বিশেষ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের অন্তর্গত ৯৭নং বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমেন্দ্র চন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান শামীমের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা সহ অনেক অভিযোগ তুলেছেন ওই বিদ্যালয়ের স্থানদাত প্রতিষ্ঠাতা ও ছাত্র অভিভাবকগণ।

সহকারী শিক্ষক শামীমের নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়ের স্থানদাতা প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা হেমেন্দ্র চন্দ্র সরকার সহ ৮০ জন অভিভাবক। ছাত্র অভিভাবক গণের মধ্যে মাসুদ, লিটন, সুজন, লালচান, মেনু মিয়া, জয়নাল, আবুল, নয়ন, মোজাম্মেল, মুসলেম, জুয়েল, হারুন, সোহেল, মাজেদ, আলামিন, সাইদুল, তৌহিদ, হাসেম, সুলতান ও স্থানদাতা প্রতিষ্ঠাতা সহ ৮০ জনের স্বাক্ষরীত অভিযোগে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান শামীমের নিজ বাড়ি বারইকান্দা গ্রামে। একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না।

তারা বলেন, কামরুল হাসান শামীমের আপন ফুফাতো ভাই ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে আছেন। প্রধান শিক্ষকের আপন মামাতো ভাই কামরুল বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে কর্তব্য কাজে অবহেলা করলেও খাতা পত্রে তিন দিনের স্বাক্ষরও একদিনে করে থাকেন। কামরুল হাসান সহকারী শিক্ষকের কর্তব্যে ফাঁকি দিয়ে আইডিয়াল চাইল্ড স্কুল ও কোচিং বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

এছাড়া তিনি নানা প্রকার ব্যবসার সঙ্গে ও জড়িত। অতি সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও কতিপয় সদস্যদের পক্ষ নিয়ে গ্রামে সৃষ্টি করেছেন চরম বিশৃংখলা। ইতি পূর্বে তিনি কাছিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে প্রশাসনিক বদলি করা হয়েছিল।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনার কলি নাজনীন বলেন, সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে স্থানদাতা ও অভিভাবকদের অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার নিকট পাঠিয়েছেন। সুষ্ঠ তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যপারে কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।

(এসবি/এসপি/অক্টোবর ৩০, ২০১৯)