি হয় তার পরিণতিতে যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতও লেগেই থাকতো।
কাস্মীরের রাজা কাস্মীরী জনগণের কোন মতামত না নিয়েই ভারতে যোগদানের কথা ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে নতুন করে পাকিস্তান যুদ্ধ ঘোষণা করে। ভারত তার সামরিক শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করে। কিন্তু এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে কাস্মীরের একটি অংশ পাকিস্তান দখল করে নেয়। আজও সে অংশ পাকিস্তানের দখলে আছে।

কাস্মীরী জনগণ রাজার ভারতে যোগদান ভাল চোখে দেখে নি। এর সুযোগ নিতে পাকিস্তান সর্বদাই যুদ্ধ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এরই পরিণতিতে পন্ডিত জওয়াহের লাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ৩৭০ ধারা জারী করে কাস্মীর বাসীকে কতকগুলি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। এতে কাস্মীর বাসীরা সন্তুষ্ট হন। সেখানে অনুষ্ঠিত দফায় দফায় নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত সরকারও গঠিত হয়ে আসছিল। এই বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভারতের জনগণের মধ্যেকার সাম্প্রদায়িক অংশ মেনে নিতে পারে নি। তাই ৩৭০ ধারা জারীর দীর্ঘ ৭০ বছর পরে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ঐ ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাস্মীরকে সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারের আগুতায় নিয়ে আসে।

কিন্তু সম্ভাব্য বিরোধিতার আশংকায় নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহ নেতৃত্বাধীন সরকার ৩৭০ ও ৩৫(ক) ধারা বাতিলের আগেই হাজার হাজার ভারতীয় সেনা পাঠায়, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে, সংবাদ সংগ্রহ, পাঠানো, সংবাদপত্র প্রকাশ প্রভৃতি অসম্ভব করে তোলার লক্ষ্যে এবং কাস্মীর বাসীদের পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বিদেশী সাংবাদিকদের কাস্মীরের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয় এমন কি ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রবেশও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

অত:পর যখন ধারা দুটি বাতিল ঘোষণা করা হয় তখন কারফিউ জারী করেও কাস্মীরবাসীদের বিদ্রোহ প্রতিরোধ করা যায় নি। হাজারে হাজারে গ্রেফতার অব্যাহত থাকে। এভাবে কাস্মীর সারা বিশ্ব থেকে বিছিন্ন থাকে কয়েক মাস। অত:পর ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হতে থাকে কিন্তু পরিস্থিতি আজও স্বাভাবিক হয় নি।

কিন্তু কাস্মীরের এই পরিস্থিতি সৃষ্ঠির যে সাম্প্রদায়িক, বিশ্ববাসীর তা বুঝতে আদৌ বিলম্ব হয় নি। এখন কাস্মীরের বাইরে থেকে কাস্মীরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানদেরকে কাস্মীরে পাঠানো হচ্ছে জমি জমা কিনে বাড়ীঘর নির্মান, ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিনিয়োগ প্রভৃতি করার লক্ষ্যে। এগুলি এতকাল কাস্মীরীরাই নিয়ন্ত্রণ করতো। পরিণতিতে নিশ্চিতভাবেই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সৃষ্টি, জঙ্গীবাদের উত্থান এবং পাকিস্তানের পক্ষে নতুন করে সুযোগ সৃষ্টি। ভারত জুড়ে কাস্মীর বিদ্বেষও সৃষ্টি করা হয়েছে। কাস্মীরের বাইরে কাস্মীরীদের সন্তানদের লেখা পড়া, চলাফেরার ক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তার সৃষ্টি হয়েছে। এমন কি, কয়েক মাস কাস্মীরের বাইরে থাকা কাস্মীরীদের সন্তানদের সাথে কাস্মীরীদের টেলিফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এক কথায় কাস্মীরকে এক ভীতির রাজ্য এবং কাস্মীরীদেরকে সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

ইদানীং নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের মাধ্যমে ভারতের যে কোন অংশে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্য্যন্ত সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কারণে নিস্পৃহীত হয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিমদের অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্টানিদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে যে সাম্প্রদায়িক আইন করা হয়েছে ভারত জুড়েই তার বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে শহরে-নগরে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ সংঘটিত হচ্ছে ভারতের নানা স্থানে ১৪৪ ধারা ও সান্ধ্য আইন জারী হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেস থেকে অমিত শাহকে সে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণার হুমকি দিয়েছে। এই সাম্প্রদার্য়িক বিভাজন মূলক আইন পাশের প্রতিবাদে জাপানের প্রধান মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের দু’জন মন্ত্রীও তাঁদের পূর্ব নির্ধারিত ভারত সফর অকস্মাৎ স্থগিত ঘোষণা করেছেন তবে কেন তাঁরা স্থগিত করলেন তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করে না বলার ধোঁয়াসার সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুত: বাংলাদেশ সরকার এখনও এ ব্যাপারে নীরব।

ভারতের সর্বত্র তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হচ্ছে তথাকথিত এন আর সি বা ক্যাব (ঈঅই) এর বিরুদ্ধে। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেস সহ সকল অসাম্প্রদায়িক মাঠে নেমেছে। কেরাক্ষ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সমগ্র ছাত্র সমাজ ঐ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেছে।

কিন্তু সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায় সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু ভারতীয় বাঙালি মুসলিমকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে (পুশ ইন)। যদি একথা সত্য হয় তবে নাগরিকত্ব সংশোধন মূলক ঐ সাম্প্রদায়িক আইনটি উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর যদি পুশ ইন ভারতের নানা দিক থেকে হতে থাকবে বলে আশংকা করা হচ্ছে তা যদি বাস্তবেই ঘটে তখনও কি অতীতের মত বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে ভারতের আভ্যন্তরীন ব্যাপার বলেই উড়িয়ে দেবেন।

আসলেই ভারত সরকার এই বিষাক্ত আইন পাশ করে নতুন করে উপমহাদেশীয় সংকট সৃষ্টি করেছে।
ভারত এই ব্যাপারগুলির মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি মারাত্মক ভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

অপরদিকে আর্থিক দিক দিয়েও ভারত ক্রমসঃই নিম্নমুখী বলে নানা গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের, এমন কি, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দায়ী করা হচ্ছে। সেখানে কৃষক বিদ্রোহ ভারতের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, শ্রমিক ধর্মঘটও ঘটছে।

এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের যাত্রা যে পশ্চাতৎমুখী এবং সার্বিকভাবেই প্রগতি-পরিপস্থী তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

লেখক : সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ, সাংবাদিকতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত।

পাঠকের মতামত:

০১ এপ্রিল ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test