Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

তেজগাঁও স্টেশনেও টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়

২০১৯ মে ২৫ ১৪:৩৩:০৫
তেজগাঁও স্টেশনেও টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। তাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনস্রোতে পরিণত না হলেও শুক্রবার রাত থেকে হঠাৎ পুরনো এ স্টেশনে মানুষের ভিড় বেড়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের নামফলকে জং ধরেছে। নেই যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। স্টেশনের আকারও খুব ছোট। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এখানে বিক্রি হচ্ছে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটের টিকিট। তাই হঠাৎ মানুষের ভিড় বেড়েছে। টিকিট কিনতে আসাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রায় ২০ বছর পরে আসলাম এখানে।’

পুরনো এ স্টেশনে শনিবার (২৫ মে) বিক্রি হচ্ছে ৩ জুনের টিকিট। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় এখানে। তখন বিপাকে পড়েন টিকিট কাটতে আসা যাত্রীরা। কারণ স্টেশনের ছোট্ট জায়গা ছেড়ে বাইরে পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের সারি। কেউ কেউ ছাতা মেলে ধরলেন মাথার ওপর। তবে বেশির ভাগের কাছেই ছিল না ছাতা। তাই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে হয় অনেকেই। তবে প্রকৃতি যেন সহায়, কিছুক্ষণ পরেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেমে যায়। তবে আকাশে মেঘ থেকেই যায়।

আগে কখনো তেজগাঁও স্টেশনে ঈদের টিকিট বিক্রি হয়েছিল কি না- জানা যায়নি। তবে স্টেশন মাস্টার এম এ আজিজের দাবি, ‘এ বছরই প্রথম ঈদে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তো সমস্যার সমাধান করা যায় না। আশা করছি, আগামী বছর এ সমস্যা থাকবে না।’

তেজগাঁওয়ে টিকিট কিনতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে শুক্রবার (২৪ মে) রাত থেকে টিকিটের জন্য স্টেশনে অবস্থান করছেন। আবার অনেকে সেহরি খেয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। সে জন্য তারা স্ব-উদ্যোগে সিরিয়ালের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে কেউ পরে এসে আগে টিকিট নিয়ে চলে যেতে না পারেন।

অনেকের দাবি ও আশঙ্কা, টিকিটের সারি অনেক লম্বা। সারির পেছনে যারা রয়েছেন তারা টিকিট নাও পেতে পারেন। তারা সবাই অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। অথচ ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে রয়ে গেছে। অ্যাপসের টিকিট অবিক্রিত থেকে যেতে পারে। সেগুলো কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রির দাবি তাদের। নাহলে সেসব টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমেও বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ভোর ৬টায় টিকিট কাটতে আসেন মো. রেজাউল করিম, ফয়সাল আহমেদ ও সাজ্জাদ হোসেন। তাদের বক্তব্য, আমাদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪টা টিকিট কাটতে পারেন। আমাদের সিরিয়াল ৩০০ এর উপরে। তাহলে কীভাবে টিকিট পাব? তারপরও আশায় দাঁড়িয়ে আছি।

তারা আরও বলেন, আমরা অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অ্যাপস ডাউন। তাই কাটতে পারিনি। অথচ অ্যাপসে ৫০ শতাংশ টিকিট দেয়া আছে। অ্যাপসের অধিকাংশ টিকিটই অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। যদি সেগুলো আবার কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেগুলো কালোবাজারিতে বিক্রি হবে। তাই আমরা বলব, যেহেতু অ্যাপস ডাউন, ওই ৫০ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হোক।

শুক্রবার রাতে স্টেশনে এসেছেন এমন একজন মো. আশরাফুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এ ব্যক্তি চারটা টিকিট কেটেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল আসরের নামাজের পর তেজগাঁও স্টেশনে আসি। আমার সিরিয়াল ছিল ৫৯ নম্বর। রাত ২টা পর্যন্ত সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এরপর ফার্মগেটে এক বন্ধুর বাসায় চলে যাই। সেখান থেকে সকাল ৮টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়াই। এইতো সাড়ে ১০টার দিকে টিকিট হাতে পেলাম।’

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হৃদয় হাসান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ময়মনসিংহের টিকিট কাটব। সকাল ৮টায় টিকিটের জন্য এসেছি। কিন্তু দুই ঘণ্টায় ১০ ফুট সামনেও এগোতে পারিনি।’

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার এম এ আজিজ বলেন, ‘আমি কাউন্টারে কথা বলেছি। তারা বলেছে, সার্ভারে কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবে টিকিট বিক্রি করতে যে সময়টুকু লাগে, সেটুকুই লাগছে।’ নারীদের চেয়ে পুরুষদের চাপ একটু বেশি বলেও জানান তিনি।

অনলাইনের টিকিট কাউন্টারে বিক্রির বিষয়ে এম এ আজিজ বলেন, ‘অনলাইনের বিষয়টি তো আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, যেসব টিকিট অবিক্রিত থাকবে সেগুলো ২৬ মের পর বিক্রি করা হবে। আশা করছি, কাউন্টারে আমরা যেভাবে নরমালি টিকিট বিক্রি করি, সেভাবেই হয়তো অনলাইনে অবিক্রিত টিকিটগুলো বিক্রি করতে পারব।’

শনিবার তেজগাঁও স্টেশনে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটের তিস্তা, অগ্নিবীণা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ৩ জুনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে এক সিরিয়ালে দেয়া হচ্ছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের টিকিট এবং অন্য সিরিয়ালে দেয়া হচ্ছে অগ্নিবীণা ও যমুনার টিকিট। আর ঈদ স্পেশাল দেয়া হচ্ছে দুই সারিতেই।

(ওএস/এসপি/মে ২৫, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test