শামীম হাসান মিলন, চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহর পৌর এলাকার ভাদুনগরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শনিবার সকালে এক নবজাতক কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাটমোহর পৌর সদরের ভাদুনগরে অবস্থিত বন্ধন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ইতো পূর্বে এই ক্লিনিকে একাধিক প্রসূতি মারা গেলেও মোটা টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে আসছে।

ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনদের রোষানল থেকে বাঁচতে সটকে পড়েন চিকিৎসকরা। এরপর তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক মালিক ডা. আবদুল মজিদ স্বজনদের সাথে বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা চালান।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার হান্ডিয়াল বাজার এলাকার আবদুল মতিনের স্ত্রী সুমী পারভিনের (২৫) প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বজনরা তাকে বন্ধন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করেন। এসময় ক্লিনিকের মালিক ডা. আবদুল মজিদ রোগীর দ্রুত সিজার অপারেশন করতে হবে বলে জানিয়ে অপারেশন বাবদ সাড়ে ৯ হাজার টাকায় মিটমাট করে তাৎক্ষনিক ৩ হাজার টাকা জমা নেন। এরপর রাতে ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকায় সকালে অপারেশন করা হবে জানিয়ে সুমী খাতুনকে একটি ব্যাথার ইন্জেকশন দিয়ে রাখা হয়।

শনিবার সকাল ৬টার দিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজু আহমেদ ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকের এনেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. আসলাতুল রহমান আসিফ প্রসূতি সুমী খাতুনের সিজার অপারেশন করেন। এরপর প্রসুতি মা ও শিশুর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে সুমী’র স্বজনরা ক্লিনিকের অপারেশন কক্ষে প্রবেশ করে মৃত শিশু দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হলে স্থানীয় ডা. আসিফ প্রসুতির শ্বশুড় গোলাম মওলাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। হট্টগোল শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক থেকে বেড়িয়ে যান দুই চিকিৎসক।

এ বিষয়ে বন্ধন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকের মালিক ডা. আবদুল মজিদ বলেন, অপারেশনের পর একটি মৃত কন্যা শিশুর জন্ম হয়। স্বজনরা রোগীকে দেরী করে নিয়ে আসার কারণে অপারেশনের আগেই প্রসূতির গর্ভে শিশুটি মারা গিয়েছিল। তাদের কোন অবহেলা ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’ পরে স্বজনদের সাথে ‘মিটমাট’ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুমী খাতুনের স্বামী আবদুল মতিন দাবি করে বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে নবজাতক শিশুটি মারা গেছে। রাতেই ভর্তির পর পর অপারেশন করা হলে শিশুটি মারা যেত না। বারবার সিজার করার জন্য বললেও ক্লিনিকের কেউ পাত্তা দেয়নি। পরে অবহেলার বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে তার পিতাকে মারধর করা হয়।

এ ব্যাপারে ডা. রাজু আহমেদ বলেন, রোগীর এটা দ্বিতীয় সিজার। শুক্রবার সকালে ব্যথা উঠলেও স্বজনরা তাকে ভর্তি করে রাতে। ক্লিনিক মালিক আমাকে ফোন দিলে আমি বলেছিলাম যেহেতু দ্বিতীয় সিজারের রোগী, তাকে পাবনায় পাঠান। কিন্তু তিনি ব্যথার ইনজেকশন দিয়ে আমাকে সকালে গিয়ে অপারেশন করতে বলেন। অনেক অনুরোধে আমি শনিবার সকালে গিয়ে অপারেশন করার সময় দেখি রোগীর জরায়ু ছিঁড়ে গেছে, প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অপারেশনের পর মৃত শিশু পাওয়া যায়। পরে শুনেছি, রোগীর জন্য রক্ত আনতে বলায় তার শ্বশুড়ের সাথে ডা. আসিফের বাক বিতন্ডা হয়েছে। তবে রক্ত দেয়ার পর রোগী আশঙ্কামুক্ত।

(এসএইচএম/এসপি/জুলাই ২১, ২০১৮)