E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

দিনদিন মানচিত্র থেকে উধাও হচ্ছে কৃষি জমি, নিরব প্রশাসন!

২০২৪ ফেব্রুয়ারি ১০ ২৩:৫২:৪১
দিনদিন মানচিত্র থেকে উধাও হচ্ছে কৃষি জমি, নিরব প্রশাসন!

একে আজাদ, রাজবাড়ী : প্রধানমন্ত্রী বারবার কৃষি জমি রক্ষার তাগিদ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে না নিয়ে দিয়ে মাটি কাটার অনুমতি। ফলে দিন দিন রাজবাড়ীর জেলার বেশিরভাগ এলাকায় কমছে কৃষি জমি, নষ্ট হচ্ছে সড়ক।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে রাতে ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শতশত বিঘা কৃষি জমি, পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মানচিত্র থেকে উধাও করে দিচ্ছে কৃষি জমি। যদিও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে।এরপরও সেগুলো রক্ষা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টরা ভেকু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ২০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্ত করে কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ফসলি জমি চিরতরে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে। সেগুলো হয়ে যাচ্ছে জলাশয়। এভাবে গভীর গর্ত করায় পাশের কৃষি জমিও ভেঙে পড়ছে। ফলে কিছু কিছু জমির মালিক বেশি টাকার লোভে মাটি বিক্রি করলেও অনেকেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন।

গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় শত শত একর কৃষি জমি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে এসব মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। গভীর গর্ত করে মাটি কাটায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যা জলবায়ুর ওপর প্রভাব পড়বে। এভাবে কৃষি জমি নষ্ট করায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

এদিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর আবাসনের ফসলের মাঠের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় জেনেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও কোনো মাথা ব্যথা নেই। পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে কৃষি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহরপুর আবাসনের পাশে কৃষি জমি থেকে মাটি খননে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এর পাশে আমার ভুট্টা ক্ষেত।গত কাল বাড়ি এসে দেখি সেখানে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার পায়তারা চালাচ্ছে। আমি বাধা দিলে মাটি কাটা বন্ধ করে। কিন্তু ওরা তো প্রভাবশালী! আজ বন্ধ করছি কালকে হয়তো বাধ্য হয়েই কাটতে দিতে হবে!

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নাই।

(একে/এএস/ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test