রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর আর্থিক সহযোগিতায় বোরো চাষে পর্যাক্রমে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি পানি সাশ্রয় অল্টারনেটয়েটিং এন্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) নামে নতুন এই প্রযুক্তি জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এই প্রযুক্তিতে একদিকে যেমন কৃষকের সেচ খরচ কমছে অন্যদিকে কৃষকের বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আর্শীবাদ হয়ে এসেছে।

এ বছর রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ২০০ হেক্টের জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী ব্লকের কয়েকটি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি পানি সাশ্রয় অল্টারনেটয়েটিং এন্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা সুফল পেয়েছে। এ পদ্ধতি দেখে কৃষকরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

২৫মে শনিবার রাজারহাট উপজেলার মেকুরটারী ব্লকের হাড়িডাঙ্গা ও দুর্গাচরন গ্রামের বোরো ধান ক্ষেতে এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কৃষক কিশোরী মোহন, পরেশ চন্দ্র, মোবারক হোসেন সাথে কথা বলে জানা যায়, ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দিলদার হোসেন এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে সম্মত হয়ে কুড়িগ্রাম সলিডারিটি থেকে বিনামূল্যে এ প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে জমিতে সেচ দেয়।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ দিলদার হোসেন জানান, বোরো ধানের পানির সমস্যা সমাধানে এডব্লিউডি প্রযুক্তি অভাবনীয় সফলতা এনেছে। বিনা কারণে অপ্রয়োজনে বোরো পানিতে সেচ দেওয়ার দরকার নেই। বোরো চাষের জমিতে মাটির পাইপের পানি ৬ ইঞ্চির নিচে চলে গেলে তবে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এতে করে কয়েকদিন পরপর জমিতে পানি দেওয়া হয়, অতিরিক্ত পানি সেচ দিতে হয় না। জমিতে পানি ঢুকিয়ে রাখলে ধানের জমিতে খাদ্য ঘাটতি বিশেষতঃ জিংক ও সালফার ঘাটতি হয়। এ ছাড়া মাটিতে বাতাস, অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না।

তিনি আরো জানান, এডব্লিউডি প্রযুক্তিতে খরচ কম। জমিতে মাত্র ১ ফুট লম্বা ১ টুকরা প্লাষ্টিক পাইপের ৬ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত অংশটুকু খাড়াভাবে মাটির মধ্যে পুতে রেখে ,পাইপের মাধ্যমে পানির উপস্থিতি দেখে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতিতে জমিতে পানি দেন অর্থ্যাৎ পানি সাশ্রয়ী (এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে সেচ দেয়া সহজ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বোরো ধানের জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া দরকার। তাতে সেচ ব্যয় কমবে এবং পানির সদ্বব্যবহার হবে। একবার ভিজানো একবার শুকানোর কারণে মাটির উপরিভাগে সূক্ষ্ম ফাটলের সৃষ্টি হয়। এতে শিকড় বৃদ্ধি পায় ও নতুন শিকড় গজাতে সহায়তা করে। ফলে ফসলের খাদ্য গ্রহনের বৃদ্ধি পায় এবং ফলবান কুশির সংখ্যা বেশী হয়। এ সবের সম্মিলিত প্রভাবে ফলন বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ এক যাত্রায় দ্বৈত লাভ একদিকে সেচের পানি ও সেচ খরচ কমে, অন্যদিকে ফলনও বাড়ে। তাই পর্যাক্রমে রাজারহাট উপজেলার ৭ ইউপিতে এডব্লিউডি প্রযুক্তি সম্প্রসারিত করা হবে।

(পিএমএস/এসপি/মে ২৫, ২০১৯)