E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মডেল স্কুলই জাতীয়করণ করা উচিত

২০১৬ ডিসেম্বর ১৭ ১৬:৪০:০২
মডেল স্কুলই জাতীয়করণ করা উচিত

মো. কাজী নজরুল ইসলাম


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রাক্কালেই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এক যোগে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে ভঙ্গুঁর অর্থনীতির নবগঠিত দেশটিতে এক দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেন। যার ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ অনগ্রসর, নিরক্ষর, জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভীত রচনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে বহু সরকারের পটপরিবর্তন ঘটলেও কোন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক জাতীয়করণ করার মত মনোবল কারো কাছেই পরিলক্ষিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সনে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর পুনরায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা হিসেবে পিতৃ পদাঙ্ক অনুসরণ করে যে দৃষ্টান্ত করলেন তা ইতিহাসে বিরল এক কৃতিত্ব। শুধু তা করেই ক্ষান্ত হননি। সারা দেশের গ্রাম গঞ্জের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মান যখন ক্রমেই নিম্নমুখী তখনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন যে সকল উপজেলায় সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়/ কলেজ নেই এমন উপজেলা হেডকোয়ার্টারে একটি করে স্কুল এবং একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করা হবে।

২০১৬ সালে পর্যায়ক্রমে প্রায় তিন শতাধিক কলেজ জাতীয়করণের তালিকাভূক্ত করা হয় এবং ১২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কে জাতীয়করণের অর্ন্তভূক্ত করা হয়। অবশিষ্ট উপজেলা গুলোতেও শীঘ্রই ১৯৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ বাস্তবায়িত হলে শহরের সাথে গ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীভূত হবে। গ্রামের প্রতিভাগুলো যোগ্যস্থানে অধিষ্ঠিত হতে সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১০ সালে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়বিহীন উপজেলাগুলোতে ৩১৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মডেলে উন্নীত করেন। মডেল স্কুল নির্বাচনে যে পাঁচটি বিবেচ্য বিষয় প্রাধান্য দেয়া হয় তা হল : উপজেলা পরিষদ হতে কম দুরত্ব সম্পন্ন, সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ অবারিত, বিগত পাঁচ বছরের এসএসসি/ জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল, অবকাঠামো গত অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এমতাবস্থায় ২০১১ সনের ১৫ অক্টোবর সরকার মডেল স্কুল সমূহের সাথে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেন, তারই ধারাবাহিকতায় সকল মডেল স্কুলে ১৮টি কম্পিউটার সম্বলিত ল্যাব, তিনতলা ভবনসহ ফার্নিচার, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ফটোকপিয়ার, লেজার প্রিন্টার, ৯টি ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর, ২২টি ল্যাপটপ সম্বলিত অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ইত্যাদিতে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এত বিশাল বরাদ্দের পিছনে সরকারের সুমহান উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়েছে যে শুধুমাত্র জিলা স্কুল সমূহ নহে, মডেল স্কুল সমূহ শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে পরিকল্পিত MMC ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে রয়েছে। আমার বিশ্বাস মডেল স্কুল সমূহ জাতীয়করণ করা হলে প্রত্যেক উপজেলায় সরকারের যে বরাদ্দ সুসম্পন্ন হয়েছে এতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে আর নতুন অর্থ ব্যয় দরকার হবে না। তাছাড়া সকল মডেল স্কুলেই দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং সকল মডেল স্কুলেরই নিজস্ব তহবিলে গড়ে বিশ লক্ষাধিক অর্থ জমা রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবত সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবেই না বরং সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে এতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

একটা বিষয় সুস্পষ্ট যে, সারা বছর বিভিন্ন জাতীয় আর্ন্তজাতিক ও বিশেষ বিশেষ দিবসে উপজেলার সকল র‌্যালী, আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মডেল স্কুল সমূহের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপজেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাব পূরণ করে চলছে। লক্ষণীয় যে, উপজেলা হেডকোয়ার্টার প্রতিষ্ঠান বলেই উপজেলার সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি সকল এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানগুলো মডেল স্কুল গুলোতেই অধ্যয়নরত। এতে করে পড়ালেখার পাশাপাশি সকল প্রকার কো-ক্যারিকুলাম কার্যক্রমেও মডেল স্কুল সমূহ শীর্ষে। তাছাড়া পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশী সরকারি বৃত্তি লাভ করে চলছে।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই চিন্তা করবেন, কোন্ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করলে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক জনগগোষ্ঠী শিক্ষার অবধারিত সুযোগ পাবে। তাতেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে যাতে করে ভিশন ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন সহজতর হবে।

লেখক : প্রধান শিক্ষক, শহীদ জয়নাল আবেদীন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সুবর্ণচর, নোয়াখালী

পাঠকের মতামত:

১৫ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test