E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের নামে তামাশা বন্ধ করুন : রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

২০২২ জানুয়ারি ১৮ ১৬:৫৪:৫৩
নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের নামে তামাশা বন্ধ করুন : রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

স্টাফ রিপোর্টার : নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের নামে সংশ্লিষ্ট দপ্তর রেলওয়ের শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যদের সাথে তামাশা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করেন রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, গত ২২ নভেম্বর ২০২০ রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনুমোদন হওয়ার পর থেকে নিয়োগ বিধিামালার বিভিন্ন বিষয়ের উপর রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি আপত্তি ও সংশোধনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন—সংগ্রাম করে আসছে। গত ২১ ডিসেম্বর ২০২১ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ৪৭ হাজার ৬৩৭ জন জনবল কাঠামোর জন্য নিয়োগ বিধিমালা হালনাগাদ/সংশোধন করার লক্ষ্যে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। যদিও কমিটি গঠন সঠিকভাবে হয়নি তারপরেও রেলওয়ে শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য একদিকে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন অন্যদিকে বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ বিতর্কিত নিয়োগ বিধিমালার মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অথচ ১৩ মাচ ২০১৯ সালে ৫৬ জন সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার নিয়োগের জন্য প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিয়োগ এখন পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়নি। পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা পত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি প্রত্যাশীদের আবেদন করার জন্য পত্র জারি করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা ও মেডিকেল সম্পন্ন হওয়া এবং বুকিং সহকারী ও গার্ডদের পদোন্নতি অদৃশ্য কারণে ঝুলে আছে।

তিনি বলেন, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করবে না। মূলত নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ কে জায়েজ করে নিতেই কমিটি গঠন একটি কৌশল। কারণ কারো কাছে তাদের জবাবদিহি নাই। অবস্থা দাঁড়িয়েছে ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০ এর মত সেই সময় রেলওয়ের যে খারাপ অবস্থা ছিল ঠিক একই পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। মনে হয় বর্তমান সরকারের সুনাম নষ্ট করতে কোন চক্র রেলওয়েকে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে তৎপর রয়েছে। কারণ নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কমিটি নয়, তারা আগামী এক বছরেও নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনে যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, পূর্বের বিভিন্ন পদে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রায় ১৮০০ জনবল নিয়োগ সম্পন্ন না করা, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের লক্ষ্যে কমিটি গঠন, সংশোধনের পূর্বেই আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পূর্বের পদোন্নতি ঝুলিয়ে রেখে নতুন করে পদোন্নতির জন্য পত্র জারি এই সব কিছুই দেখে মনে হচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয় রেলওয়ে শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যদের অধিকার নিয়ে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের নামে তামাশা করছে।

অনতিবিলম্বে এই তামাশা বন্ধ করে, রেলওয়ে নিয়োগ ব্যুরো পুনঃবহাল, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপককে প্রদান, পোষ্যর সংজ্ঞা, নিয়োগ পদ্ধতি, পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনসহ আন্দোলনকারীদের দাবিসমূহ মেনে নিয়ে রেলওয়ে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে জনবল নিয়োগ করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন এবং পূর্বে জারিকৃত জনবল নিয়োগের জন্য কোন প্রকার আইনী জটিলতা সৃষ্টি হলে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে সে দায় বহন করতে হবে।

(পিআর/এসপি/জানুয়ারি ১৮, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৬ মে ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test