E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

কুঁজো দাঁড়াইতে চায়, বসিতে চায়, শুইতেও চায় 

২০২০ মে ০৮ ২৩:২৪:২৭
কুঁজো দাঁড়াইতে চায়, বসিতে চায়, শুইতেও চায় 

রঘুনাথ খাঁ 


শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরার একটি কাগজে চোখ বুলাইতেছিলাম। হঠাৎ নজরে আসিল ‘নিউ মার্কেট চত্বরে প্রেসক্লাবের ব্যানারে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সম্পৃতা(?) নেই’ । দ্রুত পড়িয়া ফেলিলাম। সাথে সাথে মনে পড়িল ‘কুঁজো আসলেই খাড়া হইয়া দাঁড়াইতে চায়, বসিতে চায়, আবার বিছানায় সটান হইয়া শুইতেও চায়’।

এই কুঁজোর কথাই বলি। আমরা যাহাকে কুঁজোর আপন ভ্রাতা বলিয়া জানিতাম তিনি মৃত্যুর আগে বলিয়াছেন ‘ ও তো আমার ভ্রাতা নয়, ওতো এক নাপিতের ছেলে’। লেখাপড়া শেখে নাই। ওতো আনসার সদস্য ছিল। অনৈতিক কাজের জন্য ছাঁটাই হইয়াছিল। পরে পালাইয়া আসিয়া আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিড়ি বানাইতো। কিছুদিন পর সেখান থেকেও খেদা খাইয়া সাতক্ষীরায় আসিয়া পান বিড়ি বিক্রি করিল। সেখানে ভিউ কার্ড বিক্রি করিত। কিছুদিন পর সে হকারি করিতে শুরু করিল। ঢাকা যশোর খুলনার খবরের কাগজ বেচাকেনা করিত। সেই হকারের পদ পদবিটি অবশ্য এখনও রহিয়াছে। বেশ টাকাও গোছাইয়া ফেলিল। এর ফাঁক দিয়া সে জোচ্চুরি করিয়া মিথ্যা তথ্য দিয়া হঠাৎ একটি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক হইয়া বসিল। যিনি তাহার ঘনিষ্ঠ লোক হিসাবে পত্রিকাটির সম্পাদক পদটি পাইয়াছিলেন তাহাকে সম্পাদকের পদ হইতে হঠাৎ সরাইয়া দিল । এর পর সেই কুঁজোই হইল পত্রিকাটির সম্পাদক প্রকাশক।

মুর্খ হইয়াও একটি দৈনিকের সম্পাদক প্রকাশক হইতে সে অনেক কাঠ কয়লা পুড়াইয়াছিল জোট সরকার আমলে। একজন এমপিকে দিয়া তদবির করাইয়া কাগজটি বহাল রাখিয়াছিল। ইহার পর হইতে সে জোট সরকারের খাদেম হইয়া ওঠে। জামায়াত নেতা ও এমপিরা তাহার অতি ঘনিষ্ঠ হইয়া ওঠে।

এই কুঁজো ২০১২ সালে কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদায় ধর্মীয় উসকানি দিয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি করিয়া দাঙ্গা বাধাইয়াছিল। জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে সে নিজেকে পরিচিত করাইয়াছিল। হাজার হাজার জনতার বিক্ষোভের মুখে সাতক্ষীরার তৎকালিন জেলা প্রশাসক ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা কাগজটির প্রকাশনা বন্ধ ঘোষনা করিয়াছিলেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংক্রান্ত সেসব মামলা এখনও বিদ্যমান। কুঁজোসহ তাহার কয়েক সহযোগী রাষ্ট্রাদ্রোহী আইনে এক মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামি ।

আগেই বলিয়াছি নিরক্ষর এই কুঁজোর সাধ হইলো যে ‘জোট সরকারে তেল মারিয়া সম্পাদক তো হইয়াছি এখন বর্তমান সরকার আমলে প্রেসক্লাবের নেতা হইতে হইবে’। এইবার তেল মারিয়া ধরনা ধরিল অন্যত্র। তাহার প্রেক্ষিতে বলবান হইয়া কুঁজো তাহার পান্ডা বাহিনী দিয়া সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে প্রকাশ্যে হামলা করাইয়া সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করিয়াছিল। কিছুদিন পর তাহার সান্ডা পান্ডা লইয়া সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করিল। বলিল ‘আমি আজ হইতে এখানকার সব । মানে আমিই শীর্ষ কান্ডারি’। সত্যিকার অর্থে কুঁজোর সাধ কিছুটা হইলেও পূরণ হইয়াছে। হকার কুঁজো এখন জাতে উঠিয়াছে। সরকার ও প্রশাসনের গুনগান করিযা তাহাদের নৈকট্য লাভ করিতে চায়। এখন কুঁজো সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের সারিতে দেওয়া চেয়ারে বসিতে চায়। এমন একটি ঘটনায় কিছুদিন আগে তাহাকে এক কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত চেয়ার হইতে উঠাইয়া দেওয়া হইয়াছিল।

শুনিয়াছি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বেশ কয়েকজন সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকের সমন্বয়ে সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা শহিদ স.ম আলাউদ্দিন চত্বরে এক মানববন্ধন করিয়া যশোরের সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাইয়াছেন। তাহারা বলিয়াছেন এমনটি হইতে থাকিলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হইবে। অবিলম্বে আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানাইয়া তাহারা বলিয়াছেন আর যাহাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সরকারকে সতর্ক হইতে হইবে। পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে তাহারা যে মন্তব্য করিয়াছেন তাহাতে আমি কোনো অন্যায় দেখিনা। ইহাতে সরকারের ও পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের কি হইল তাহা কি বুঝাইতে পারিবে হকার কুঁজো?

অথচ সাংবাদিকদের এই মানববন্ধনের খবর দেখিয়া হকার সম্পাদক কুঁজো ও তার পান্ডা বািহনীর গা জ¦লিয়া উঠিয়াছে। যে কারণে পত্রিকায় উল্টাপাল্টা লিখিয়া এই ঘটনাকে পুলিশের বিরুদ্ধাচরণ বলিয়া গন্ডমুর্খ কুঁজো তাহার কাগজে প্রচার দিয়া ভালো হইবার ভোল নিয়াছে। কিছু মীমাংসিত পুরানো ঘটনা টানিয়া আনিয়া বরং পুলিশ ও প্রশাসনকে উসকাইয়া দেওয়ার চেষ্টা করিয়াছে। আরও বলিয়াছে সেদিনের ‘ওই মানববন্ধনের সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোনো সম্পর্ক নেই’।

একথা সত্য এই কারণে যে কুঁজো যে বক্তব্য তাহার পত্রিকায় ছাপাইয়াছে তাহা তো দখলদার ও হামলাকারী পান্ডাদের বক্তব্য । সাংবাদিকদের বক্তব্য হইতে পারে না। সূতরাং কুঁজোদের এই বক্তব্যের সাথে সাংবাদিক ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোনো সম্পর্ক নেই।

পাঠক তাইতো বলি একজন গন্ডমুর্খ কান্ডজ্ঞানহীন দুমড়ো মানুষকে সঙ্গী করিয়া স্বর্গে যাবার চাইতে জ্ঞানী পন্ডিতের সহিত নরকে যাওয়াই শ্রেয়।

লেখক : গণমাধ্যম কর্মী।

পাঠকের মতামত:

৩১ মে ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test