E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

গ্রীস্মকালীন পালংশাক উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে পলাশবাড়ীর মমতাজ

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৭:৫৬:২৭
গ্রীস্মকালীন পালংশাক উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে পলাশবাড়ীর মমতাজ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : পালংশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। অধিক পুষ্টিকর, অধিক ভিটামিনসমৃদ্ধ ও সুস্বাদু পাতা সবজি। পালংশাক শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীস্মকালে পালংশাক চাষ করে সাফল্য পেছে পলাশবাড়ীর কৃষক মমতাজ।

চলতি বছর গ্রীস্ম কালে উন্নতজাতের পালংশাক চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই কৃষক। আশে পাশের কৃষকেরা আসছে মমতাজের কাছে পালংশাক ক্ষেত দেখতে। আর কৃষি বিভাগ বলছে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা করা হয়। আর মমতাজ বলছেন সরকারী সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরও নতুন নতুন জাতের সবজি উপহার দিতে পারবেন।

পলাশবাড়ী সদর ইউনিয়ানের নুনিয়াগাড়ীর গ্রামের মমতাজা চলতি গ্রীস্ম মৌসুমে উচু জমিতে বাস ও পলিথিনের সেড তৈরী করে উন্নত জাতের গ্রীস্মকালীন পালংশাক চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। বীজ বপনের ২০ থেকে ২৫দিনের মাথায় পালংশাক বাজারে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। মমতাজের পালংশাক দেখতে আশে পাশের কৃষকেরা আসছেন পরমর্শ গ্রহণ করছেন। অনেক কৃষক পালংশাক চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পালংশাকের পাশাপাশি লাউ ও গ্রীস্মকালীন টমেটোরও চাষ করেছেন মমতাজ।

কৃষক মমতাজ জানান, বর্তমানে ১ কেজি পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর শীতকালে ১ কেজি পালংশাক বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫টাকা। আর সেজন্যই অনেক কৃষক গ্রীস্মকালীন পালংশাক এর দিকে ঝুকছে। তিনি আরও বলেন, ঘর তৈরী থেকে শুরু করে মোট খরচ হয়েছে ২০হাজার টাকা। আর এখানের উৎপাদিত পালংশাক বিক্রি হবে ৮০ হাজার থেকে ৯০হাজার টাকা। বাচ্চু মোল্যা বলেন, আমি প্রতি বছর কৃষিতে নতুন কিছু দিতে চাই। আর সে কারনেই আমি বিষ মুক্ত পালংশাক উৎপাদন করেছি। এখানে কোন প্রকার রাসয়নিক সার ও কিটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। শুধুমাত্র জৈব্য সার দিয়ে উপাদন করা হয়েছে। প্রতিবেশীরাও পালংশাক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পলাশবাড়ীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ হয়েছে প্রায় ১১হাজার হেক্টোর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।

শ্যামপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল মল্লিক বলেন, আমরা শীতকালে পালংশাকের চাষ করি। শীতকালে ১ কেজি শাক বিক্রি করি ১০টাকা থেকে ১৫টাকা। আর মমতাজা গরমের সময় পালংশাক উৎপাদন করে ১ কেজি বিক্রি করছে ১০০ থেকে ১২০টাক। অনিধক লাভবান হচ্ছেন বাচ্চৃ মোল্যা। বাজারে এখন পালংশাকের চাহিদা খুব বেশী। আমিও আগামীতে পালংশাক চাষ করব।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, মমতাজ একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সবসময় কৃষিতে নতুনত্ব যোগ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর গ্রীস্মকালী টমেটো চাষ করে গাইবান্ধা জেলায় হৈইচই ফেলেছিলেন। চলতি মৌসুমে পালংশাক উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় ভাল টাকা আয় করছেন মমতাজ।

(এসআরডি/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৭ অক্টোবর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test