স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফার নতুন র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের প্রভাব পড়েছে। ব্রাজিল এক মাসব্যাপী বিশ্ব ফুটবলের মিলনমেলায় সফলরাই র্যাঙ্কিংয়ে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রাখা কিছু দল বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে পিছিয়ে পড়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত নতুন র্যাঙ্কিংয়ের শিরোপা জয়ী জার্মানি আছে শীর্ষে। অপর ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনার অবস্থান দ্বিতীয়। দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থান ধরে রাখা স্পেন পিছিয়ে গেছে কয়েক ধাপ। পিছিয়েছে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। এদিকে নতুন র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬৩ নম্বরে।

দুই যুগ পর বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে জার্মানি। সেই সুবাদে জোয়াকিম লোর দল দুই দশকের মধ্যে প্রথম ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে র্যাঙ্কিংয়ে আধিপত্য ধরে রাখা স্পেন ছিটকে পড়েছে সেরা পাঁচেরও বাইরে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে চারটি দলকে শুরু থেকে ফেভারিট ধরা হচ্ছিল। যার মধ্যে ইউরোপের দুটি ও দক্ষিণ আমেরিকার দুটি দল ছিল। সেরা চার তিনটি সেমিফাইনালে খেলে। ফেভারিটের তালিকায় থাকা গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন সবচেয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একটি মাত্র জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে দলটি। গতবারের অপর ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস সেমিফাইনালে হেরে যায় আর্জেন্টিনার কাছে। আর শেষ চারে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি যায় ফাইনালে। ইউরো-ল্যাটিন ফাইনালে শেষ পর্যন্ত মেসিদের কাঁদিয়ে শিরোপা তুলে নেয় ইউরোপিয়ানরা।
আর্জেন্টিনা শুরু থেকে কিছুটা শ্লথ গতিতে খেললেও জার্মানির যাত্রা ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে ঘানার সঙ্গে একটি ম্যাচ ড্র করলেও সার্বিকভাবে সেরা দল হিসেবেই শিরোপা জিতে জার্মানি। বিশ্বকাপে যেমন সেরা দলের স্বীকৃতি পেয়েছে, র্যাঙ্কিংয়েও তেমনি উঠে আসে সবার ওপরে। আর্জেন্টিনা গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত প্রত্যেক ম্যাচ জিতেছে। ফাইনালেও যথেষ্ট শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তার স্বীকৃতিটা র্যাঙ্কিংয়ে মিলেছে। তিন ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে দুইবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে তৃতীয় স্থানও। ব্রাজিলে দারুণ খেললেও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে সেমিতে হেরে যায় নেদারল্যান্ডস। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিলকে হারায় ডাচরা। সেই সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন পার্সি-রোবেনরা। তারা এগিয়েছে ১২ ধাপ। তবে অপর সেমিফাইনালিস্ট ব্রাজিল সেরা পাঁচে স্থান পায়নি। সেমিতে বড় ব্যবধানে হারটাই তাদের পিছিয়ে দিয়েছে। কোয়ার্টারে ব্রাজিলের কাছে হেরে যাওয়া কলম্বিয়া উঠে আসে চার নম্বরে। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ এগিয়েছে গোল্ডেন বুট জয়ী হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়া।
কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়া বেলজিয়াম আছে পাঁচ নম্বরে। দলটি এগিয়েছে ছয় ধাপ। দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়ার কাছে হেরে বাদ পড়া উরুগুয়ে আছে ছয় নম্বরে। তাদের উন্নতি হয়েছে এক ধাপ। চার ধাপ পিছিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিলের স্থান হয়েছে সাত নম্বরে। শীর্ষস্থানে থাকা গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের জায়গা হয়েছে আট নম্বরে। দীর্ঘ সময় তালিকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছিল দলটি। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও চিলির কাছে হেরে বিদায়ে সেই অবস্থান খুইয়েছে তারা। একবারে পিছিয়ে গেছে সাত ধাপ। তিন ধাপ পিছিয়ে সুইজারল্যান্ড আছে নয় নম্বরে। আর সাত ধাপ এগিয়ে ১০ নম্বরে উঠে আসে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে হেরে যায়। ১৯৯৬ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ইতালি ও উরুগুয়ের সঙ্গে হার এবং কোস্টারিকার সঙ্গে ড্র করে বিদায় নেয় ইংলিশরা। সেই সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২০ নম্বরে।
কনকাকাফ অঞ্চলের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নকআউট পর্বে খেলা যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অবস্থান ১৫ নম্বরে। একই অঞ্চল থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা কোস্টারিকা আছে তার একধাপ পেছনে। আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে সবার ওপরে আছে আলজেরিয়া। তাদের অবস্থান ২৪ নম্বরে। দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডে জার্মানির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে হেরে যায়। তবে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম গ্রুপের গণ্ডি পেরিয়ে চমক দেখায়। দিদিয়ের দ্রগবা ও ইয়া ইয়া তোরের আইভরিকোস্ট আছে তার পরই। আর আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়ার স্থান হয়েছে ৩৪ নম্বরে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর হতাশাজনক পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়েও। এ অঞ্চল থেকে সবার ওপরে ৪৫ নম্বরে আছে জাপান।

(ওএস/এইচআর/জুলাই ১৮, ২০১৪)