চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৪বছর পর কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের অধীনে থাকা বিভিন্ন তৃণমূল কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে নেতৃত্ব পেতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পদপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুবলীগ ও আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে দৌড় শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

উপজেলা যুবলীগের একাধিক সূত্রে জানিয়েছে, চলিত মাসের শেষের দিকে উপজেলা যুবলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবং কর্ণফুলী উপজেলার ইউনিয়ন ও ওর্য়াড সমূহে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করছেন। ফলে কর্ণফুলী যুবলীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শিগগিরই ৫টি ইউনিয়নে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হবে। এতে তৃণমূল সহ উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

তবে পুরাতন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনার বিষয় সবদিকে ঝড় ওঠেছে, কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে? সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যারা আসবেন তারা নেতৃত্ব ও চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী কিনা?

মাঠপর্যায় হতে জানা যায়, কর্ণফুলীতে সাংগঠনিক দিক দিয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ে আওয়ামী-যুবলীগ অনেকটা শক্তিশালী। কেন্দ্র ঘোষিত দলের বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে তাঁরা তা দেখিয়েছেন।

তথ্যসুত্রে, পুুর্বের কমিটি গুলোর মেয়াদ ছিল ২বছর কিন্তু ৪ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে কর্ণফুলী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের যুবলীগ। তবে এবার নতুন কমিটি গঠন হলে কর্ণফুলী যুবলীগ আরও চাঙ্গা হবে বলে তৃনমূল নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলার নেতাকর্মীরা প্রতিক্ষায় রয়েছেন, কারা আসছেন সরকার সমর্থিত যুব সংগঠনের নতুন কমিটিতে। তবে উপজেলা যুবলীগের তৃণমুল নেতারা জানান, সম্মেলনের মাধ্যমে যেন পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সম্মেলনের মুখ দেখেননি উপজেলা যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এবার তা দেখতে চান।

বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সমূহের তৃণমূল যুবলীগ কর্মীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদ পদে রয়েছেন চারপাথরঘাটা ইউনিয়নে সভাপতি পদে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক পদে মহি উদ্দিন মঞ্জু, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মালেক রানা, মোং সুমন।

এছাড়াও চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে সভাপতি পদে সাবেক ছাত্রনেতা লোকমান হাকিম, সাধারণ সম্পাদক পদে সিকান্দার মির্জা ও মোহাম্মদ আলম, শিকলবাহা ইউনিয়নে সভাপতি পদে মোঃ আমিন, মোক্তার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক পদে মামুনুর রশীদ, নুরুল আমিন।

চরলক্ষ্যায় সেকান্দর মির্জা, লোকমান হাকিম,ডাক্তার ইকবাল,আলমগীর আলম,জয়নাল আবেদীন, নবী মেম্বার ও জুলধা ইউনিয়নে সভাপতি পদে উপজেলা যুব লীগের সদস্য আলী আকবর, নুরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন জনি, বড়উঠানে মোহাম্মদ আলমগীরের নাম শোনা যাচ্ছে।

তৃণমূল যুবলীগ নেতাকর্মী জানান, যুবলীগকে আরও শক্তিশালী করতে হলে নতুন কমিটির বিকল্প নেই। তাই যারা মাঠে রাজনীতি করেন তাদের নিয়ে যেন কর্ণফুলীতে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবলীগ নেতা জানান, যুবলীগের কমিটি গঠনে একদিকে যেমন উপজেলা যুবলীগের গ্রুপিং কাজ করছে তেমনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কেননা পছন্দের প্রার্থীদের পদ পাইয়ে দিতে সবাই কমবেশি ব্যস্ত থাকবেন। তবে যারা মাঠের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় তাদের দিয়ে যেন কোন কমিটি গঠন না হয় সে আহ্বান জানান তারা।

কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সোলায়মান তালুকদার বলেন, “অতি শীঘ্রেই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের যুবলীগের কমিটি গঠন করা হবে। কেননা সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলকে বিজয়ী করতে হলে, মাঠে নেতাকর্মী দরকার”।

তিনি আরো বলেন, “যারা বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাসী ও আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিজয়কে সুনিশ্চিত করতে পারবে তেমন সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব তৈরী করা হবে”।

(জেজে/এসপি/জুলাই ২৪, ২০১৮)