E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

টাকার অভাবে চোখ হারাতে বসেছেন রংপুরের গৃহবধূ 

২০২১ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৬:৪৮:৩৪
টাকার অভাবে চোখ হারাতে বসেছেন রংপুরের গৃহবধূ 

মানিক সরকার মানিক, রংপুর : স্বামীর অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এক চোখ হারিয়ে অর্থাভাবে অপর চোখটিও হারাতে বসেছেন রংপুরের এক তরুণী গৃহবধূ। অপর ওই চোখটি রক্ষায় রংপুরের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা তাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল হাসপাতাল অথবা জাতীয় চক্ষু রোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আর এজন্য প্রয়োজন মাত্র এক লাখ টাকার। কিন্তু হত দরিদ্র ওই গৃহবধূর ভ্যান চালক পিতা শাহাদাত আলী, যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় তিনি কোথায় পাবেন মৃত হাতি সমান এই লাখ টাকা! ফলে ওই গৃহবধূ তার একমাত্র শিশু সন্তান এবং পিতার পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। আর তাই তারা অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেতে সরকারী-বেসরকারী কিংবা কোন বিত্তবান ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেছেন। আমরা কেউ কী পারি না আমাদের এই বোনটিকে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে ?  

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের ভ্যান চালক শাহাদাত আলী। তার ৩ মেয়ের মধ্যে আদরের ছোট মেয়ে শারমিন আখতারকে (২০) অনেক দেখে শুনে ৪ বছর আগে পার্শ্ববর্তী ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের আনিছুর রহমানের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেন। বিয়ের পরই স্বামী আনিছুর শারমীনকে নিয়ে গার্মেটন্সে চাকরির সুবাদে চলে যায় চট্রগ্রামে। কিন্তু সেখানে গিয়েই বিধিবাম ! কারণে অকারণে স্ত্রীর উপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। এরই এক পর্যায়ে কাঠের টুল দিয়ে প্রচন্ড আঘাত করে শারমিনের উপর। তাৎক্ষণিক আথাত পেলেও বুঝতে পারেনি তার ভবিষ্যতের ভাবনা। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে তার ডান চোখটি সংকুচিত হয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে আনিছুর তালাক দেয় শারমিনকে। শারমীন তখন দু’বছরের অন্তসত্বা হয়ে ফিরে আসে পিতৃগৃহে। তারপরই তার জীবনে নেমে আসে অমানিশা।

একদিকে নিজের চোখের সমস্যা, অন্যদিকে সন্তান জন্ম দেয়ার যাতনা। অবশেষে সন্তান জম্ম নেয়ার পরই মাথার আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ডান চোখটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শারমিন শরানণাপন্ন হয় রংপুরের দীপ আই কেয়ার ফাউন্ডেশনে। সেখানকার অরবিট এ্যান্ড আকুলো প্লাষ্টিক সার্জন কনসালটেন্ট আব্দুর রব তার সার্বিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তার মাথায় আঘাতের কারণে চোখে একটি টিউমার হয়। আর এ থেকেই ধীরে ধীরে নেমে আসে অন্ধকার। যা আর কোনভাবেই ভাল হবার নয়।

ওই চিকিৎসক আরও জানান, বর্তমানে তার বাম চোখটি রক্ষা করতে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল হাসপাতাল অথবা আগারগাঁও এর জাতীয় চক্ষু ইন্সটিিিটউটে অস্ত্রোপচার করা না হলে এ চোখটিও কর্মক্ষম হারিয়ে ফেলবে। এজন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ১ লাখ টাকার। এতে দিশেহারা শারমিন ও তার পরিবার।

এ অবস্থায় দিশেহারা ওই পরিবারের সদস্যরা সরকারী-বেসরকারী কিংবা কোন বিত্তবান ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের নম্বর ০১৭৫২-৯৯০৭৭২/০১৭১৫-১৩৮৫৬৫/০১৭৩৮০০৪৭৮৩।

(এসএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test