E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মির্জাগঞ্জে আউশের দাম কম লোকসানের মুখে কৃষকরা

২০১৮ সেপ্টেম্বর ০২ ১৫:৪২:০৯
মির্জাগঞ্জে আউশের দাম কম লোকসানের মুখে কৃষকরা

উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আউশের বাম্পার ফলন হলেও এবারে লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকরা। আউশ ধান কাটার পরে তাড়াহুরো করে আমন ধান লাগানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এবারে আউশ ধানের ভালো দাম না পাওয়ায় একর প্রতি প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে বাজারে আউশ ধানের দাম কম থাকায় আউশ চাষাবাদে আগ্রাহ হারাচ্ছে কৃষকরা। 

মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে মন প্রতি ৪শত টাকা কিংবা তার চেয়েও কম দামে। অথচ পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলায় আউশ ধান মন প্রতি ৭শত থেকে সাড়ে ৭ শত টাকা বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার সুবিদখালী বাজারে ধান ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ভাবে সিন্ডিকেট তৈরী করায় কৃষকদের কমমূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্যে করছেন বলেন কৃষকদের অভিযোগ।

উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের কৃষক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন,এবারে ৬০ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। চাষাবাদ খরচ,সার ও কীটনাষক খরচসহ অন্যান্যে খরচ সবকিছু মিলিয়ে যে টাকা খরচ হয়েছে তাতে খরচ টাকা উঠাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বাজারের ধানের দাম ভালো থাকলে লাভ হতো। তাই কিছু ধান বিক্রি করেছি আর অর্ধেকের বেশিধান ঘরে শুকিয়ে রেখেছি।

একই গ্রামের কৃষক মোঃ রফিক বলেন, লাভের জন্য এবারে আউশ ধানের চাষ করেছি। কিন্তু ফলন ভালো পেলেও বাজারে দাম না থাকায় এবারে কৃষকরে মাথায় হাত। ধানের বাজারে উপজেলা প্রশাসন নজর দিলে এ উপজেলার কৃষকরা লাভের মুথ দেখত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আউশ মৌসুমে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আউশের চাষ হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রেক টন ধান। আবহাওয়া ভালো থাকায় এর চেয়ে বেশি ফলনও হয়েছে।

উপজেলায় এবারে ইরি-২৭,৪৮,বাউ-৬৩, বিআর-১৬(আবদুল হাই) ও বিআর ৪২-৪৩ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছর চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের জন্য সরকারি অর্থায়নে ২০টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছিল। গত বারের আউশের ভালো ফলন দেখে এবারে আউশ চাষে কৃষকের আগ্রহ দেখা গেছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা ধান বিক্রি করতে তেমন আগ্রাহ দেখাচ্ছেনা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, এ অঞ্চলে আউশ চাষের জন্য উপযুক্ত। তাই আউশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি ভাবে ৮৩০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে আউশ ধানের দাম না থাকায় কিছুটা লোকসানের মুখে পড়বে কৃষকরা।

তবে উপজেলা প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করে যার সিন্ডিকেট তৈরী করে কৃষকদের কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্যে করাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ইউজি/এসপি/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৩ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test